img

ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান

প্রকাশিত :  ০৭:০৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত: ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান

ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে ৫ লাখেরও বেশি রুশ সেনা নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নাইটনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে এই প্রাণহানিযুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা স্টাফের প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার মোট সেনা হতাহতের সংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্যের এই হিসাব ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ।

বড় সেনাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনে হিমশিম খাচ্ছে রাশিয়া। পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রুশ সশস্ত্র বাহিনী বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারিয়েছে বলে জানান নাইটন। তার হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়া ১০ হাজারের বেশি সাঁজোয়া ও সুরক্ষিত যান, প্রায় ৩ হাজার আকাশ প্রতিরক্ষা ও কামান ব্যবস্থা এবং ৩৭০টির বেশি উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে।

তবে ইউক্রেনের কত সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো হিসাব দেননি নাইটন। মস্কো ও কিয়েভের কোনো পক্ষই নিয়মিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের হতাহতের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।

এদিকে শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কিয়েভের সড়কপাশের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করতে মস্কো তাদের বিমান হামলার পরিধি বাড়িয়েছে।

কিয়েভে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি উক্রনাফতার দুটি স্টেশনে হামলা হয়। এর একটিতে দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউটর কার্যালয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের শহরাঞ্চলের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে রুশ হামলা বেড়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের সম্মুখসারির কাছাকাছি অঞ্চলে এসব হামলা বেশি হচ্ছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, বেসামরিক জীবন ব্যাহত ও মানুষের মনোবল দুর্বল করার বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রেও হামলা রয়েছে, যার ফলে কিয়েভের কিছু সুপারমার্কেটের তাক মাঝে মাঝে খালি হয়ে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে এমন জায়গাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে যেখানে মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে যায়। এর উদ্দেশ্য হতাহতের সংখ্যা বাড়ানো, আতঙ্ক ছড়ানো এবং ইউক্রেনীয় সমাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে জ্বালানি স্টেশনসহ খোলা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে অবস্থান না করতে বাসিন্দাদের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার আগ্রাসন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করায় ইউক্রেন জরুরি ভিত্তিতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার কানাডার কাছ থেকেও আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে কিয়েভ।

অন্যদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালানোর অভিযানও জোরদার করেছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, সাইবেরিয়ায় ৩ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে তারা। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করাই এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য। ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকটও তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার গবেষণা কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য রপ্তানি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে মস্কো দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি করছে।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার জানায়, রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতায় ইউক্রেনীয় হামলার কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলজাত পণ্য রপ্তানিকারক রাশিয়া এখন জ্বালানি আমদানি শুরু করেছে। আগস্টে দেশটির জ্বালানি আমদানি বেড়ে ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা আগের মাসিক সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেন বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলের পাশাপাশি দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং আজভ ও ক্যাস্পিয়ান সাগরের ওপর ৭৭৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

মস্কোর দক্ষিণে তুলা অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন বলে শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সারাতভে একটি তেল শোধনাগারে রাতের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে রুশ স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম আস্ত্রা। ইউক্রেন এর আগেও একাধিকবার ওই শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ গত আগস্টের শুরুতে সেখানে হামলা হয়েছিল।

সারাতভ শহরের একটি লজিস্টিকস স্থাপনাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোন। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওজোনের প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাতেও এর আগে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাতভর দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার আটটি অঞ্চলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে সারাতভ অঞ্চলের একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ও তেল শিল্পের একটি স্থাপনাও রয়েছে।

শুক্রবার এক্সে জেলেনস্কি বলেন, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার রাশিয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া।

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতির জড়তা ভেঙেছেন মিলিব্যান্ড

প্রকাশিত :  ০৬:৩৯, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে কয়েক দশক ধরে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও এতদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যুক্তরাজ্য। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড দীর্ঘদিনের এই নীতিগত জড়তা কাটিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করছে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বছরের পর বছর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে প্রায় একই ধরনের উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে আসছিলেন। এমনকি কয়েকজন সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রীও পরে স্বীকার করেছেন, এসব বিবৃতি বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আনেনি।

সাবেক মন্ত্রী অ্যালান ডানকান একসময় বসতি প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে দুর্বল ও সরল বলে মন্তব্য করেছিলেন। আরেক সাবেক মন্ত্রী অ্যালিস্টেয়ার বার্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, কীভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিয়েই নিন্দা জানানোর নতুন নতুন কূটনৈতিক ভাষা খুঁজে বের করে।

দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি ইসরায়েলের অনাগ্রহ বাড়তে থাকলেও বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে ব্রিটেন এত দিন কার্যকর নীতি নিতে পারেনি। ১৯৬৭ সালের পর ইসরায়েলি প্রশাসনের অধীনে চলে যাওয়া ভূখণ্ড থেকে আসা পণ্যে যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা ছিল না। ব্যবসায়ীদেরও বসতি এলাকায় বাণিজ্য না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করেছে।

এসব বিষয়ে আইনি জটিলতাও ছিল। যুক্তরাজ্যের প্রচলিত নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও শুধু ইসরায়েলি বসতি নির্মাণে কাজ করার কারণে কোনো ঠিকাদারকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা যেত না।

এই নৈতিক ও আইনি জটিলতার মধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন মিলিব্যান্ড, যিনি নিজেও একজন ইহুদি। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি বলেন, আরও মানুষের দুর্ভোগ এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংসের প্রক্রিয়ার সামনে যুক্তরাজ্য নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।

মিলিব্যান্ডের অবস্থানের পেছনে তার ব্যক্তিগত ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে ক করা হচ্ছে। তার মা ম্যারিয়ন কোজাক ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হলোকাস্ট তথা ইহুদি নিধন থেকে বেঁচে যাওয়া একজন নারী, যিনি পরে ইসরায়েলে চলে যান। ফলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে বেড়ে ওঠা এবং ইহুদিবিদ্বেষের শিকার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা মিলিব্যান্ডকে ইসরায়েলের একজন ‘সমালোচনামূলক বন্ধু’ হিসেবে কথা বলার বিশেষ অবস্থান দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ব্রিটিশ লেবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষে আক্রান্ত’ হওয়ার অভিযোগ তুললেও মিলিব্যান্ডের অবস্থান ভিন্ন। তার যুক্তি, ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং পূর্ণাঙ্গ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান।

মিলিব্যান্ড আরও বলেছেন, ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো ইহুদি জনগোষ্ঠীকে দায়ী করা ইহুদিবিদ্বেষেরই একটি রূপ।

পশ্চিম তীরে চলমান পরিস্থিতিকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে বর্ণনা করা প্রথম ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ড। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে এমন কর্মকাণ্ডে চোখ বন্ধ রাখার অভিযোগও তুলেছেন।

২০২৪ সালের জুনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে বেআইনি বলে যে পরামর্শমূলক মতামত দিয়েছিল, সেটির বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের দীর্ঘ বিলম্বেরও অবসান ঘটান মিলিব্যান্ড। তিনি স্বীকার করেন, শুধু বসতি নয়, পুরো দখলদারিত্বই আইসিজের মতামতে বেআইনি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই অবস্থান যুক্তরাজ্যের ওপর দখলদারিত্বে সহায়তা না করার আরও শক্তিশালী দায় তৈরি করতে পারে। এ কারণেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় অবৈধ বসতিগুলোর জন্য বিমা সরবরাহের মতো কিছু সেবাও রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দ্য গার্ডিয়ান দেখছে ফ্রান্স ও কানাডাকে একই ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় যুক্ত করার উদ্যোগকে। এতে ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিচ্ছিন্নতাও আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তবে মিলিব্যান্ডের উদ্যোগের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বলে মনে করে দ্য গার্ডিয়ান। গাজায় গণহত্যা হয়েছে কি না, সে সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আদালতের ওপরই ছেড়ে দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। একইভাবে গাজায় জাতিগত নিধনের বিষয়ে প্রমাণ বাড়লেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থেকে রক্ষার জন্যও ব্রিটেন কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

এ ছাড়া ইসরায়েলের কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রেও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ বিক্রির ক্ষেত্রে একটি ছাড় বহাল রয়েছে। মিলিব্যান্ডের যুক্তি, এসব যুদ্ধবিমান দখলদারিত্বে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করে ন।

মিলিব্যান্ড বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস বা বিডিএস আন্দোলনেরও সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই আন্দোলন পুরো ইসরায়েলি অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে, শুধু দখলকৃত অঞ্চলকে নয়।

দ্য গার্ডিয়ানের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নে প্রায় নয় মাস সময় লাগতে পারে। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর নিষেধাজ্ঞা আরোপের তুলনায় এটিও ধীরগতির।

তবু সাবেক মন্ত্রী অ্যালান ডানকান ভলেন, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসের মুখে ব্রিটিশ সরকারের এমন পদক্ষেপ নজিরবিহীন নৈতিক সাহসের পরিচয় দিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ, এই নীতির কারণে হোয়াইট হাউস থেকে পাল্টা চাপ আসার ঝুঁকি রয়েছে। তবে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের পর ট্রাম্প প্রশাসন নিজেই রাজনৈতিক জটিলতায় আটকে থাকায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে কতটা দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার পর মিলিব্যান্ড ঝুঁকি নিয়েছেন। যখন গাজায় বিপুল প্রাণহানি ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান যখন চরম সংকটে, তখন এমন ঝুঁকি নেওয়ার সময়ই হয়তো এসেছে।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর