img

চুলের যত্নে তিলের তেল কতটা উপকারী?

প্রকাশিত :  ০৭:১১, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চুলের যত্নে তিলের তেল কতটা উপকারী?

চুলের যত্নে প্রাচীনকাল থেকেই তিলের তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চুল ও মাথার ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগাতে এই তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করলে চুলের একাধিক সমস্যা দূর হয়।

তিলের তেলে থাকা ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই তেল মাথায় মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। এর ফলে চুল দ্রুত বাড়তে পারে।

যারা খুশকি বা শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য তিলের তেল খুবই উপকারী। এই তেলে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তিলের তেল চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। এর ফলে চুল হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।

অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পাকে। এ সমস্যা কমাতে তিলের তেল কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের ক্ষতি কমায়। যারা নিয়মিত হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করেন, তাদের জন্য তিলের তেল চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার করবেন যেভাবে 

তিলের তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হতে পারে। এজন্য প্রথমে কনুইয়ের ভাঁজে বা কানের পেছনে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।

হালকা গরম করে তিলের তেল ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। খুব জোরে ঘষাঘষি ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। এই তেল সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। 

কখন মাখবেন

তিলের তেল সারারাত মাথায় রেখে দেওয়া উপকারী। তবে যাদের মাথার ত্বক খুব তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণ, তারা ১–২ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। 


img

হাটে হঠাৎ কোরবানির গরু জ্ঞান হারালে করণীয় কী

প্রকাশিত :  ১৫:০৪, ২৩ মে ২০২৬

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বহু পরিশ্রম আর পরম মমতায় লালন-পালন করা হয় গবাদিপশু। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খামারিরা আদরযত্নে নিজের প্রাণপ্রিয় গরু বা ছাগলটিকে করেন কোরবানি উপযোগী।

স্বপ্নসাধ পূরণে আপন ঠিকানা ছেড়ে প্রিয় প্রাণীটিকে নিয়ে পাড়ি দেন খামারিরা দূরদূরান্তে কোরবানির পশুর হাটে। কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় তাঁদের পড়তে হয় অনাকাঙ্ক্ষিত-অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে। কারণ, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় কিংবা তীব্র শীতে বৈরী আবহাওয়ায় তাঁদের সঙ্গে থাকা কোনো কোনো গরু অসুস্থ হয়ে যায়। কোনোটির হয় জ্বর, কোনোটির হয় খিঁচুনি। হারিয়ে ফেলে জ্ঞান। দ্রুত চিকিৎসা না করালে লাখ টাকার রঙিন স্বপ্ন মুহূর্তেই হয়ে যায় ধূসর।

এখন দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে গরুর অসুস্থতার ঘটনাও অনেক ঘটছে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রচণ্ড গরমে গরু বা অন্য গবাদিপশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে যায়। এই অবস্থায় দূরপথ পাড়ি দিয়ে গরু আনার সময় ট্রাকে বা নৌযানের কাপড় বা ত্রিপলের ছাউনি রাখতে হবে। সঙ্গে অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ, স্যালাইন, থার্মোমিটার রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গরুর মুখ দিয়ে লালা ঝরে কি না। আবার অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হয় কি না। হাতে তালুর পেছনের অংশ দিয়ে গরুর কানের পেছনে তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। আরও নিশ্চিত হতে গরুর পায়ুপথের মুখে থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপতে হবে। কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করাতে হবে। হাটে আনার পথে জ্ঞান হারালে পানি ছিটাতে হবে বলে জানান ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাটে আনার পরপরই কোনো কোনো গরু জ্ঞান হারায়। তখন দ্রুত স্যালাইন পান করাতে হবে। এ জন্য নরমাল খাবার স্যালাইন পানিতে মিলিয়ে দিতে হবে। প্রতি ১ লিটার পানিতে ২ প্যাকেট স্যালাইন দিতে হবে। ক্লান্ত গরুর শক্তি জোগাতে ভিটামিন ও গ্লুকোজ-সমৃদ্ধ ওষুধ প্রাণিচিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।