img

কাঁঠালের বিচি দিয়েই বানিয়ে নিন মজাদার সন্দেশ

প্রকাশিত :  ০৭:৩২, ০৩ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪০, ০৩ আগষ্ট ২০২৬

কাঁঠালের বিচি দিয়েই বানিয়ে নিন মজাদার সন্দেশ

কাঁঠালের বিচি দিয়েও তৈরি করা যায় সুস্বাদু, নরম, সুগন্ধি ও পুষ্টিকর এক ব্যতিক্রমী মিষ্টান্ন—কাঁঠালের বিচির সন্দেশ। সহজলভ্য এই উপাদান দিয়ে ঘরেই স্বাস্থ্যকর ও ভিন্ন স্বাদের এ মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব, যা ইতোমধ্যে খাবারপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

ঘরে থাকা সহজ উপকরণ আর কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই তৈরি হবে ভিন্ন স্বাদের এই ঘরোয়া মিষ্টি। যা বিকেলের নাশতা বা অতিথি আপ্যায়নে হতে পারে দারুণ চমক।

যেভাবে তৈরি করবেন কাঁঠালের বিচির সন্দেশ

প্রথমে কাঁঠালের বিচির খোসা ছাড়িয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিন। ঠান্ডা হলে এর বাদামি আবরণ সরিয়ে ফেলুন। এরপর বিচিগুলো ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।

এবার সেই পেস্টের সঙ্গে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে নিন। একটি ননস্টিক প্যানে সামান্য ঘি গরম করে তাতে মিশ্রণটি দিন।

এরপর চিনি মিশিয়ে মাঝারি আঁচে প্রায় ১০ মিনিট নেড়ে রান্না করুন। ধীরে ধীরে মিশ্রণটি ঘন হয়ে প্যানের গা ছেড়ে উঠতে শুরু করবে।

চুলা বন্ধ করে শেষে এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। তারপর মিশ্রণটি একটি পাত্রে ঢেলে ঠান্ডা হতে দিন।

ঠান্ডা হয়ে গেলে পছন্দমতো আকারে কেটে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু কাঁঠালের বিচির সন্দেশ।

এই সন্দেশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে ৪–৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। কাঁঠালের বিচি পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন হিসেবেও বিবেচিত।


img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।