img

জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকট মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ব্রিফিং প্রদর্শনী

প্রকাশিত :  ০৮:১৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকট মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ব্রিফিং প্রদর্শনী

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতির ক্রমবর্ধমান সংকট সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ উৎসাহিত করতে টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ব্রিফিং-এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন ইয়ুথ ক্যাবিনেট মেম্বার ফর এনভায়রনমেন্ট, নিকোল রাখমান। প্রদর্শনীর পর অনুষ্ঠিত হয় একটি তথ্যবহুল প্যানেল আলোচনা, যেখানে বরোর বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু ও প্রকৃতির জরুরি সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি, কমিউনিটি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ব্রিফিং জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিশ্লেষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এতে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্যব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও করণীয়ও উপস্থাপন করা হয়।

ব্রিফিংটি বাসিন্দাদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী ধারণা ও অনুপ্রেরণা প্রদান করে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়েও এতে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কাউন্সিলর শাফি আহমেদ, ক্যাবিনেট মেম্বার ফর ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি বলেন: \"জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রকৃতির সংকট আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এই সংকট মোকাবিলায় শুধু সরকারের পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যক্তি, পরিবার এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ব্রিফিং মানুষকে জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করে। আমি আনন্দিত যে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দারা এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন এবং আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিজেদের ভূমিকা রাখছেন।\"

জলবায়ু ও প্রকৃতির সংকট মোকাবিলায় শুধু নীতিগত পদক্ষেপই নয়, বরং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন বাসিন্দাদের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলতে এবং স্থায়ী পরিবর্তনের অংশ হতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতির সংকট এখন আর ভবিষ্যতের নয়, বরং বর্তমানের বাস্তবতা। তাই সচেতনতা, অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

হাউস অব লর্ডসে হোমলেস পোভার্টি রিলিফ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু

প্রকাশিত :  ১৮:১০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

গৃহহীন ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে কাজ করবে নতুন এই ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, লন্ডন: গৃহহীন ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সংগঠন ‘হোমলেস পোভার্টি রিলিফ ফাউন্ডেশন’। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী হাউস অব লর্ডসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আতিথ্য প্রদান করেন ব্যারোনেস উদ্দিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় পরিকল্পিত, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের যাত্রাকে স্বাগত জানান অতিথিরা।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, ক্রয়ডনের সাবেক কাউন্সিলর ও মেয়র শেরওয়ান চৌধুরী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গৃহহীন মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের বাস্তব সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে তাঁর গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছে, যা গৃহহীন মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করবে।

ফাউন্ডেশনটির মূল লক্ষ্য হলো, গৃহহীন মানুষকে সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বের করে এনে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সহায়তা করা। এ লক্ষ্যে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদান এবং স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শেরওয়ান চৌধুরী বলেন, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের ধারণা বিকশিত হয়। এ ক্ষেত্রে ডা. রফিকুল হায়দারসহ কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ, সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সাংগঠনিক উন্নয়নের জন্য গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রয়েছেন রফিকুল হায়দার, নিজামুল হক নোমজুল, রাফেল উদ্দিন, আবুল হুসাইন ও সাফওয়ান চৌধুরী।

অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন টনি লেটস, এমবিএ; ইয়াওয়ার খান; ব্রিজ কালিয়া, জেপি; এবং কাউন্সিলর সদরুজ্জামান খান।

ব্যবস্থাপনা কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের পুলিশবিষয়ক মন্ত্রী ও এমপি সারাহ জোনস, এমপি নাতাশা আয়রনস এবং ডেপুটি লেফটেন্যান্ট কর্নেল রে উইলকিনসন।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার ক্যানসার হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাবাব উদ্দিন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দিন, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব এবং দৈনিক জনমত-এর সাবেক সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, এল বি২৪ এর ম্যানেজিং এডিটর সাংবাদিক আব্দুল মুনিম জাহেদী ক্যারল, সাংবাদিক মাহবুব রহমান। বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এনামুল খান, মোহাম্মদ হক, এম রহমান, মুজিবুর রহমান ও ফারহানা আখতারসহ বিভিন্ন কমিউনিটি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডা. আলী আসকার কোরেশী, আনোয়ার আলী মোল্লা, ক্রয়ডনের সাবেক মেয়র ও কাউন্সিলর অ্যালিসা ফ্লেমিং, সাব্বির করিম, লিটু খান, মুরতুজা চৌধুরী, ফজলে চৌধুরী, ফজলুর রহমান, রোহেমা চৌধুরী, সোফিয়া হায়দার, ডা. ইয়াসির চৌধুরী, নাজিয়া চৌধুরী, নাসের চৌধুরী, মহসিন মিয়া, শাহনুর চৌধুরী ও আমারা চৌধুরীসহ অনেকে।

বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে ডা. রফিকুল হায়দার ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যক্রমের ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি সংগঠনটির কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নির্ধারণ এবং টেকসই সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


এ সময় শেরওয়ান চৌধুরী একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের পরিকল্পিত ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেন। এর লক্ষ্য হলো, মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তাঁদের জীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব সহায়তা নিশ্চিত করা।

ফাউন্ডেশনটি এ লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

সমাপনী বক্তব্যে শেরওয়ান চৌধুরী ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগ্রহী সবার প্রতি তাঁদের মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গৃহহীন মানুষের জীবন পুনর্গঠন এবং তাঁদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যথাযথ সহায়তার সুযোগ তৈরি, পুনর্বাসন এবং মানুষের মর্যাদা ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে চায়।

হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল। মানবিক মূল্যবোধ, বাস্তবভিত্তিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে গৃহহীনতা ও দারিদ্র্য মোকাবিলায় অর্থবহ অবদান রাখাই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।


কমিউনিটি এর আরও খবর