img

কৃষককে কুপিয়ে হত্যা: তিন ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত :  ১১:০৬, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

কৃষককে কুপিয়ে হত্যা: তিন ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ জনের যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহের নান্দাইলে পূর্বশত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন- আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভোলামরি এলাকার হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি স্থানীয় চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন। জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ তার ওপর হামলা চালায় এবং কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন আদালত।

ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১৩ জন আসামির মধ্যে ১১ জনের উপস্থিতিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল বর্তমানে পলাতক।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল ও আসামিপক্ষের অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

এখনও মেলেনি ভারতে ইলিশ রপ্তানির ছাড়পত্র

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে ইলিশ মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে এখনো বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আগের বছরগুলোতে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো ছাড়পত্র মেলেনি। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।

গত আগস্ট মাসে ইলিশ মাছ আমদানির জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ মাছ আমদানিকারক সমিতি। একই সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামতের জন্য চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চিঠিতে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতির বিষয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও এ বছর ইলিশ মাছের উৎপাদন পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। 

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়ার বিষয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত নন। ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ অবস্থায় ইলিশ রপ্তানির সুযোগ থাকবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন বা নাকচ করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্র জানিয়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার পর রপ্তানির অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। 

এরপর তা আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে (সিসিআইই) পাঠানো হবে। ফলে হাতে যে সময় আছে, তাতে এ বছর পূজায় ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে।

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানকার মানুষ চড়া দামে হলেও ইলিশ কেনার জন্য মুখিয়ে থাকেন। পদ্মার ইলিশ বিক্রিতেও মাছ ব্যবসায়ীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়। কিন্তু ২০১২ সালে ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকার কেবল দুর্গাপূজার সময় নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য ইলিশ মাছ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়ে আসছে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে পুরোটাই ভারতে রপ্তানি হয়েছে। পরের বছর এক হাজার ৮৫০ টন রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সবগুলোই রপ্তানি হয়েছে। ২০২১ সালে চার হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে দুই হাজার ৯০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল; রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে তিন হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ, রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে দুই হাজার ৪২০ টন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, আর রপ্তানি 

হয়েছে ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর এক হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫০ টন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর