img

৯৯৯-এ কলের পর কমলগঞ্জের হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ১০ শিক্ষার্থী উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৯:৫৪, ২০ জুলাই ২০২৬

৯৯৯-এ কলের পর কমলগঞ্জের হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ১০ শিক্ষার্থী উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহায়তা করেন। আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা সুস্থ রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে ১০ সদস্যের একটি দল হামহাম জলপ্রপাত ভ্রমণে আসে। তারা সবাই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। জলপ্রপাতে যাওয়ার পথে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দলের এক সদস্য পিছলে পড়ে হাতে আঘাত পান। আহত সহযাত্রীকে নিয়ে দুর্গম পথ পেরিয়ে ফিরে আসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানতে পারে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানের পর বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে আটকে পড়া ১০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য শিক্ষার্থীরা সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামহামের মতো দুর্গম পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছে তারা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

ভারী বৃষ্টিতে সিলেট-নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

প্রকাশিত :  ১১:১৪, ২০ জুলাই ২০২৬

দেশের তিনটি নদীর চারটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

আজ সোমবার (২০ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ), সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে, যদিও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিন উভয় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় এসব নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, যদিও পদ্মার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু এলাকায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সাঙ্গু, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সিলেটের খবর এর আরও খবর