img

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে যা জানা জরুরি

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে যা জানা জরুরি

পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা আর সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম চোখ । অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে আমরা চোখের যত্ন নেওয়ার কথাই সবচেয়ে কম ভাবি। যতক্ষণ না লেখা ঝাপসা হয়ে আসে, কিংবা কাছের কিছু পড়তে হাত অজান্তেই দূরে সরে যায়—ততক্ষণ চোখের গুরুত্ব যেন আমাদের চোখেই পড়ে না।

বাইবেলে চোখকে বলা হয়েছে ‘শরীরের প্রদীপ’।

চোখ সুস্থ থাকলে জীবন আলোকিত, আর চোখ দুর্বল হলে সেই আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের সেন্টার ফর আই রিসার্চের ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক লরেন আইটনের মতে,

অন্ধত্ব একটি ভয়ংকর প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—প্রায় ৯০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস হয় প্রতিরোধযোগ্য, নয়তো চিকিৎসাযোগ্য। অন্য অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার মতোই, চোখ ভালো রাখতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সক্রিয় জীবনধারা এবং নিয়মিত পরীক্ষা।

বর্তমানে সারা বিশ্বে শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতি তিনজন শিশুর একজন এখন এই সমস্যায় ভুগছে। এর সুনির্দিষ্ট কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও গবেষণায় দেখা যায়, স্ক্রিন টাইম এখানে একটি ভূমিকা রাখে—যদিও সরাসরি নয়।

চল্লিশের মাঝামাঝি বয়সে অনেকেই হঠাৎ টের পান, কাছের লেখা পড়তে হলে হাত বাড়াতে হচ্ছে।

চোখের ডাক্তাররা মজা করে একে বলেন ‘আমার হাত খুব ছোট’ সিনড্রোম। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় প্রেসবায়োপিয়া—এটি বয়সজনিত এবং পুরোপুরি অনিবার্য।

অনেকেই মনে করেন, স্ক্রিনের দিকে তাকালেই চোখ নষ্ট হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ক্রিন নিজে থেকেই চোখের সবচেয়ে বড় শত্রু—এমন প্রমাণ খুব জোরালো নয়। আসল সমস্যা হলো, স্ক্রিন আমাদের চোখের জন্য উপকারী অনেক কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য বাইরে সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি। সূর্যের আলো চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে। ধারণা করা হয়, সূর্যালোক চোখে ডোপামিন নিঃসরণে ভূমিকা রাখে, যা চোখের সুস্থ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়। তাছাড়া বাইরে থাকলে চোখ দূরের জিনিসে ফোকাস করার সুযোগ পায়—যা ঘরের ভেতরে স্ক্রিনের সামনে বসে সম্ভব নয়।

তাইবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ১–২ ঘণ্টা বাইরে সময় কাটানো শিশুদের নিকটদৃষ্টির অগ্রগতি কমাতে কার্যকর।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স শক্ত হয়ে যায়, ফলে কাছের জিনিসে ফোকাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি প্রতিরোধ করা যায় না। চশমাই এর একমাত্র সমাধান, আর চশমা পরলে চোখ আরও দুর্বল হয়ে যায়—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যেতে পারে। এটি প্রতিরোধযোগ্য না হলেও, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি চিকিৎসা সম্ভব।

নীরবে দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া রোগ

গ্লুকোমা এবং বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন—এই দুটি রোগ শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে স্থায়ী দৃষ্টিহানি ঘটায়।

গ্লুকোমা অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর ম্যাকুলার ডিজেনারেশন চোখের পেছনের রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশে প্রভাব ফেলে।

এই রোগগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আগাম শনাক্তকরণ। দেরিতে ধরা পড়লে যে দৃষ্টিশক্তি হারায়, তা আর ফেরানো যায় না।

সুস্থ চোখের জন্য বিশেষজ্ঞদের ‘তিনটি ও(0)’

অফ স্ক্রিন – অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমান

আউটডোর – নিয়মিত বাইরে সময় কাটান

অপটোমেটরিস্ট – নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান

৬০ বছরের নিচে হলে প্রতি ২–৩ বছর পরপর চোখ পরীক্ষা যথেষ্ট। ৬০ পেরোলেই পরীক্ষার ব্যবধান কমানো জরুরি।

চোখের যত্ন মানে শুধু চশমা পরা নয়—এটা পুরো জীবনযাপনের অংশ। আজ একটু সচেতন হলে, ভবিষ্যতের দৃষ্টি হবে আরও পরিষ্কার, উজ্জ্বল আর নির্ভরযোগ্য।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।