img

এসি ঘরে থাকলে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১১:৫০, ১২ এপ্রিল ২০২৬

এসি ঘরে থাকলে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

ত্বকের জন্য এসির আরামদায়ক আবহাওয়া অজান্তেই  ডেকে আনতে পারে নানা সমস্যা।

গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এখন অনেকেই দীর্ঘ সময় কাটান এসি কক্ষে। বাইরে প্রখর রোদ হলেও ভেতরে থাকে ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। তবে এই আরামদায়ক আবহাওয়াই অজান্তে ত্বকের জন্য ডেকে আনতে পারে নানা সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এসি পরিবেশে থাকলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং সংবেদনশীলতাও বেড়ে যেতে পারে। কারণ এসি চলার ফলে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়, এতে ত্বকের স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারিয়ে যায়। ফলে ত্বক টানটান লাগে, রুক্ষ হয়ে ওঠে, এমনকি সূক্ষ্ম রেখাও স্পষ্ট হতে শুরু করে। তাই এসি ঘরে থাকলে নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি কিছু বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার বাড়ান

এসি ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়, তাই দিনে কয়েকবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। জেল নয়, বরং ক্রিম-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার বেশি কার্যকর হতে পারে।

হাইড্রেটিং ক্লিনজার ব্যবহার করুন

অনেক ফেসওয়াশ ত্বক আরও শুষ্ক করে তোলে। তাই এমন ক্লিনজার বেছে নিন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল পুরোপুরি সরিয়ে দেয় না।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

ত্বক ভালো রাখতে ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।  

ফেস মিস্ট বা টোনার ব্যবহার

এসি ঘরে বসেও মাঝে মাঝে ফেস মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

রাতের যত্নে গুরুত্ব দিন

ঘুমানোর আগে হাইড্রেটিং সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নিজেকে পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। পাশাপাশি হাত-পায়েও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে এর ওপর হালকা বডি অয়েল বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

সতর্কতা

এসি খুব কম তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় চালিয়ে রাখা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরম থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে প্রবেশ করলেও ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখাই ভালো।

সবশেষে মনে রাখবেন, পরিবেশভেদে ত্বকের যত্নের ধরন বদলাতে হয়। তাই এসির আরাম উপভোগ করলেও ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।


img

ঠোঁট ফাটছে শীতের আগেই ? জেনে নিন প্রতিকার

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

অনেকের ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দেওয়ার সমস্যা দেখা দেয় শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই । আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরে পানির ঘাটতি, বারবার ঠোঁট চাটা এবং কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারেও এমনটা হতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।

মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক বেশ পাতলা। এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিও প্রায় নেই। এ কারণে ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। সঠিক যত্নের অভাবে এই শুষ্কতা থেকে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হতে পারে।

কেন ফাটছে ঠোঁট?

আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, শুষ্ক বাতাস এবং তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমতে পারে। ফলে শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়।

বারবার ঠোঁট চাটা: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে তা ভেজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এতে ফাটল ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

পানির ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে ঠোঁটসহ মুখের বিভিন্ন অংশ শুষ্ক হতে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটার লক্ষণ দেখেই শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

প্রসাধনী ও টুথপেস্টের প্রভাব: কিছু লিপস্টিক, লিপবাম, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী এবং টুথপেস্টের উপাদান ঠোঁটে অ্যালার্জি বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এসব পণ্য ব্যবহারের পর ঠোঁটে জ্বালাপোড়া কিংবা শুষ্কতা বাড়লে সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

পুষ্টির ঘাটতি: কিছু ক্ষেত্রে আয়রন, ভিটামিন বি১২সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে ঠোঁটের সমস্যা, বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে ফাটলের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই পুষ্টির ঘাটতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

 ত্বকের রোগ বা সংক্রমণ: দীর্ঘদিন ধরে ঠোঁট ফাটা, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি কিংবা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণের মতো কারণও থাকতে পারে।

ঠোঁট ফাটা কমাতে করণীয়

নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার: ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা সাধারণ লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগালে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ঠোঁট চাটা থেকে বিরত থাকুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা বন্ধ করতে হবে। এসব অভ্যাস ঠোঁটের ত্বকে ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় পানি পান না করে থাকা এড়িয়ে চলুন। তবে ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে শুধু পানি পান নয়, বাইরে থেকে ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ থেকে সুরক্ষা: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিও ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগাতে হবে।

জ্বালাপোড়া তৈরি করে এমন পণ্য পরিহার: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি কিংবা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত কিছু পণ্য ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর জ্বালা বা শুষ্কতা অনুভূত হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন ?

সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁটের ফাটল না কমলে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ঠোঁটে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ, ক্ষত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল দেখা দিলে এর অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

ঠোঁট ফাটাকে সামান্য সমস্যা মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার, ঠোঁট চাটার অভ্যাস পরিহার এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী প্রসাধনী এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।