img

যে ভুলের কারণে হারতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২২, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যে ভুলের কারণে হারতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

ডেভিড ওয়ালেস-ওয়েলস

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্বে ইরানে হামলার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এদিকে জ্বালানি খরচের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও যুদ্ধের বেশিরভাগ সময়ের মতোই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি গ্যাসের দাম এবং খানিকটা মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়া লাগলেও বসন্তের সময় অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে যেসব বিকট সতর্কবার্তা আমরা শুনেছিলাম, সে তুলনায় অর্থনৈতিক প্রভাবটি কিছুটা সামলে নেওয়া গেছে বলেই মনে হয়। শুল্ক আরোপের মতোই এ যুদ্ধও দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তবে রাজনীতির সমীকরণ কিন্তু একেবারেই ভিন্ন। সেখানে যুদ্ধের প্রভাব প্রথম থেকেই বেশ স্পষ্ট এবং ট্রাম্পের গলায় ঝুলে থাকা অসংখ্য কলঙ্কের মধ্যে এটিই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করেন।

কিন্তু তার চেয়েও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—মার্কিন নাগরিকেরা তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে যে বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন, তাতেও যুদ্ধের একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। ১০ জনের মধ্যে ৮ জন মার্কিন নাগরিক বলছেন, এ যুদ্ধের কারণেই তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।

লেবার ডে পার হতেই শরতের নির্বাচনের চিত্রটা দ্রুত স্পষ্ট হতে শুরু করে—এমনটাই মনে করছেন রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষকেরা। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম কয়েক সপ্তাহের জনমত জরিপ থেকে যা দেখা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত পরিষ্কার—একটি বড় ধরনের ডেমোক্রেটিক বা ‘ব্লু ওয়েভ’-এর সুস্পষ্ট পূর্বাভাস।

জরিপের গড় হিসাব বলছে, ২০১৮ সালের সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনের চেয়েও এ দফায় ডেমোক্র্যাটরা অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন। আমার কাছে যেসব তথ্য রয়েছে, তা নির্দেশ করে যে কানসাস, আইওয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডার মতো জায়গায় সিনেট আসনগুলোর ভাগ্য এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতের মুঠোয় চলে আসতে পারে।

অবশ্য নির্বাচন এখনো কয়েক সপ্তাহ দূরে। রিপাবলিকানদের হাতে বিপুল পরিমাণ নির্বাচনী তহবিল রয়েছে এবং ডেমোক্রেটিক সিনেট জয়ের পথটি দূর থেকে সব সময়ই এক ঝুঁকিপূর্ণ সরু দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটার মতোই মনে হতো।

কিন্তু ট্রাম্প দিন দিন অজনপ্রিয় হয়ে পড়ছেন এবং তাঁর গ্রাফ নিচের দিকে নামছে। তরুণ, কৃষ্ণাঙ্গ ও অশ্বেতকায় ভোটারদের রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার যে বহুচর্চিত পুনর্গঠনের কথা বলা হচ্ছিল, তা এই দফায় কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

আসলে সেই পরিবর্তন আদৌ সত্যি ছিল, নাকি স্রেফ একটা সাময়িক বিভ্রান্তি বা মরীচিকা ছিল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের আর ইমেজ সংকটে ভোগা কোনো দল বলে মনে হচ্ছে না; সাধারণ জরিপগুলোয় তারা ধারাবাহিকভাবে ওপরের দিকে উঠছে এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো দেখাচ্ছে।

তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে ট্রাম্পের যেসব স্পষ্ট দুর্বলতা রয়েছে—তাঁর নগ্ন দুর্নীতি, অভিবাসন নিয়ে কঠোরতা, নামমাত্র আইনি অর্জন এবং দেশের সিংহভাগ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ত্বরান্বিতকারীদের পক্ষে অবলীলায় অবস্থান নেওয়া—সেগুলোর মধ্যে ইরান যুদ্ধ যেভাবে আলাদা হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি চমকপ্রদ মনে হয়েছে।

হয়তো আমার অবাক হওয়া উচিত নয়। সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এই সংঘাত ছিল একটি চরম অপমানজনক ব্যাপার। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে এক অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র শক্তির সস্তা ড্রোন এবং ক্ষণস্থায়ী মিসাইলের সামনে পিছু হটতে হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আসল সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে।

মার্কিন নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলো খালি করতে হয়েছে, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ভেতরের পরিস্থিতি বিশ্বমঞ্চে এক লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে।

কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের মতে, এই সামরিক অভিযানের কারণে পেন্টাগনের ইতিমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গেছে এবং প্রতি মাসে এই খরচের খাতা কেবলই বাড়ছে। শুরুতেই এ যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছিল, কমপক্ষে তা-ই ছিল জনমত। আর এখন মনে হচ্ছে, এটি একটি চিরন্তন ও অন্তহীন যুদ্ধ।

সামরিক দিকটি তো গেল। দেশের ভেতরে, যুদ্ধের এই ছয় মাসে মার্কিন নাগরিকেরা জ্বালানির জন্য ইতিমধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ গুনেছেন, যা সংঘাত না থাকলে দিতে হতো না। ট্রাম্পের নামে চাপানো এই অতিরিক্ত মূল্যকে বার্ষিক হিসাবে রূপান্তর করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান।

সিবিওর অনুমান, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরাসরি এই যুদ্ধের ফল। সমস্যাটি এতটাই বড় আকার ধারণ করেছে যে প্রেসিডেন্টের নিজের হাতে নিযুক্ত ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান সুদের হার না কমিয়ে উল্টো বাড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধবিরোধী অবস্থান বজায় রাখার ট্রাম্পের যে তথাকথিত প্রতিশ্রুতি ছিল, তা ভঙ্গ করা নিয়ে তো অনেক কথাই হয়েছে।

কিন্তু তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি কমানোর যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা ভেঙে চুরমার হয়েছে। ফলে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জন্য কতটা মারাত্মক ও ক্ষতিকর হতে পারে, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতি নতুন এবং তা কেবল ট্রাম্পের জন্যই নতুন নয়।

বহু দশক ধরে দূরপ্রাচ্যে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা সফল না হলেও নিজ দেশের ভেতরের রাজনৈতিক ধাক্কা বা প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশি চিন্তা না করেই যুদ্ধ শুরু করার মতো এক অন্ধ আত্মবিশ্বাস তাদের ছিল।

এক অর্থে এটিই ছিল দেশটির আসল সামরিক পরাশক্তি বা অহংকার। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এই সমীকরণকে ব্যাপকভাবে বদলে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তার রেটিং দেখলেই এ প্রবণতা খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। সামগ্রিকভাবে চলতি বছরের বসন্তে যুদ্ধের সূচনা হওয়ার ঠিক পরপরই তাঁর রেটিংয়ে একটি বড় পতন ঘটে। মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর তাঁর জনপ্রিয়তার গ্রাফ আরও অনেক কিছু উন্মোচন করে।

এসব ইস্যুতে ট্রাম্পের নিট জনপ্রিয়তা একধাক্কায় পাহাড় থেকে খাদে পড়ার মতো ২৫ পয়েন্ট নিচে নেমে যায়।  

কয়েক মাস পর ট্রাম্পের অনুগত ভোটাররাও দেশের অর্থনীতি নিয়ে বেশ হতাশ অনুভব করছেন। গত জানুয়ারিতে ৭২ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার বলেছিলেন যে তাঁরা মনে করেন, আগের বছরের তুলনায় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু সেপ্টেম্বরে এসে সেই সংখ্যা ৪০ পয়েন্টেরও বেশি কমে মাত্র ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

মার্কিন অর্থনীতির প্রাথমিক সূচকগুলো—কম বেকারত্ব, তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং চাঙা শেয়ারবাজার—এবং দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অর্থনীতিকে দেখার যে মানসিকতা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গড়ে উঠেছে, তা বিবেচনায় নিলে এই রেটিংয়ের সংখ্যাগুলোকে অত্যন্ত কম বলতে হবে।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, বাইডেন আমলে উদারপন্থী বিশ্লেষকেরা বছরের পর বছর ধরে তথাকথিত ‘ভাইব-সিশন’, অর্থাৎ প্রচলিত অর্থনৈতিক সূচকগুলোর চেয়ে জনগণের অর্থনৈতিক অনুভূতি যে কতটা অন্ধকার ছিল, তার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন।

এখন ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও সেই মানসিক অনুভূতি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে এবং এই পতনের বড় একটি অংশ সরাসরি যুক্ত হয়ে আছে ইরানের সঙ্গে।

পরিস্থিতি হয়তো আরও খারাপের দিকে যেতে চলেছে। ছয় মাস ধরে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবগুলোকে কয়েকটি আনুকূল্যপূর্ণ কারণ সামাল দিয়ে রেখেছিল। তবুও গ্যাসের দাম বাড়ার সংকেত সব দেয়াল ভেঙে সামনে চলে এসেছে। ফেব্রুয়ারির পর থেকে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেলের দাম এখন গ্যালনপ্রতি সাড়ে ৬ ডলারে ঠেকেছে।

জুলাই মাসে চীনের জ্বালানি আমদানি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে; যদিও তা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সৌদি আরব লোহিত সাগরের দিকে তেল ডাইভার্ট করার জন্য যে পাইপলাইন ব্যবহার করছিল, হুতিরা তা উড়িয়ে দিয়েছে এবং ক্ষতির কারণে দেশটি ইউরোপে তাদের কিছু চালান বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত, যার অনেকটাই ইতিমধ্যে ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে রয়েছে, তা দ্রুত খালি হওয়ার শেষ সীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে জেপি মরগান একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে সতর্ক করে দিয়েছে যে আসন্ন শরতের এই বিশৃঙ্খলা সামাল দেওয়ার কোনো মানচিত্র বা স্পষ্ট পথ তাদের জানা নেই। নির্বাচনের বাকি আর দুই মাসেরও কম সময়।


মতামত এর আরও খবর

img

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি: উদ্বেগের জায়গাটি কোথায়?

প্রকাশিত :  ১৪:২১, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ 

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। কোথাও সংঘাত, কোথাও ছিনতাই, কোথাও প্রকাশ্যে হামলা, আবার কোথাও অপরাধের পরও যথাযথ বিচার না হওয়ার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা কঠিন। কিন্তু একের পর এক ঘটনার ধারাবাহিকতা যখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, নিরাপত্তাবোধ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে, তখন বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দেয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর বর্তায় না। একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, স্থানীয় সরকার এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কোথাও দুর্বলতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো ব্যবস্থার ওপর।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, একজন সাধারণ নাগরিক যখন রাস্তায় বের হন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান, কর্মস্থলে যাতায়াত করেন কিংবা রাতে বাড়ি ফেরেন, তখন তাঁর মনে নিরাপত্তার প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিকের প্রত্যাশা খুবই মৌলিক: তিনি নিরাপদে চলাফেরা করবেন, তাঁর সম্পদ নিরাপদ থাকবে এবং কোনো অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত আইনি প্রতিকার পাবেন।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে শুধু অপরাধ বাড়ে না, অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় ভোগেন, বিনিয়োগকারীর আস্থা কমে, কর্মজীবী মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সামাজিক আস্থার। মানুষ যদি মনে করেন অন্যায়ের প্রতিকার পাওয়া কঠিন, তাহলে আইনের প্রতি আস্থাও দুর্বল হতে শুরু করে।

তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি বাস্তব সমস্যাগুলো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করাও জরুরি। অপরাধের প্রকৃতি কী, কোন এলাকায় কোন ধরনের অপরাধ বেশি হচ্ছে, তদন্তের অগ্রগতি কতটা, মামলার নিষ্পত্তিতে কোথায় জট তৈরি হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ কতটা কার্যকর হচ্ছে এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। শুধু কঠোর ভাষায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করলে সমস্যার সমাধান হবে না।

প্রয়োজন দৃশ্যমান জবাবদিহি। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত মামলা গ্রহণ, কার্যকর অনুসন্ধান এবং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

রাষ্ট্রের শক্তি কেবল আইন প্রয়োগের ক্ষমতায় নিহিত নয়, নাগরিকের আস্থা অর্জনের মধ্যেও নিহিত। একজন সাধারণ মানুষ যখন থানায় গিয়ে সহযোগিতা পান, আদালতে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করতে পারেন এবং কেউ অপরাধী পরিচয় বা প্রভাবের কারণে আইনের বাইরে চলে যেতে পারেন না, তখনই আইনের শাসন প্রকৃত অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাই আবেগের চেয়ে প্রয়োজন তথ্য, রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ এবং আশ্বাসের চেয়ে প্রয়োজন দৃশ্যমান ফলাফল। নাগরিকের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

আজ সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষ কি তাঁর দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের বাস্তব অনুভূতি পাচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত একটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।