অপেক্ষা কাটিয়ে দারুচিনি দ্বীপের পথে পর্যটকবাহী জাহাজ
দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর আবারও প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। চলতি পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৮৩০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে দ্বীপটির উদ্দেশে যাত্রা করে এমভি বার আউলিয়া।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি ছেড়ে যায়।
সকাল থেকেই ঘাটে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ৬টার পর থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সেখানে জড়ো হতে থাকেন তারা। জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ঘাটে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় যাত্রীদের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স বহন না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এ জন্য ঘাটে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। পর্যটকদের সঙ্গে থাকা নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী নির্ধারিত স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থাও করা হয়।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘৮৩০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে আজ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে।
এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’
কক্সবাজার নদীবন্দরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নয়ন শীল বলেন, ‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সেন্টমার্টিন রুটে তিনটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
জীবনে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাচ্ছেন কাউসার আলম। যাত্রার আনন্দের পাশাপাশি ঘাট পরিবর্তন নিয়ে তার কিছুটা আক্ষেপও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রায় যাচ্ছি, আবার জীবনের প্রথম সেন্টমার্টিন যাওয়া।
খুব আনন্দ লাগছে। তবে টেকনাফ ঘাট থেকে যাওয়ার মজাই আলাদা ছিল। সময় ও খরচ দুটোই কম লাগত। এখান থেকে যাত্রা করতে কিছুটা কষ্ট হয়। টেকনাফ থেকে দ্বীপ অনেক কাছে, হয়রানিও কম।’
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটের নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে নিয়ে জাহাজ মালিকদের জিম্মায় রাখা হয়েছে’। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্বীপ ভ্রমণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘প্রথম দিন প্রায় ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। এটি জাহাজের মোট ধারণক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা এবং প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স বহন না করার বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হয়েছে।’
তিন জাহাজে ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮
চলতি মৌসুমে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। এগুলো হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। তিন জাহাজে একসঙ্গে ২ হাজার ২৯৮ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, কর্ণফুলির ৭৩২ এবং টেকনাফের ৭১৬ জন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছাড়ার কথা। ফিরতি পথে জাহাজ তিনটির সেন্টমার্টিন ঘাট ছাড়ার সময় যথাক্রমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, ২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল সাড়ে ৩টা।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ সময় দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপনেরও অনুমতি রয়েছে। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। রাতযাপনের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যক পর্যটকের সুযোগ রয়েছে।
দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর আগে টেকনাফের জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করত। প্রায় চার বছর আগে নিরাপত্তাঝুঁকি ও নাব্য সংকটের কারণে ওই রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ব্যবহার করে দ্বীপে যাতায়াত করছেন পর্যটকরা।



















