img

শ্রীমঙ্গলে শুরু হলো বই পড়া উৎসব, অংশ নিচ্ছে ২৫ হাজারের বেশি পাঠক

প্রকাশিত :  ১৪:৪২, ২১ জুলাই ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে শুরু হলো বই পড়া উৎসব, অংশ নিচ্ছে ২৫ হাজারের বেশি পাঠক

সংগ্রাম দত্ত: মুঠোফোননির্ভর প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে ‘বই পড়া উৎসব-২০২৬’। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উন্মুক্ত বিভাগে যেকোনো বয়সী বইপ্রেমী অংশ নিতে পারবেন।

 মঙ্গলবার (২১ জুলাই ) সকাল ১০টায় শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন।

শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন, ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী এবং নটর ডেম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার প্রশান্ত নিকোলাস ডি ক্রুজ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা জানান, এবারের উৎসবে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং উন্মুক্ত বিভাগ মিলিয়ে ২৫ হাজারের বেশি প্রতিযোগী অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উৎসবটি চারটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘ক’ বিভাগে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি, ‘খ’ বিভাগে নবম ও দশম শ্রেণি, ‘গ’ বিভাগে একাদশ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং ‘ঘ’ বিভাগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা শ্রীমঙ্গলের যেকোনো বয়সী বইপ্রেমী অংশ নিতে পারবেন।

প্রতিযোগিতা হবে তিন ধাপে—‘মুকুল’, ‘ফুল’ ও ‘ফল’। প্রতিটি ধাপে প্রতিযোগীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে নির্ধারিত গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য বই পড়তে হবে। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে। একটি ধাপে সফলভাবে উত্তীর্ণ হলেই পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন প্রতিযোগীরা।

প্রথম ধাপ ‘মুকুল’-এর জন্য বিভিন্ন শ্রেণির উপযোগী করে মোট ১৫টি বই নির্ধারণ করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলের ৩৮টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এসব বই পড়ার পর আগামী ৩ আগস্ট লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল’-এ অংশগ্রহণকারীদের নতুন একটি বই পড়ে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ ‘ফল’-এ উপজেলা পর্যায়ে আরও একটি নতুন বইয়ের ওপর মূল্যায়নে অংশ নেবেন। ফলে পুরো উৎসবের তিন ধাপে একজন প্রতিযোগীকে তিনটি পৃথক বই পড়তে হবে।

প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ উন্মুক্ত বিভাগ। এই বিভাগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা শ্রীমঙ্গলের যেকোনো বয়সী বইপ্রেমী অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

আয়োজকদের ভাষ্য, ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং বইকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

বই পড়া উৎসবের সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব। পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ, শ্রীমঙ্গল।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

৯৯৯-এ কলের পর কমলগঞ্জের হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ১০ শিক্ষার্থী উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৯:৫৪, ২০ জুলাই ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাতে আটকে পড়া ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১০ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। উদ্ধারকাজে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহায়তা করেন। আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা সুস্থ রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে ১০ সদস্যের একটি দল হামহাম জলপ্রপাত ভ্রমণে আসে। তারা সবাই ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। জলপ্রপাতে যাওয়ার পথে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দলের এক সদস্য পিছলে পড়ে হাতে আঘাত পান। আহত সহযাত্রীকে নিয়ে দুর্গম পথ পেরিয়ে ফিরে আসা সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিকেল ৩টার দিকে বিষয়টি জানতে পারে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানের পর বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে আটকে পড়া ১০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য শিক্ষার্থীরা সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামহামের মতো দুর্গম পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করারও পরামর্শ দিয়েছে তারা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর