img

কমলগঞ্জে সিঁড়ির নিচে পাঁচ মনোক্লেড কোবরা, আতঙ্কে পরিবার

প্রকাশিত :  ১৩:২৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কমলগঞ্জে সিঁড়ির নিচে পাঁচ মনোক্লেড কোবরা, আতঙ্কে পরিবার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা শহরে একটি বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে পাঁচটি মনোক্লেড কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলা শহরের মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাপানি বাড়ি মুজাহিদ মঞ্জিলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাপানপ্রবাসী মুজাহিদ আলীর বাড়ির সিঁড়ির নিচে বেশ কয়েকটি সাপ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষধর সাপের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় বিষয়টি রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমদ এবং বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভীর আহমদ, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। তাঁরা সিঁড়ির নিচে তল্লাশি চালিয়ে দেখতে পান, সেখানে থাকা সাপগুলো মনোক্লেড কোবরা। পরে একে একে পাঁচটি কোবরা সাপের বাচ্চা নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা সাপগুলো শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সাপগুলোকে পরে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।

মনোক্লেড কোবরা অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ। বসতঘরের সিঁড়ির নিচে একসঙ্গে পাঁচটি সাপের বাচ্চা পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ওই পরিবারের মধ্যে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় লোকালয়ে একের পর এক বিষধর সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনা ঘটছে। গত আগস্ট মাসেই বিষধর শঙ্খিনী ও বড় আকারের অজগরসহ প্রায় ১৭টি সাপ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার চারপাশে রয়েছে হাওর, ঝোপঝাড়, পাহাড়-টিলা, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান। পাশাপাশি দুই উপজেলার বিস্তীর্ণ বনভূমির বিভিন্ন অংশে জনবসতি, রিসোর্ট ও নানা ধরনের বাগান গড়ে ওঠায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। এর সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকটও। ফলে বনাঞ্চলের প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে ক্রমেই লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসার খবর পেলেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জীবিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, লোকালয়ে সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও বিপজ্জনক। বনাঞ্চলে তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করা কঠিন। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা ও বনভূমির ওপর চাপ কমানোই এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলে মনে করছেন তাঁরা।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সুনামগঞ্জের ৩ যুবককে কাশ্মীরে পাচার করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৪:২৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের কাশ্মীরে কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নিখোঁজ তিন যুবক হলেন—ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন।

গত ২৮ জুলাই ওই তিন যুবককে ছাতকের নিজ বাড়ি থেকে ভারতের কাশ্মীরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কাশ্মীরে নেওয়ার পর তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিমের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত মাসের শেষ দিকে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। সোমবার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ ছাড়া তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গে দেখা করে আটক তিন যুবককে মুক্ত করতে সহযোগিতা চেয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, তিন যুবকই দিনমজুর। তারা এলাকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্তরা একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পূর্বপরিচয়ের সুবাদে তাদের ভারতের কাশ্মীরে কাজ দেওয়ার কথা বলেন। পরে আলাপ-আলোচনা করে গত ২৮ জুলাই ওই তিন যুবককে বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার এক সপ্তাহ পর ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম যুবকদের স্বজনদের জানান, তারা কারাগারে আছেন। তাদের কারাগার থেকে বের করতে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। স্বজনরা তাদের মুক্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কথামতো টাকা না দেওয়ায় একপর্যায়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে সোহেল, আয়াছ আলী ও আলা উদ্দিনকে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। ভারতে যাওয়ার পর প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অভিযোগকারী সামতেরা বেগম জানান, নিখোঁজ তিন যুবককে আটকে রেখে তাদের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, তার ছেলে ফাহিম ভারতে রয়েছে। বর্তমানে তিনিও ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, সৈদেরগাঁও গ্রামের তিন যুবককে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি একজন কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। অভিযোগটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর