img

যুদ্ধের ময়দানে উজ্জীবিত ইরানের পরমাণু স্বপ্ন: ইউরোশিয়া রিভিউ

প্রকাশিত :  ০৬:২২, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৭, ২২ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধের ময়দানে উজ্জীবিত ইরানের পরমাণু স্বপ্ন: ইউরোশিয়া রিভিউ

একসময় ইরানের রাজনীতিতে পারমাণবিক বোমা তৈরির আলোচনা ছিল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও গোপনীয়। তবে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে টানা আট মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পরিস্থিতি বদলেছে। এখন দেশটির নীতিনির্ধারক ও আইনপ্রণেতারা প্রকাশ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দাবি তুলছেন।

অথচ এই দেশেই একদিন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি ধর্মীয় ফতোয়া ছিল আইন, যেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে তেহরান বিশ্ববাসীকে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কাজের জন্য। কিন্তু যুদ্ধের কালো মেঘ সেই পুরোনো ধারণাকে এক নিমিষে উড়িয়ে দিয়েছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের প্রথম দফার আকস্মিক আঘাতেই কেঁপে উঠেছিল ইরান। সেই হামলায় শুধু সামরিক বা পারমাণবিক স্থাপনাই ধ্বংস হয়নি, প্রাণ হারিয়েছেন খেসারত দেওয়া বহু সাধারণ নাগরিক এবং খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব। যদিও পরবর্তী সময়ে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা কমিয়ে এনে নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে উল্টো নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের সাফ কথা, চুক্তি করতে হলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

আর ঠিক এ অনিশ্চিত ও চরম অস্তিত্বের সংকটের মাঝেই তেহরানের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র দন্তনখ লড়াই। একপক্ষ বলছে, পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইরান এরই মধ্যে অনেক চড়া মূল্য চুকিয়ে ফেলেছে। পার্লামেন্ট সদস্য আহমাদ বাখশায়্যাশ আরদেস্তানি কিংবা মহসেন রেজাইয়ের মতো শীর্ষ নিরাপত্তা কর্তারা মনে করেন, এখন আর পিছু হটার সময় নেই; বরং শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের পথেই হাঁটা উচিত।

রক্ষণশীল বিশ্লেষক দাউদ মোদাররেসিয়ানের ভাষায়, একটি পরমাণু বোমা অর্জন করা আজকের দিনে রুটি-রুজির চেয়েও বড় ও জরুরি প্রয়োজন, যা দেশের টিকে থাকার একমাত্র নিশ্চয়তা। তারা ট্রাম্পের সেই পুরোনো কথারই প্রতিধ্বনি করেন, যেখানে উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প বলেছিলেন, কারও হাতে ১১টি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠেও রয়েছে শক্ত যুক্তি। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবের এই চিন্তার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে আছে, তাদের পরমাণু বোমার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, একটি বোমা বড়জোর ৫০ থেকে ১ লাখ মানুষের প্রাণ নিতে পারে, কিন্তু হরমুজ প্রণালি আটকে দিলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও কোটি কোটি মানুষের জীবন জিম্মি করা সম্ভব। সাংবাদিক সিনা জাহানি কিংবা বিশ্লেষক আমির আলী আবুলফাতদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর এ উন্মাদনা সরাসরি ইসরায়েলের ফাঁদে পা দেওয়ার শামিল। বোমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার আগেই আমেরিকান বোমায় দেশের বাকি অবকাঠটুকুও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, এমন আত্মঘাতী পথ কোনো সুরক্ষাই দিতে পারে না।

কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, ইরান কি চাইলেও এখন বোমা বানাতে পারবে? যুদ্ধের আগুনে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মূল অবকাঠামো আজ প্রায় পঙ্গু। নাতানজ ও ফরদোর মতো প্রধান ভূগর্ভস্থ প্লান্টগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তবে সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪৪০ দশমিক ১৯ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিশাল মজুতের সঠিক হদিস তাদের জানা নেই।

মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, গ্রানাইট পাথরের ৮০ থেকে ১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত গোপন ও সুরক্ষিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ সুড়ঙ্গে হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ ও এই ইউরেনিয়াম লুকিয়ে ফেলেছে তেহরান। আর এ কারণেই ট্রাম্প সম্প্রতি হুংকার ছেড়েছেন, আমাদের হয়তো সেখানেই গিয়ে অভিযান চালাতে হতে পারে!

তাত্ত্বিকভাবে, ওই গোপন মজুতের নাগাল পেলে সামান্য সেন্ট্রিফিউজ দিয়েই অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম বানিয়ে ফেলা সম্ভব। ইরান যদিও যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে এই মজুত হালকা বা পাতলা করার প্রস্তাব দিয়েছে, তবুও ওয়াশিংটনের কড়া নজর এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের হিমশীতল পাহাড়ের আড়ালে এখন ঝুলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তথা গোটা বিশ্বের ভাগ্য।


img

সৌদি আরবে প্রবাসী কর্মীদের অমানবিক নিপীড়ন নির্যাতনের শেষ কোথায়!

প্রকাশিত :  ১২:৩৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬

শেখ জাফর আহমদ 

সম্প্রতি সৌদি আরবের সরকার বাংলাদেশের দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধা  আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার নামে তরুন-তরুনীর মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকর করেছে।  তাদের  অপরাদ মক্কার একটি মসজিদের ভিতরে তারা অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলেন। কিন্তু কি ধরনের অপরাধ,  অপরাদের ধরন, অপরাধের প্রমান ( সিসিটিভি ফটোজ) কিছুই স্পষ্ট করা হয় নি। তাড়াহুড়া করে বিচারের রায় এবং কার্যকর সন্দেহজনক।  জেনেভা কনভেনশনের আইন অনুযায়ী কোন প্রবাসী কোন অপরাদের সাথে যুক্ত হলে তার নিজ দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে অবহিত করতে হয়। সৌদিতে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখের ও বেশী বাংলাদেশী রয়েছেন, তাদের মধ্যে বহু নারী গৃহকর্মী রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বহুকাল থেকেই সৌদিতে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকলেও ইদানিং নারী নির্যাতনের ঘটনা খুবই ভয়াবহ ও হৃদয় বিদারক। বহু নারী অভাবের তাড়নায় নিজের ভিটা মাটি বিক্রি করে, নিজের স্বামী,  সন্তানাদি রেখে,  কিংবা বাবার অভাবের সংসারকে  একটু সচ্চল করার আশায়,  বুক ভরা আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দেন।  আর ঐদিকে সৌদিতে কফিল অপেক্ষার প্রহর গুনে কবে তার গৃহকর্মী নামক হুর তার কাছে এসে পৌছাবে?২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ম্যানচেস্টার ( যুক্তরাজ্য) থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে  এমিরাতের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে যাত্রা করছিলাম। 

দুবাই থেকে সিলেট রুটে যাবার প্রাক্কালে, আমার পাশের সিটে এক তরুনীর সিট। খুবই হালকা, রোগা ও ফ্যাকাসে  চেহারার একটা মেয়ে বসে আছে।  কি যেন একা একা ভ্যান - ভ্যান করে বলছেন,  চেহারার দিকে থাকালে মনে হয় অনেক দিন ঘুমান নি, খাওয়া - দাওয়া- নাওয়া- এমনকি শরীরের প্রতি যে বিন্দু পরিমান কোন যত্ন ছিলা না তা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছিল। সিটের মধ্যে বসার প্রতি ও মনোবেশ ছিল না,  এদিক ওদিক শুধু উঁকি দিচ্ছিলেন। খানিকটা বিরক্ত হলেও মুখের দিকে থাকিয়ে বুঝতে পেরেছিলাম মেয়েটা অনেক মানসিক চাপের  মধ্যে রয়েছে, সে অনেক কিছু বলতে চায়,  তার ভিতরের বুক ফাটা কান্নার আওয়াজ যেন অনুভব করতে পারছিলাম। অনেক কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, বোন আপনার  কি হয়েছে? আপনি  ঠিক আছেন তো?  বস এবার ভিতরের কান্না বাহিরে চলে আসল।  হাউ মাউ শব্দ,  চোখের অঝোরো জ্বল সব মিলিয়ে এক অসাভাবিক অবস্থা । আমি আরো কৌতুহলী হলাম কেন  এই অবস্থা,  জানতে হবে ওকে জিজ্ঞেস করতে হবে।  পাশের সিটে নিজের দেশের এক বোনের এমন আর্তনাদ বড়ই বেমানান। ও যখন একটু শান্ত হলো জিজ্ঞেস করলাম বোন একুটু জানতে পারি,  কি হয়েছে?

সাথে সাথে ওর পাসপোর্টের ছবি বাহির করে আমাকে দেখিয়ে বলল এই কে চিনতে পেরেছেন? আমি তো অবাক এতো সুন্দর চেহারা, গঠন,  স্বাস্থ্য, এবং সুঠাম দেহের অধিকারী, ছবির সাথে বাস্তব মেয়ের চেহারার কোন মিল খুজে পাচ্ছি না।  এবার কৌতুহলের পালা আরো বাড়ল আমাকে সব জানতে হবে। বোন আমি জানতে চাই কি করে আপনার  এই অবস্থা হলো। 

ভাই - আমি দেশে  একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ করতাম, ইনকাম ও মোটামুটি ভালো ছিল, কিন্তু বাবার অভাবের সংসারটাকে আরো একটু উন্নত, ভাই - বোনদের মুখে হাসি ফোটানো এবং  আরো একটু উন্নত জীবনের প্রত্যাশায়, এক এজেন্সির মাধ্যমে  আজ থেকে এক বছর আগে সৌদিতে এসেছিলাম, নার্সিং জব করব বলে।  সৌদিতে আসার পর দেখি অবস্থা সম্পুর্ন ভিন্ন। আমাকে একটি বাসার গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করতে হলো।  বাসায় এসে দেখি বাসার কর্তা ( কফিল) ও কফিলের ছেলে আমার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে।  আমাকে বাসার সকল কাজ কর্ম বুঝিয়ে দেওয়া হলো,  লম্বা জার্নি করে গিয়েছি, আমার অনেক লম্বা ঘুমের প্রয়োজন।  আমার জন্য নিয়োজিত  ঘরে আমি ঘুমাতে গেলাম, এত বেশী ক্লান্ত ছিলাম, যে বেডে যাওয়া মাত্রই ঘুমিয়ে পড়লাম। মাত্র ১৫ /২০ মিনিটের মাথায় আমার দরজায় নক - নক আওয়াজ।  আমি দরজা খুলব কি খুলব না কিছুই বুঝতে পারছিলাম না,  আরো বেশী শব্দ করে নক করায় দরজা খুলতে বাধ্য হলাম।  দরজার সামনে আমার কফিল, আমার রুমে ঢুকে গেল, অনেক জোর আর কাকুতি মিনতি করে আটকাতে পারলাম না। সে বের হওয়ার আরো ২০/২৫ মিনিটের মাথায় আবারো দরজায় অনেক শব্দ করে নক,  কি ব্যাপার একটু আগেই তো দরজা খুললাম এখন আবার কে এল? ঘরের গৃহকর্মী তাদের অধীনে, আমি আবারো দরজা খুলতে বাধ্য হলাম,  এবার দেখি একটা টগবগে যুবক,  ভাবলাম হয়ত মালিকের ছেলে,  সে ও রুমে ঢুকল, সে ও তার বাবার মত আচরন করে রুম থেকে বের হয়ে গেল। সেই থেকে শুরু,  সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে - বেড়ে যাবার আগ পর্যন্ত কাজ করতে হয়, ঘুমানোর সময় ঘুমের পরিবর্তে বাবা - ছেলের সাথে সময় কাটাতে হয়। মাঝে মধ্যে বাবা ও ছেলের বন্ধুদের ও নিয়ে আসত।  সারাদিন কাজ আর রাতের বেলায় ক্রমাগত  নির্যাতনের ফলে আজকে আমার এই অবস্থা। অনেক কাকুতি মিনতি করেছি,  ওদের কাছে আমার জীবন ভিক্ষা চেয়েছি, আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।  আমি আর পারছি না। যতবার দেশে যাবার কথা বলেছি, ততবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অনেক কষ্ট করে বাসা থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে আজ আমি আমার প্রবাস জীবনের সকল স্বপ্ন কবর দিয়ে বাবার কাছে চলে যাচ্ছি।  এরকম শত শত ঘটনা প্রতিদিন আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পাই,। ১৯/১০/২০২৬ সালের ঢাকা পোষ্ট নামক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী,  গত ৯ মাসে প্রবাস থেকে ১৬৭৮ জন নারী শ্রমিক নির্যাতিত হয়ে  দেশে ফিরেছেন যার মধ্যে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ৯৭৯।

এই সংখ্যাই প্রমান করে সৌদি আরবে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হলে ও পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা সাধারণত প্রকাশিত হয় না।  অনেক পুরুষ সেই নির্যাতন নিরবে নিভৃতে সহ্য করেই যাচ্ছেন আর কেউ কেউ  সহ্য করতে না পেরে নিজ দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। সৌদি আরব হলো আমাদের (মুসলমানদের) আবেগ অনুভূতির জায়গা। এখানেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহামানব আমাদের রাসুল হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা:) সহ অনেক নবী ও রাসুল গনের আগমন হয়েছে। মক্কা ও মদীনার মতো পবিত্র স্থান ও রয়েছে। ইসলামের শ্রেষ্ট চার জন খলিফার জন্ম ও এই সৌদি আরবে হয়েছে।  সুতারাং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সৌদি আরবের কোন সমালোচনা আমরা করতে চাই না।  কিন্তু কিছু লেবাস ধারী মুসলমান যারা ধর্ম সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকা সত্তেও যে অশালীন আচার - আচারন

, যৌনাচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন,  অন্যায় ও অবিচার করে,  তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করতে চাই,  নিন্দা ও ঘৃনা জানাতে চাই।  অন্যায় ও অবিচারের বিচার চাই।  কিন্তু চাইলেই কি সম্ভব,  ওরা তো অনেক সময় আমাদের মানুষ হিসাবে. গন্যই করে না।  মিসকিন বলে সম্বোধন করে।  মিসকিনদের আবার কিসের বিচার? ঘর বাড়ি বিক্রি করে যাওয়া, নির্যাতিত কর্মীরা যখন খালি হাতে ফিরে আসে তখন তাদের বুক একটু কাপে না। কারন মিসকিন জাতি, গরীব দেশে জন্ম নেওয়া টা কি পাপ? সিতি ও বশির সেই গরিব দেশের নাগরিক বলে, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে,আইনের সঠিক প্রয়োগ না করে, বাংলাদেশ সরকারকে কোন রকমের অবগত না করেই,  একজন বিচারকের বিশেষ বিবেক আর ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে দুটি তাজা প্রান কেড়ে নিয়েছে। ওরা যদি ইউরোপ / আমেরিকা কিংবা শক্তিশালী কোন দেশের নাগরিক হতো তাহকে কি এমনটা হতো ?  কত বিধর্মী নারী পুরুষ  অনায়াসেই সৌদিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এমনকি সম্প্রতি সৌদির বাদশা সিনেমা, কন্সার্ট,  সহ অনেক কিছুর অনুমতি দিয়েছেন। সৌদির বাদশা বিশ্বের নামী দামি মডেল,  গায়িকা, নায়িকা দের নিয়ে ব্যক্তিগত পার্টি দিয়ে থাকেন । এগুলো  কি অশ্লীলতা,  অনৈতিক কার্যকলাপ এর আওতায় আসে না?  সৌদির প্রশাসন ভালো করেই জানে প্রবাসী শ্রমিক, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের কথা কিন্তু কোন বিচার নেই প্রতিকারের কোন সম্ভাবনা ও  নেই।  সুতারাং নিজ দেশের সরকার যদি নিজ দেশের শ্রমিকদের পাশে শক্ত হাতে না দাঁড়ায় এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। সিতি ও বশিরের  এই অমানবিক রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেক নাড়া দিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।  এখন প্রয়োজন শুধু শক্ত হাতে রুখে দাড়াবার। তাদের অমানবিক, অন্যায়,অবিচার , নিপীড়ন, নির্যাতন, আর লালসার শিকার যেন আর কোন  সিতি আর বশির না হয়।

লেখক: শেখ জাফর আহমদ 
ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্য