img

টাওয়ার হ্যামলেটস এর আরও হাজারো পরিবারের জন্য চালু হলো খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহার সেবা

প্রকাশিত :  ১৩:৩৫, ০১ নভেম্বর ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস এর আরও হাজারো পরিবারের জন্য চালু হলো খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহার সেবা

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তাদের সম্প্রসারিত খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহার সেবার প্রথম সপ্তাহের সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে বরোর বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাসকারী আরও হাজারো পরিবার এখন খাদ্য বর্জ্য আলাদাভাবে পুনর্ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।

প্রথম ধাপে সেবাটি কাউন্সিল-পরিচালিত এস্টেটগুলোতে চালু করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বরোর অন্যান্য এলাকায় সম্প্রসারণ করা হবে। এ পর্যন্ত কাউন্সিলের নিজস্ব আবাসন সম্পদের ৩১.৫ শতাংশ এই সেবার আওতায় এসেছে এবং অতিরিক্ত ৫,৯৩৪টি পরিবার খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছে।

সাম্প্রতিক পর্যায়ে ২৮৩টি কমিউনাল খাদ্য বর্জ্য সংগ্রহের বিন স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১৯টি ২৪০-লিটার এবং ৬৪টি ১৪০-লিটার বিন। এর ফলে আরও বেশি বাসিন্দা তাদের খাদ্য বর্জ্য সাধারণ আবর্জনা থেকে আলাদা করে পুনর্ব্যবহারের জন্য জমা দিতে পারছেন।

প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে টাওয়ার হ্যামলেটসের সব বাসিন্দা সাধারণ আবর্জনা ও মিশ্র শুষ্ক পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে আলাদা করে খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে বরোতে ফেলে দেওয়া মোট আবর্জনার প্রায় ৩০ শতাংশই খাদ্য বর্জ্য। তাই খাদ্য বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করা রিসাইক্লিং হার বাড়ানো এবং বর্জ্য নিষ্পত্তির পরিমাণ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

প্রথম সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয় ১২ অক্টোবর। বাসিন্দারা কাউন্সিলের সরবরাহ করা নতুন রান্নাঘরের ক্যাডি এবং কমিউনাল খাদ্য বর্জ্য বিন ব্যবহার করে খাবারের উচ্ছিষ্ট, ফল ও সবজির খোসা, হাড়, টি-ব্যাগ, কফির অবশিষ্টাংশ এবং অন্যান্য খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের জন্য জমা দিয়েছেন।

নতুন সেবার আওতায় আসা পরিবারগুলো একটি স্টার্টার প্যাক পাচ্ছেন, যাতে একটি রান্নাঘরের ক্যাডি, কম্পোস্টযোগ্য লাইনারের একটি রোল এবং সেবাটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে সে সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এস্টেটগুলোর বর্জ্য সংরক্ষণ এলাকার কাছাকাছি বড় কমিউনাল খাদ্য বর্জ্য বিনও স্থাপন করা হয়েছে। রান্নাঘরের ক্যাডি পূর্ণ হয়ে গেলে বাসিন্দারা কম্পোস্টযোগ্য লাইনারসহ সেটি সরাসরি কমিউনাল বিনে ফেলতে পারবেন। এসব বিন প্রতি সপ্তাহে খালি করা হবে।

সংগৃহীত খাদ্য বর্জ্য রিফুড নামের একটি বিশেষায়িত পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে তা প্রক্রিয়াজাত করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত বায়োগ্যাস এবং কৃষিকাজের জন্য সার ও কম্পোস্ট তৈরি করা হয়।

ক্যাবিনেট মেম্বার ফর এ ক্লিন এন্ড গ্রিন বরো, কাউন্সিলর শাফি আহমেদ বলেন, “এই প্রথম সংগ্রহ কার্যক্রম টাওয়ার হ্যামলেটসে রিসাইক্লিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি এমন একটি সেবার সূচনা, যা শেষ পর্যন্ত বরোর সব পরিবারকে খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের সুযোগ দেবে। বর্তমানে আমরা যে আবর্জনা ফেলে দিই তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খাদ্য বর্জ্য, তাই এগুলো সাধারণ আবর্জনা থেকে আলাদা করা সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা বাসিন্দাদের অনুরোধ করছি, তাদের এলাকায় সেবাটি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন খাদ্য বর্জ্য ক্যাডি ও কমিউনাল বিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে।”

খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হলেও কাউন্সিল বাসিন্দাদের খাদ্য অপচয় কমানোরও আহ্বান জানাচ্ছে। খাবারের পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করা, সঠিকভাবে খাবার সংরক্ষণ করা এবং অবশিষ্ট খাবার ব্যবহার করা পরিবারগুলোকে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি বর্জ্য কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

বাসিন্দাদের মনে রাখতে হবে যে খাদ্য বর্জ্য ক্যাডি এবং কমিউনাল খাদ্য বর্জ্য বিনে শুধুমাত্র খাদ্য বর্জ্য ফেলা যাবে। প্যাকেটজাত মোড়ক, তরল পদার্থ, রান্নার তেল এবং প্লাস্টিকের ব্যাগ এসব বিনে ফেলা যাবে না।

রিসাইক্লিং আরও সহজ করা এবং পুনর্ব্যবহারের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে কাউন্সিলের বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাসিন্দারা তাদের এলাকায় সংগ্রহ সেবা শুরু হলে স্টার্টার প্যাক পাবেন।

আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.towerhamlets.gov.uk/foodwaste।

কমিউনিটি এর আরও খবর

৬৮ বছর পর লাইমহাউজ প্লে-গ্রাউন্ডে আবারো খুলে দেওয়া হচ্ছে গালিভার ভাস্কর্যটি

img

লন্ডনের বিস্মৃত ‘গালিভার’ আবার ফিরছে শিশুদের খেলার মাঠ হিসেবে

প্রকাশিত :  ২১:১৫, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক জনাথান সুইফটের কালজয়ী রচনা গালিভারস ট্রাভেলস-এর ৩০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনে গালিভারের ঐতিহাসিক ভাস্কর্যটি আবারো খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে ভাস্কর্যটি লাইম হাউসের লকসলি এস্টেটের প্লে-গ্রাউন্ডে আবারও শিশুদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

ভাস্কর ট্রেভর টেন্যান্ট নির্মিত এই শিল্পকর্মটি মূলত একটি বড় শিশু পার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। বিশালাকৃতির গালিভার ভাস্কর্যের ওপর উঠে খেলা, দোল খাওয়া, স্লাইড করা এবং লুকোচুরির আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ পেত শিশুরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। বালুময় খেলার স্থানটি হারিয়ে যায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভাস্কর্যটি ঘিরে রাখা হয়।



লন্ডনের লাইমহাউজের লকসলি এস্টেটে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটি উদ্বোধনের ৬৮ বছর পর আবারও শিশুদের জন্য প্রাণ ফিরে পাবে। একই সঙ্গে লন্ডনের যুদ্ধ-পরবর্তী জনশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও নতুন করে আলোচনায় আসবে। সে সময়ে লন্ডন কাউন্টি কাউন্সিলের ‘পেট্রোনেজ অব দ্য আর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন আবাসন এলাকায় ৭০টিরও বেশি শিল্পকর্ম স্থাপন করা হয়েছিল।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীরা পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করবে এবং গালিভারস ট্রাভেলস  অবলম্বনে সৃজনশীল কর্মশালায় অংশ নেবে। হেরিটেজ অব লন্ডনের ‘প্রাউড প্লেসেস’ কর্মসূচির আওতায় সাহিত্য, শিল্প ও স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তিরা: হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট ও টাওয়ার হ্যামলেটসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লকসলি এস্টেট টেন্যান্টস অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান স্টিভ রাসেল (ডান দিক থেকে তৃতীয়)। বাম থেকে ডানে: ড. নিকোলা স্টেসি (পরিচালক), জাসমিন ফ্যারাম, ইফে ডেভিস (হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট), স্টিভ রাসেল (চেয়ারম্যান, লকসলি এস্টেট টেন্যান্টস অ্যান্ড রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন), শাহানারা আখতার এবং জিওফ ওয়ার্ড (টাওয়ার হ্যামলেটস)।


হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্টের পরিচালক ড. নিকোলা স্টেসি বলেন, “এই পুনরুদ্ধার প্রকল্প শুধুমাত্র একটি ভাস্কর্য মেরামতের বিষয় নয়। এটি শহরের একটি অনন্য ঐতিহ্যকে আবার স্থানীয় কমিউনিটির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। ভাস্কর ট্রেভর টেন্যান্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কল্পনা প্রবণ জনশিল্পের অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন। আমরা আশা করি, এটি নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে এটি ইতিহাস, সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।”

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই প্রকল্প আমাদের কাউন্সিল এস্টেটগুলোতে বিনিয়োগ এবং নেইবারহুড গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে বাসিন্দারা আরো বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারেন। গালিভারকে পুনরায় খুলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একটি প্রিয় কমিউনিটি স্থানকে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছি, যাতে স্থানীয় শিশুরা খেলতে, অনুসন্ধান করতে এবং সৃজনশীলতা বিকাশের অনন্য সুযোগ পায়।”



মেয়র আরো বলেন, \'\'আমরা হেরিটেজ অব লন্ডন ট্রাস্ট-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বে কাজ করতে পেরে গর্বিত। এর মাধ্যমে যেমন আমাদের বারার গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষণ করা হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বিনিয়োগ করা হবে। এ ধরনের প্রকল্প দেখিয়ে দেয়, শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কীভাবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং আমাদের এস্টেটগুলোকে সব বয়সী মানুষের জন্য প্রাণবন্ত আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। গালিভার ট্রাভেলস- এর ৩০০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই অসাধারণ ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের অনুপ্রাণিত করতে যাচ্ছে, যা সত্যিই আনন্দের বিষয়।\"


কমিউনিটি এর আরও খবর