img

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৬:৩৪, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে স্নায়ুযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দ্বীপটির পূর্ব উপকূলে থাকা আরেকটি ঘাঁটিতেও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ঘাঁটিটি ডেনমার্কের ডগ স্লেড প্যাট্রোল ইউনিট ব্যবহার করছে, যারা কুকুরের টানা স্লেজের মাধ্যমে টহল পরিচালনা করে।

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি চুক্তির আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। 

দুটি সূত্র জানায়, ওই দুটি জায়গা হলো নারসারসুয়াক ও মেস্টারসভিগ। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান নামের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে নারসারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে আসে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ ঘাঁটিটি বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোল ব্যবহার করে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে স্থানীয় সময় আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের এ নতুন চুক্তিতে সই করার কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র জানায়, সই হওয়ার আগপর্যন্ত চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। হোয়াইট হাউস থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডেনমার্কের ভাষ্য, এ চুক্তির ফলে উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ওপর থাকবে না; বরং তা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সার্বিক নজরদারির আওতায় আসবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের অব্যাহত চাপের পর এ সমঝোতা হচ্ছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা বহু আগেই প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এমনকি এ অঞ্চল দখল করে নিতে তিনি সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও কখনো উড়িয়ে দেননি।

সংকট কাটাতে এবং চাপ কমাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ও ১০ হাজারের বেশি সেনা ছিল। বর্তমানে সেখানে শুধু পিটুফিক স্পেস ঘাঁটি চালু আছে। এতে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা কর্মরত রয়েছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের আকাশে আবারও রহস্যময় আলো, ৫০ বছর আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তি?

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 ইরানের রাজধানী তেহরান প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এক ইউএফও দর্শনের ঘটনা দিয়ে আলোচনায় এসেছিল। সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও রাতের আকাশে রহস্যময় এক বস্তু দেখা গেছে তেহরানে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উজ্জ্বল আলোকিত একটি বস্তু তেহরানের আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে অথবা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

এই ভিডিও ঘিরে পরিচিত এক প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে—এটা কি ইউএফও, ড্রোন, বিমান, নাকি আরও সাধারণ কিছু? এখন পর্যন্ত এর কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ভিডিওতে ধারণ করা বস্তুটি আসলে কী, তা এখনো প্রকাশ্যে জানায়নি ইরানের কর্তৃপক্ষ।

তেহরানের ১৯৭৬ সালের ইউএফও রহস্য

সময়টা এই রহস্যকে আরও গভীর করে তুলেছে। ১৯৭৬ সালেও এই সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখই তেহরানের আকাশে এক আকাশযান সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। সেটি পরে নথিভুক্তও হয়েছে। তার প্রায় পঞ্চাশ বছর পর সামনে এলো এই নতুন ফুটেজ।

সেই ঘটনার শুরু হয়েছিল শেমিরান এলাকার বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য থেকে। তারা জানিয়েছিলেন আকাশে অদ্ভুত এক উজ্জ্বল বস্তু দেখেছেন তারা।

পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি গোপনীয়তামুক্ত প্রতিবেদনে ইম্পেরিয়াল ইরানিয়ান বিমানবাহিনী এবং দুটি এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমানের প্রতিক্রিয়ার বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়।

সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম এফ-৪ বিমানটি বস্তুটির কাছাকাছি পৌঁছালে এর যন্ত্রপাতি এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে। জানা যায়, পাইলট বিমানটি ঘুরিয়ে নেওয়ার পর এসব সিস্টেম আবার কাজ করা শুরু করে। এরপর তদন্তের জন্য পাঠানো হয় দ্বিতীয় একটি এফ-৪ বিমান। রাডারে বস্তুটি শনাক্তও করে সেই বিমান।

দ্বিতীয় বিমানের ক্রুরা আরেকটি অস্বাভাবিক ঘটনার কথা জানান। তাদের মতে, মূল বস্তুটি থেকে একটি ছোট অংশ আলাদা হয়ে যায়। পাইলট সেটির মোকাবিলা করার চেষ্টা করলে ঠিক সেই মুহূর্তে বিমানের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

১৯৭৬ সালের এই ঘটনা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নথিতে লিপিবদ্ধ হয়। সামরিক বিমান জড়িত ইউএফও সংক্রান্ত ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবেই এখনো বিবেচিত হয় এটি।

সামাজিক মাধ্যমে নানা মত

সামাজিক মাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারীর দাবি, এই আলো একটি সামরিক ড্রোন অথবা একসঙ্গে ওড়া একাধিক ড্রোনের হতে পারে। আবার অনেকের ধারণা, এটি কোনো বিমান অথবা ইউএফও হতে পারে। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

এই ফুটেজ ঘিরে নেটদুনিয়ায় দেখা গেছে নানা মজার প্রতিক্রিয়াও। কেউ বলছেন এটি আলাদিনের উড়ন্ত গালিচা, আবার কেউ বলছেন এটি চীনের এলইডি বাতি।

একজন লিখেছেন, ‘এই ইউএফওর রংগুলো দেখে মনে হচ্ছে এটা নিশ্চয়ই কোনো নারী এলিয়েনের উড়ন্ত যান। দেখুন তো, কত সুন্দরভাবে রঙিন আলো দিয়ে নিজের নভোযানটি সাজিয়েছে সে’।

আরেকজন মজা করে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা করাতেই বুঝি এসেছে এলিয়েনরা’।

তৃতীয় একজনের প্রশ্ন ছিল আরও বাস্তবসম্মত, ‘এলিয়েনরা এত সস্তা আরজিবি লাইট কেন ব্যবহার করছে?’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর