img

সাপ লোকালয়ে, বন দখলে কারা? লাউয়াছড়া রক্ষায় জবাবদিহি কোথায়?

প্রকাশিত :  ১১:২৪, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৯, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাপ লোকালয়ে, বন দখলে কারা? লাউয়াছড়া রক্ষায় জবাবদিহি কোথায়?

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পরিচয় শুধু চা-বাগানের সবুজে নয়। পাহাড়-টিলা, বনভূমি আর নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী মিলিয়ে এ অঞ্চল দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ভূখণ্ড। এই প্রকৃতিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে পর্যটনশিল্প, তৈরি হয়েছে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও সম্ভাবনা। কিন্তু সেই প্রকৃতির নিরাপত্তা নিয়েই এখন উদ্বেগ বাড়ছে।

বনভূমি দখল, মূল্যবান গাছ কাটা, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ—এসব অভিযোগ নতুন নয়। এর সঙ্গে যখন লোকালয়ে সাপসহ নানা বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির খবর সামনে আসে, তখন প্রশ্ন জাগে, প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য কি কোনোভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে?

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলে মাত্র চার দিনে একটি বিষধর শঙ্খিনী ও তিনটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। কোনোটি বসতবাড়ির পাশে, কোনোটি সড়কের ধারে, আবার কোনোটি জালে আটকে ছিল। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। উদ্ধার হওয়া একটি অজগরকে লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত করা হয়।

চার দিনে চারটি সাপ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা একাই বন ধ্বংসের প্রমাণ নয়। তবে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। প্রাণীরা কেন লোকালয়ে আসছে, তাদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র কতটা নিরাপদ, মানুষের বসতি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণে তাদের চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার।

আর সেই অনুসন্ধানে কমলগঞ্জের ভানুগাছের পাহাড় ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কেবল একটি বন নয়; এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষিত এ বনাঞ্চলে রয়েছে নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী। স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও এর গুরুত্ব অনেক।

কিন্তু স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকে ভানুগাছের পাহাড় ও আশপাশের বনাঞ্চল ঘিরে মূল্যবান বৃক্ষ নিধন, বনজ সম্পদ লুট এবং বনভূমি দখলের অভিযোগ বারবার আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদেও বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও বনের জমিতে স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠে এসেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বনে প্রবেশ করে সেগুনসহ মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে গেছে। বনভূমির জায়গা দখল করে কোথাও বসতি, কোথাও রিসোর্ট, আবার কোথাও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ জরুরি। কারণ, অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি শুধু পরিবেশ ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সরকারি সম্পদ রক্ষা, বন আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের প্রশ্নও।

এখানেই মূল প্রশ্ন: এত বছর ধরে যদি বন দখল ও মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ উঠে থাকে, তাহলে সেগুলোর তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? কতটুকু বনভূমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে? কতটি স্থাপনার বৈধতা যাচাই করা হয়েছে? কতটি মামলা হয়েছে, কতটির নিষ্পত্তি হয়েছে, আর কতটুকু জমি উদ্ধার করা গেছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান দিয়ে নয়, নথি ও তথ্য দিয়ে দিতে হবে। বন বিভাগের কাছে এ-সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য থাকা এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি।

বন রক্ষার কাজ শুধু গাছ লাগানো কিংবা মাঝেমধ্যে অভিযান চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সরকারি সম্পদ দখল বা বনজ সম্পদ লুটের অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যাচাই, অপরাধ প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

লাউয়াছড়ার বনাঞ্চল ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও রয়েছে। অভিযোগ আছে, বনভূমি দখল ও বনজ সম্পদ আহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আলোচিত কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রভাব ধরে রেখেছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগও স্থানীয়ভাবে শোনা যায়।

এ ছাড়া বনভূমি দখল ও বনজ সম্পদ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে আলোচিত কয়েকজনের রাজনৈতিক উত্থান, অর্থবল ও পেশিশক্তির ব্যবহার এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভোট কেনা কিংবা রাজনৈতিক মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও এসব আলোচনায় উঠে আসে।

এ ধরনের অভিযোগ গুরুতর। কিন্তু অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা যায় না। আবার প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বলে সেটি এড়িয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত, ভূমির রেকর্ড যাচাই, মামলার নথি পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ।

 রাজনৈতিক পরিচয় বা অর্থনৈতিক সামর্থ্য কারও জন্য আইনের বাইরে থাকার সুযোগ তৈরি করতে পারে না। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ হবে, অথচ প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে তা থেমে যাবে—এমন বৈষম্য আইনের শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 সরকার কিংবা প্রশাসনের সদিচ্ছার আসল পরীক্ষা এখানেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা একই মানদণ্ডে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

 বন ধ্বংসের ক্ষতি কেবল কতটি গাছ কাটা হলো, সেই হিসাব দিয়ে বোঝা যায় না। একটি বন অসংখ্য প্রাণীর আশ্রয়, খাদ্য সংগ্রহের জায়গা ও প্রজননক্ষেত্র। অনেক প্রাণীর জন্য বনাঞ্চলের এক অংশ থেকে অন্য অংশে যাওয়ার প্রাকৃতিক পথও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব জায়গা নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো বাস্তুতন্ত্রে।

 সাপের কথাই ধরা যাক। শঙ্খিনী বিষধর হলেও প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলে তার ভূমিকা রয়েছে। অজগরও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। সাপসহ বিভিন্ন শিকারি প্রাণী ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অথচ মানুষের চোখে সাপ প্রায়ই আতঙ্কের কারণ। লোকালয়ে দেখা গেলেই অনেক সময় তাকে মেরে ফেলা হয়।

 কিন্তু সাপ কেন লোকালয়ে আসছে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। বন উজাড়, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, পাহাড়-টিলা কাটা, সড়ক নির্মাণ কিংবা অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খাদ্য ও আশ্রয়ের খোঁজে তারা মানুষের বসতির কাছাকাছিও চলে আসতে পারে।

 তবে শ্রীমঙ্গলে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি সাপের লোকালয়ে আসার কারণ যে আবাসস্থল সংকোচন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও বৈজ্ঞানিক তথ্য। কোথায় বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার হচ্ছে, কোন এলাকায় বনভূমির পরিবর্তন ঘটছে, কোথায় প্রাণীদের চলাচলের পথ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে—এসব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।

 অর্থাৎ, সাপ উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি যে পরিবেশে তারা বাস করে, সেটি কতটা নিরাপদ আছে, তা নিয়েও ভাবতে হবে।

 শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটনের সবচেয়ে বড় সম্পদ প্রকৃতি। চা-বাগান, পাহাড়, বনভূমি আর বন্যপ্রাণীর উপস্থিতিই এ অঞ্চলকে অন্য জায়গা থেকে আলাদা করেছে। অথচ পর্যটনের নামে যদি বনাঞ্চলের আশপাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে ওঠে, বনভূমি দখলের অভিযোগ উপেক্ষিত থাকে কিংবা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত পর্যটনের ভিত্তিকেই দুর্বল করবে।

 রিসোর্ট বা পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ মানেই অপরাধ নয়। কিন্তু কোনো স্থাপনা সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে উঠেছে কি না, প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, কিংবা পরিবেশগত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে কি না—এসব যাচাই করা অপরিহার্য।

 লাউয়াছড়ার মতো সংবেদনশীল বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে সীমানা নির্ধারণ, ভূমির নথি হালনাগাদ এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারি রেকর্ড মিলিয়ে দেখা দরকার। বনভূমির আশপাশে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর বৈধতা ও পরিবেশগত প্রভাবও খতিয়ে দেখতে হবে। কোনো স্থাপনা অবৈধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 প্রশ্নটি উন্নয়ন হবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, সেই উন্নয়নের সুবিধা কারা পাচ্ছে আর ক্ষতির বোঝা বইছে কারা?

 কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি বনভূমি দখল করে আর্থিক সুবিধা পায়, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত হয় জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, তাহলে তাকে জনস্বার্থের উন্নয়ন বলা যায় না।

 লোকালয়ে বন্যপ্রাণী দেখা গেলে উদ্ধারকাজে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খবর পেয়ে তাদের সদস্যরা ছুটে যাচ্ছেন, প্রাণী উদ্ধার করছেন এবং বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করছেন। এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।

 কিন্তু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষে বন দখল বন্ধ করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা কিংবা বন আইন কার্যকর করা সম্ভব নয়। এসব দায়িত্ব মূলত বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের।

 গত সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা থেকে ২৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। এর আগে আগস্ট মাসেও শঙ্খিনী ও অজগরসহ অন্তত ১৭টি সাপ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল সংগঠনটি। এসব তথ্য উদ্ধারকাজের পরিধি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে শুধু উদ্ধারসংখ্যা দিয়ে কোনো এলাকার বন্যপ্রাণীর মোট সংখ্যা কিংবা আবাসস্থল সংকোচনের মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

 তবু এসব তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কোন প্রজাতির প্রাণী কোথায়, কখন এবং কী পরিস্থিতিতে উদ্ধার হচ্ছে, তা নিয়মিত নথিভুক্ত করা হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা সহজ হবে। বন বিভাগ, গবেষক ও পরিবেশবিদেরা একসঙ্গে কাজ করলে এসব তথ্য সংরক্ষণ পরিকল্পনায় কাজে লাগাতে পারবেন।

 একই সঙ্গে বনভূমির সীমানা রক্ষা, অবৈধ দখল শনাক্ত করা, বনজ সম্পদ পাচার প্রতিরোধ এবং অভিযোগের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি থাকতে হবে। শুধু প্রাণী উদ্ধার করে সাময়িক স্বস্তি দিলেই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধান হবে না।

 লাউয়াছড়া রক্ষার জন্য নতুন করে বড় বড় প্রতিশ্রুতির চেয়ে প্রয়োজন কিছু স্পষ্ট ও বাস্তব পদক্ষেপ।

 প্রথমত, বনভূমির সীমানা ও মালিকানা-সংক্রান্ত সরকারি নথি হালনাগাদ করে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। কোথায় দখলের অভিযোগ রয়েছে, কতটুকু জমি নিয়ে বিরোধ, কোন স্থাপনা কী অনুমোদনে গড়ে উঠেছে—এসব তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করা জরুরি।

 দ্বিতীয়ত, মূল্যবান বৃক্ষ নিধন ও বনভূমি দখলের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকলেও তদন্ত যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

 তৃতীয়ত, বনাঞ্চলের ভেতরে ও আশপাশে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলোর বৈধতা এবং পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করতে হবে। অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ স্থাপনাগুলোও পরিবেশগত শর্ত মেনে চলছে কি না, তা নজরদারিতে রাখতে হবে।

চতুর্থত, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচলের পথ নিয়ে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। কোথায় প্রাণীদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কোথায় মানুষের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে, তা চিহ্নিত করে সংরক্ষণের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

 পঞ্চমত, স্থানীয় মানুষকে বন সংরক্ষণের অংশীদার করতে হবে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অভিযোগ জানানোর সুযোগ এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

 সবচেয়ে বড় কথা, এসব উদ্যোগের অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে। কতটুকু বনভূমি উদ্ধার হলো, কতটি অভিযোগ তদন্ত করা হলো, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় কী অগ্রগতি হয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা দরকার।

 কারণ, স্বচ্ছতা ছাড়া জবাবদিহি আসে না। আর জবাবদিহি ছাড়া বন রক্ষার প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত কাগজেই থেকে যায়।

 শ্রীমঙ্গলে চার দিনে চারটি সাপ উদ্ধারের ঘটনা একাই পরিবেশগত বিপর্যয়ের প্রমাণ নয়। কিন্তু লাউয়াছড়া ও ভানুগাছের পাহাড় ঘিরে দীর্ঘদিনের বনভূমি দখল, বৃক্ষ নিধন ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃতির ওপর মানুষের চাপ কতটা বাড়ছে, আর সেই চাপ সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে—তার উত্তর খুঁজতে হবে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে।

 বন রক্ষার অর্থ শুধু গাছ লাগানো নয়। যে কারণে বন ধ্বংস হয়, যে কারণে সরকারি সম্পদ দখলের অভিযোগ ওঠে, যে কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ঝুঁকির মুখে পড়ে—সেসব সমস্যারও সমাধান করতে হবে। আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থবল কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

 লাউয়াছড়া শুধু কমলগঞ্জের নয়, শুধু শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণও নয়। এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, অসংখ্য প্রাণের আশ্রয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করে যাওয়ার মতো এক অমূল্য সম্পদ।

 আজ একটি অজগর উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা যায়, একটি শঙ্খিনীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব। কিন্তু তাদের আবাসস্থল যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে আগামীকাল আবারও বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসতে পারে। তাতে প্রাণীদের যেমন ঝুঁকি বাড়বে, তেমনি মানুষের সঙ্গেও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হবে।

 তাই প্রশ্ন শুধু কতটি সাপ উদ্ধার হলো, তা নয়। প্রশ্ন হলো, যে বন তাদের আশ্রয় দেওয়ার কথা, সেই বনকে নিরাপদ রাখতে আমরা কী করছি? বনভূমি দখল ও বৃক্ষ নিধনের যেসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে কি না?

 লাউয়াছড়া রক্ষার লড়াই তাই শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের লড়াই নয়। এটি সরকারি সম্পদ রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার লড়াই।

 বন বাঁচাতে হবে শুধু স্লোগানে নয়—দখলমুক্ত বনভূমি, সুরক্ষিত বৃক্ষ, নিরাপদ বন্যপ্রাণী এবং সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর আইনের মধ্য দিয়ে।



img

তেহরানে আরবনেতাদের মিটিং: কিভাবে দেখছে তাদের গণমাধ্যম?

প্রকাশিত :  ০৫:০৬, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সাইফুল খান

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় কাঁপতে থাকা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যখন ফের নতুন যুদ্ধের মেঘ জমা হচ্ছে, ঠিক তখনই গতকাল ২৬শে অক্টোবর তেহরানের কূটনৈতিক দরবারে রচিত হলো এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। বিশ্বরাজনীতি যখন এই অঞ্চলকে কেবল সংঘাত আর বিভাজনের ছকে মাপতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ইরানের রাজধানী তেহরানে একই টেবিলে এসে মুখোমুখি বসলেন একসময়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী ও পরাশক্তিগুলোর হাইপ্রোফাইল প্রতিনিধিরা। একদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও দুবাইয়ের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) শীর্ষ কূটনীতিবিদ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা, অন্যদিকে স্বাগতিক ইরানের নীতি নির্ধারকেরা। উপস্থিত ছিলেন সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (MIT)-এর প্রধান ইব্রাহিম কালিন। 

সম্প্রতি মক্কায় স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তির পর এই হাই-লেভেল বৈঠকটি কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার ছিল না, বরং ছিল মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ভবিষ্যৎ আঁকার এক ঐতিহাসিক চেষ্টা।  বিশ্ব সংবাদমাধ্যমগুলো কীভাবে দেখছে এই উত্তেজনাকর বৈঠকের পর্দার অন্তরাল? সেটা নিয়েই আজকের আলাপ।

কাতারভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই নাটকীয় বৈঠককে উপস্থাপন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের নিজেদের উদ্যোগে তৈরি \"ডি-এসকেলেশন বা সংঘাত প্রশমনের ঐতিহাসিক “diplomatic breakthrough\" হিসেবে। তাদের বিশ্লেষণের কেন্দ্রে ছিল একটাই বার্তা। বাইরের কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী না হয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন নিজের সুরক্ষার চাবি নিজের হাতে নিতে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির মুখে এবং লোহিত সাগরে হুতিদের অব্যাহত হামলার যে জটিল ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে কাতার ও তার মিত্ররা তেহরানের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসাটাকেই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেছে। এই বৈঠকে আল-জাজিরা কাতারের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ঐতিহ্যগত ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে। এই আলোচনার গূঢ় রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রোগ্রেস সেন্টার ফর পলিসিজ-এর প্রখ্যাত গবেষক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ের বিশ্লেষক ডক্টর মোহাম্মদ কওয়াস গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, \"এই তেহরান বৈঠকের আসল সাফল্য কিন্তু টেবিলে হেসে হাত মেলানোয় নয়; বরং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক স্নায়যুদ্ধ, সেখান থেকে অঞ্চলটির তাৎক্ষণিক সংঘাতের বিষয়গুলোকে কতটা বিচ্ছিন্ন করে বাস্তবে রূপ দেওয়া যাচ্ছে তার ওপর নির্ভর করবে এই আলোচনার স্থায়িত্ব।\"

একই সময়ে আঙ্কারা থেকে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ঘটনাটিকে চিত্রিত করেছে যেন এক বিশাল কৌশলগত ক্যানভাসে মুসলিম বিশ্বের নতুন ঐক্যের সূত্রপাত। তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা (MIT) ও নিরাপত্তা বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের এই বৈঠকে সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে, তুরস্ক আর আগের মতো একপক্ষীয় অবস্থানের ছকে বন্দি নেই। আনাদোলু তাদের সুচিন্তিত বিশ্লেষণে উঠে আসা বার্তা তুলে ধরে জানায়, আঙ্কারার মূল ফোকাস এখন শুধু হরমুজ প্রণালি বা লোহিত সাগরের নৌ-নিরাপত্তা রক্ষা করা নয়, বরং গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডব বন্ধে পুরো মুসলিম ব্লককে এক ছাতার নিচে আনা। আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক লাইন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক দর্শন টেনে আনাদোলুর বিশ্লেষণে উঠে আসে, \"সৌদি-তুর্কি-পাকিস্তান নিরাপত্তা ফ্রেমওয়ার্ক বা মক্কা প্যাক্ট কিন্তু ইরানকে কোনোরকম কোণঠাসা করার জন্য গঠিত হয়নি। বরং এর মূল উদ্দেশ্যই হলো ইরানকে সাথে নিয়ে একটি শক্ত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করা, যাতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং ফিলিস্তিনের মাটিতে চলা রক্তপাত চিরতরে বন্ধের পথ উন্মুক্ত হয়।\"

অন্যদিকে ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পাকিস্তানের প্রথিতযশা পত্রিকা ডন (Dawn) এক টানটান উত্তেজনার কূটনৈতিক ব্যালেন্সিং অ্যাক্টের গল্প শুনিয়েছে। পাকিস্তানের বার্তা ছিল পরিষ্কার, তারা কোনো শিয়া-সুন্নি বা ইরান-সৌদি অক্ষের বলি হতে প্রস্তুত নয়। আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া \'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি\'-র পর তেহরানের মনে যে নিরাপত্তার আশঙ্কা জেগেছিল, তা দূর করতেই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলটি দ্রুত তেহরানে উড়ে যায়। ডন পত্রিকা তাদের বিশ্লেষণে দেখায় যে, পাকিস্তান একদিকে রিয়াদ ও আঙ্কারার প্রতি নিজের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বজায় রাখছে, আবার অন্যদিকে প্রতিবেশী তেহরানকে আশ্বস্ত করছে যে এই অক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি নয়। এই জটিল সমীকরণের জট খুলতে গিয়ে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতি বিষয়ক খ্যাতনামা বিশ্লেষক আরিবা শাহিদ চমৎকার এক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, \"পাকিস্তান সুচতুরভাবে এক অনন্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে। পাকিস্তানি ও মিত্র প্রতিনিধি দলের এই ঝটিকা সফর এটাই প্রমাণ করে যে, ইসলামাবাদ রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক দূরত্ব কাটিয়ে এক ছাদের নিচে আনছে। রিয়াদকে সীমান্ত নিরাপত্তা আর লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা থেকে স্বস্তি দেওয়া এবং একই সাথে তেহরানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশীদার করে আস্থায় নেওয়া। এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষায় পাকিস্তান এখন মূল অনুঘটক।\"

সবশেষে, স্বাগতিক ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি (Mehr News) তেহরানের বুক থেকে বিজয়ের সুর বাজিয়ে পুরো ঘটনার বিশ্লেষণ সাজিয়েছে। তাদের চোখে, পশ্চিমা পরাশক্তি আমেরিকা বা ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বনামধন্য সব ইসলামিক দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের তেহরানে এসে এক টেবিলে বসাটা ইরানের \'জাতীয় নিরাপত্তা দর্শন\' ও \'আঞ্চলিক প্রতিরোধের\' এক বিরাট জয়। মেহের নিউজ লিখেছে, এটি হলো বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যকে স্বাবলম্বী করার এক মোক্ষম জবাব। ইরানের প্রেসিডেন্টের দফতর ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আবহ তুলে ধরে মেহের নিউজ তুলে আনে দেশটির শীর্ষ নেতাদের অবস্থান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৈঠক শেষে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, \"ইরান তার যেকোনো মুসলিম প্রতিবেশীর সাথে ভুল বোঝাবুঝি বা মতভেদ মেটাতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা যখন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে একসাথে হাত মেলাব, তখন দুনিয়ার কোনো বাইরের শক্তি আমাদের ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।\" একই সুর শোনা যায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও শীর্ষ কর্মকর্তা মহসেন রেজাই-এর কণ্ঠে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বিশ্লেষণী মন্তব্য করেন, \"তেহরানের নিরাপত্তা মডেলটি তৈরিই হয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাসের শক্ত ভিতের ওপর। সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশের প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের এই গভীর আলোচনা শুধু কালকের জন্য নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক চিরস্থায়ী শান্তির নতুন সূর্যোদয় ঘটাল।\"

এভাবেই আল-জাজিরার সংঘাত কমানোর বার্তা, আনাদোলুর ঐক্যবদ্ধ ইসলামিক ফ্রন্ট, ডন-এর ভারসাম্যপূর্ণ ও সতর্ক কূটনীতি এবং মেহের নিউজের স্বাবলম্বী নিরাপত্তা দর্শনের মধ্য দিয়ে তেহরানের এই ২৬শে অক্টোবরের বৈঠকটি বিশ্ব ভূরাজনীতিতে এক নতুন ও আকর্ষণীয় অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

লেখক - ইতিহাস, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক।

মতামত এর আরও খবর