সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত, জ্বালানি মূল্য নিয়ে সতর্ক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড
যুক্তরাজ্যে মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। টানা ষষ্ঠবারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির মুদ্রানীতি কমিটি। তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারেও। বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম, যার ফলে মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়ছে চাপ।
এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি মূল সুদের হার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকটির এই হার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংক ও ঋণদাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্ক হিসেবে কাজ করে। এর ওপর ভিত্তি করে ঋণ ও সঞ্চয়ের সুদের হার নির্ধারণে প্রভাব পড়ে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে দেশটির মূল্যস্ফীতি এই লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। আগস্টে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন পূর্বাভাসে ব্যাংকটি জানিয়েছে, আগামী বছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের সামান্য ওপরে উঠতে পারে। একই সময়ে জানুয়ারিতে পরিবারগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুতের বিলের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপ’ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে স্পষ্ট। তবে জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় পণ্য ও সেবার অন্যান্য দামে কতটা ছড়িয়ে পড়বে, তা এখনো মূল্যায়ন করছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের বন্ড বিক্রির গতিও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ব্যয় কিছুটা কমেছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানির মূল্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—এই তিনটি বিষয় এখন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতির অন্যতম প্রধান বিবেচনা। আগামীতে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি ও জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতির ওপরই সুদের হারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকাংশে নির্ভর করবে।



















