img

ঘরোয়া সহজ ব্যায়ামে কমিয়ে ফেলুন ভুঁড়ি

প্রকাশিত :  ০৯:১২, ১৬ আগষ্ট ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:১৯, ১৬ আগষ্ট ২০২৫

ঘরোয়া সহজ ব্যায়ামে কমিয়ে ফেলুন ভুঁড়ি

ওজন বাড়ছে দিনের পর দিন , অথচ সময় নেই জিমে যাওয়ার বা দীর্ঘ ব্যায়াম করার? কেবল খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনেও মনমতো ফল মিলছে না? আপনার জন্য হতে পারে একমাত্র সমাধান—স্কোয়াট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট স্কোয়াট করলে শরীরের জমে থাকা মেদ কমার পাশাপাশি পুরো শরীরেও আসবে দৃশ্যমান পরিবর্তন।

ব্যস্ত জীবনে ব্যায়ামের সময় বের করা কঠিন। কিন্তু গবেষণা বলছে, সময় যত কমই হোক, শরীরচর্চা বাদ দেওয়া উচিত নয়। আর এক্ষেত্রে স্কোয়াট হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ ব্যায়াম। ঘরে বসেই, যেকোনো জায়গায় স্কোয়াট করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু নিয়মিত অনুশীলনের।

কীভাবে করবেন স্কোয়াট?

চেয়ারে বসার ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে হাঁটু ভাঁজ করে নিচের দিকে যান, কোমর ও পিঠ সোজা রাখুন। হাত দুটো সামনে সোজা করে রাখুন। এভাবে উঠা-নামা করুন ৫ মিনিট ধরে।

    পেশির কাজ বাড়িয়ে ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে।

    বিশেষ করে কোমর ও পায়ের পেশি শক্তিশালী হয়।

    পিঠ ও কোমরের আকৃতি ঠিক রাখতে সাহায্য করে, অ্যাবস তৈরি হয়।

    রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখে।

    লিপিড মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে ও ফ্যাট কমায়।

    হাঁটা-দৌড়ের ক্ষমতা বাড়ে, ব্যথা বা টান কমে।

কেন স্কোয়াট করবেন? 

লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, “রোজকার এই ছোট্ট অভ্যাসটিই হতে পারে বড় পরিবর্তনের সূচনা।” যারা নিয়মিত স্কিপিং বা দৌড়াতে পারেন না, তাদের জন্য স্কোয়াট হচ্ছে এক দুর্দান্ত বিকল্প। শুধু ওজন কমানো নয়, বরং ফিটনেস ধরে রাখার ক্ষেত্রেও স্কোয়াটের ভূমিকা অনন্য।

প্রতিদিন ৫–১০ মিনিট স্কোয়াট করুন। শুরুতে ধীরে করুন, পরে সময় ও সংখ্যা বাড়ান।  খালি পেটে নয়, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা পরে করুন। হাড় বা হাঁটুজনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


img

পান্তা ভাতে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রকাশিত :  ১০:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পান্তা ভাত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবেও পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

এক সময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে পান্তা ভাত দারুণ কাজ করে শরীরে। এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ খাবারে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যারা তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। 

পান্তা ভাতকে অনেকেই শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে মনে করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতেও শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানিয়েছে, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। তিনি জানান,  পান্তা ভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২। 

এ পুষ্টিবিদ আরও জানান, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে যেখানে প্রায় ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ পান্তা ভাতে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়- সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম থাকলেও পান্তা ভাতে তা প্রায় ৮৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তাই গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।