স্পেনের সেউতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টায় নিহত ১৯, সেনা পাঠানোর ঘোষণা
মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের স্বশাসিত ভূখণ্ড সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর একযোগে প্রবেশের চেষ্টার পর সেখানে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন সরকার। সীমান্তের বেড়া টপকে এবং সমুদ্রপথে সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদের কাছে সেনাসহ অতিরিক্ত নিরাপত্তা সহায়তা চায়। এর পরই কেন্দ্রীয় সরকার সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। শুক্রবার সেউতা সফর করার কথা রয়েছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
সেউতায় দায়িত্ব পালনকারী স্প্যানিশ সিভিল গার্ড অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান রশীদ সেবিহি বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মরক্কোর বিপুলসংখ্যক তরুণের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও তারাজাল সৈকত দিয়ে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
সেউতার প্রশাসন জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। সমুদ্রে কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে বলেও নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার পর ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সীমান্তে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না—স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এমন একটি রায়ের পর থেকেই সেউতা সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মরক্কোর ফেনাইদেক এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সমুদ্রপথ সাঁতরে কিংবা স্থলসীমান্ত অতিক্রম করে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করছেন অভিবাসীরা।
এর আগে ২০২১ সালেও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মাত্র দুই দিনে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করলে বড় ধরনের সীমান্ত সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স



















