img

চিড়া নাকি ভাত, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা বেশি উপকারী

প্রকাশিত :  ১৭:৩২, ২২ মে ২০২৩

চিড়া নাকি ভাত, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটা বেশি উপকারী

সকালের নাশতায় অনেকেই চিড়া খেতে পছন্দ করেন। কেউ ভাত। এর মধ্যে চিড়া কেবল সহজ এবং দ্রুত তৈরি করা যায় তাই নয়, খাবার হিসেবে এটি বেশ হালকা। চিড়া আয়রন এবং কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ। এতে কম গ্লাইসেমিক সূচক রয়েছে। অন্যদিকে ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেটের কারণে শরীরে ইনসুলিনের ওঠানামা যুক্ত। এছাড়া অতিরিক্ত ভাত খেলে অলসতা এবং অস্বাস্থ্যকর ওজন বাড়ে।

সকালের নাশতায় চিড়া কেন ভাতের চেয়ে ভালো তা জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথসটস’এ।  সেখানে ভারতীয় পুষ্টিবিদ অবনী কৌল সকালের নাশতায় ভাতের পরিবর্তে চিড়া খাওয়ার নানা কারণ জানিয়েছেন।

কার্বোহাইড্রেটে পূর্ণ: চিড়ায় ৭০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট এবং ৩০ শতাংশ চর্বি থাকে। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর খাবার খুঁজলে চিড়া খেতে পারেন। এই খাবার শরীরে শক্তি সরবরাহ করে। ভাতও কার্বোহাইডেটে পূর্ণ। কিন্তু ভাত খেলে শরীর ভারী লাগে, ঘুম পায়। এতে একজন ব্যক্তির উৎপাদনশীলতার স্তরকে প্রভাবিত করে।

আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস: রোদে শুকিয়ে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চিড়া তৈরি করা হয় তাতে এতে বেশি পরিমাণে আয়রন থাকে। এ কারণে গর্ভবতী নারীদের গর্ভকালীন রক্তাল্পতা হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চিড়া খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।  চিঁড়াতে একটু লেবুর রস যোগ করলে আয়রন শোষণ করা সহজ হবে।

হজম করা সহজ: চিড়া পেটের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর। এটা হজম করতে সমস্যা হয় না। এতে ক্যালরিও কম, তাই যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তারা চিড়া খেতে পারেন। কাঁচা চিড়ায় চর্বি ও চিনি নেই। সবজি যোগ করে ভাজার পরও এর পুষ্টিগুণের কোনও পরিবর্তন হয় না। তবে তৈরি করার সময় অবশ্যই সঠিক তেল ব্যবহার করতে হবে।

ফাইবার সমৃদ্ধ: চিড়া ফাইবার সমৃদ্ধ। ১০০ গ্রাম চিড়াতে ২ থেকে ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে।  একই পরিমাণ চিড়ায় প্রায় ৭০ গ্রাম স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট থাকে। এটা চালের মত পালিশ করা হয় না। চিড়া খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ: ফার্মেন্টশন প্রক্রিয়ায় তৈরি চিড়ায় কিছু প্রোবায়োটিক গুণও রয়েছে। চিড়ায় প্রোটিনের বিপাকের ফলে ভালো ব্যাকটেরিয়া ধরে রাখে। যার ফলে পেটের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ভাতে এ ধরনের সুবিধা নেই।

img

জেনে নিন জাম খাওয়ার ৯ উপকারিতা

প্রকাশিত :  ১৩:২৭, ২১ জুন ২০২৪

গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফল জাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। বাজার ছেয়ে গেছে জামে। মৌসুমি ফলটি নিয়মিত খেতে পারলে পাওয়া যায় অনেক পুষ্টিগুণ। ১০০ গ্রাম জামে থাকে ৬২ ক্যালোরি, ১৫.৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১.৫ গ্রাম ফাইবার, ১৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১.৪২ মিলিগ্রাম আয়রন, ৫৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম।  মিলিগ্রাম। জেনে নিন জাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

ভিটামিন সি, আয়রন এবং অ্যান্থোসায়ানিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চমৎকার উৎস জাম, যা ফলটিকে গাঢ় বেগুনি রঙ দেয়। জার্নাল অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। 

জামে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার, যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। জার্নাল অব এথনোফার্মাকোলজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জামে ট্যানিন এবং ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা প্রদাহ কমায় এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। 

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে সাহায্য করে জাম। ফলটিতে জ্যাম্বোলিন এবং জাম্বোসিনের মতো যৌগ রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে। মেডিসিনাল ফুড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, এই যৌগগুলো স্টার্চকে চিনিতে রূপান্তরকে ধীর করতে সাহায্য করে।

গ্রীষ্মের রোদ আমাদের ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তীব্র রোদে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। জামে থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং অ্যাস্ট্রিনজেন্ট বৈশিষ্ট্য আমাদের ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এই সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন জার্নালের একটি গবেষণায বলছে, জাম ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং দাগ কমায়। 

জামে থাকা ভিটামিন সি এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষণা অনুসারে, এই পুষ্টি উপাদানগুলো শ্বেত রক্ত ​​​​কোষের উৎপাদন বাড়ায়, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যারা বাড়তি ওজন কমাতে চাইছেন তাদের জন্য দুর্দান্ত ফল জাম। ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি এতে, যা আমাদের দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে ও সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণ কমায়। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড সায়েন্সেস অ্যান্ড নিউট্রিশনের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, জামে থাকা ফাইবার শুধু হজমেই সাহায্য করে না, ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

জাম আমাদের হার্টের জন্যও উপকারী। এতে রয়েছে পটাসিয়াম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। জার্নাল অব কার্ডিওভাসকুলার ফার্মাকোলজি অ্যান্ড থেরাপিউটিকসে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, জামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে সার্বিক কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভালো থাকে

গ্রীষ্মের তাপের কারণে ডিহাইড্রেশন হয় এবং শরীরে টক্সিন জমা হয়। জাম প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এটিতে উচ্চমাত্রায় পানি রয়েছে এবং মূত্রবর্ধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে এবং আমাদের হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে। জার্নাল অব ট্র্যাডিশনাল অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিনের একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাম লিভার এবং কিডনি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। 

জাম আমাদের দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। জামের অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট বৈশিষ্ট্য মুখের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য উপকারী। দ্য জার্নাল অব ন্যাচারাল সায়েন্স, বায়োলজি এবং মেডিসিন বলছে,  জামের ব্যাকটেরিয়ারোধী বৈশিষ্ট্য মাড়ির রোগ এবং নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।