শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আত্মরক্ষার একটি অবলম্বন হিসেবে উইং চুন-সেলফ ডিফেন্স ক্লাসে অংশ নিন। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জন্যে ইয়াং ফিউচারস হাব-এর সহযোগিতায় এই সেলফ ডিফেন্স সেশনটি চালু করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ ফ্রি আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণের এই সেশনগুলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে চাঙ্গা রাখবে এবং একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, শারীরিক নমনীয়তা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
আগামী ১১, ১৮ এবং ২৫ নভেম্বর এবং ২ ডিসেম্বর প্রতি বুধবার বিকাল ৫ টা থেকে ৬টা পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটস্ বরোর হেলিব্যারি ইয়ূথ সেন্টারে (বেন জনসন রোড ই-১ ৩এফকিউ) ক্লাস নেওয়া হবে। বিনামূল্যের এই সেল্ফ ডিফেন্স ক্লাশে অংশ নিতে আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগাযোগের ইমেইল: [email protected]
৬৮ বছর পর লাইমহাউজ প্লে-গ্রাউন্ডে আবারো খুলে দেওয়া হচ্ছে গালিভার ভাস্কর্যটি
লন্ডনের বিস্মৃত ‘গালিভার’ আবার ফিরছে শিশুদের খেলার মাঠ হিসেবে
প্রকাশিত :
২১:১৫, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক জনাথান সুইফটের কালজয়ী রচনা গালিভারস ট্রাভেলস-এর ৩০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনে গালিভারের ঐতিহাসিক ভাস্কর্যটি আবারো খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে ভাস্কর্যটি লাইম হাউসের লকসলি এস্টেটের প্লে-গ্রাউন্ডে আবারও শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ভাস্কর ট্রেভর টেন্যান্ট নির্মিত এই শিল্পকর্মটি মূলত একটি বড় শিশু পার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। বিশালাকৃতির গালিভার ভাস্কর্যের ওপর উঠে খেলা, দোল খাওয়া, স্লাইড করা এবং লুকোচুরির আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেত শিশুরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। বালুময় খেলার স্থানটি হারিয়ে যায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভাস্কর্যটি ঘিরে রাখা হয়।
লন্ডনের লাইমহাউজের লকসলি এস্টেটে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটি উদ্বোধনের ৬৮ বছর পর আবারও শিশুদের জন্য প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে লন্ডনের যুদ্ধ-পরবর্তী জনশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় আসবে। সে সময়ে লন্ডন কাউন্টি কাউন্সিলের ‘পেট্রোনেজ অব দ্য আর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন আবাসন এলাকায় ৭০টিরও বেশি শিল্পকর্ম স্থাপন করা হয়েছিল।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করবে এবং গালিভারস ট্রাভেলসঅবলম্বনে সৃজনশীল কর্মশালায় অংশ নেবে। হেরিটেজ অব লন্ডনের ‘প্রাউড প্লেসেস’ কর্মসূচির আওতায় সাহিত্য, শিল্প ও স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা: হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট ও টাওয়ার হ্যামলেটসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লকসলি এস্টেট টেন্যান্টস অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান স্টিভ রাসেল (ডান দিক থেকে তৃতীয়)। বাম থেকে ডানে: ড. নিকোলা স্টেসি (পরিচালক), জাসমিন ফ্যারাম, ইফে ডেভিস (হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট), স্টিভ রাসেল (চেয়ারম্যান, লকসলি এস্টেট টেন্যান্টস অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন), শাহানারা আখতার এবং জিওফ ওয়ার্ড (টাওয়ার হ্যামলেটস)।
হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্টের পরিচালক ড. নিকোলা স্টেসি বলেন, “এই পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ভাস্কর্য মেরামতের বিষয় নয়। এটি শহরের একটি অনন্য ঐতিহ্যকে আবার স্থানীয় কমিউনিটির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। ভাস্কর ট্রেভর টেন্যান্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কল্পনা প্রবণ জনশিল্পের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। আমরা আশা করি, এটি নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে এটি ইতিহাস, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।”
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই প্রকল্প আমাদের কাউন্সিল এস্টেটগুলোতে বিনিয়োগ এবং নেইবারহুড গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে বাসিন্দারা আরো বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারেন। গালিভারকে পুনরায় খুলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একটি প্রিয় কমিউনিটি স্থানকে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছি, যাতে স্থানীয় শিশুরা খেলতে, অনুসন্ধান করতে এবং সৃজনশীলতা বিকাশের অনন্য সুযোগ পায়।”
মেয়র আরো বলেন, \'\'আমরা হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করতে পেরে গর্বিত। এর মাধ্যমে যেমন আমাদের বারার গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বিনিয়োগ করা হবে। এ ধরনের প্রকল্প দেখিয়ে দেয়, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং আমাদের এস্টেটগুলোকে সব বয়সী মানুষের জন্য প্রাণবন্ত আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। গালিভার ট্রাভেলস- এর ৩০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই অসাধারণ ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে যাচ্ছে, যা সত্যিই আনন্দের বিষয়।\"