img

পেঁয়াজের গুণেই বাড়বে ত্বকের স্নিগ্ধতা

প্রকাশিত :  ১২:১১, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পেঁয়াজের গুণেই বাড়বে ত্বকের স্নিগ্ধতা

বহুকাল থেকে চুলের পরিচর্যায় পেঁয়াজের ব্যবহার হয়ে আসছে । ঝাঁজাল গন্ধ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই স্ক্যাল্পে পেঁয়াজের রস মেখে থাকেন নতুন চুল গজানোর আশায়।

আর নারিকেল তেলের সঙ্গে পেঁয়াজের রস মাখলেও কাজ হয়। কারণ এ সবজিতে রয়েছে সালফার। এই উপাদানটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এবং হেয়ার ফলিকল মজবুত করে। কিন্তু সেই পেঁয়াজ যদি কেউ মুখে মাখতে বলেন? এ কথা শুনেই অনেকে নাক সিটকাবেন। 

এ বিষয়ে রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পেঁয়াজের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের জেল্লা এবং তারুণ্য ধরে রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে থাকে। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক, যেভাবে পেঁয়াজ মাখলে ত্বক হবে আরও উজ্জ্বল ও মসৃণ—

১. পেঁয়াজের রস ও মধু

পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই প্যাক মুখে মেখে ফেলুন। মিনিট দশেক রেখে ভালো করে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক মাখলে যেমন ত্বকের পোরস পরিষ্কার হবে, ঠিক তেমনই বাড়বে রক্ত সঞ্চালন।

২. পেঁয়াজের রস ও টকদই

পেঁয়াজের রসের সঙ্গে যদি টকদই মিশিয়ে মুখে মাখেন, সে ক্ষেত্রে আলাদা করে আর এক্সফোলিয়েট করার প্রয়োজন পড়বে না। ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ সহজেই উঠে আসবে। ত্বকে জেল্লাও বাড়বে।

৩. পেঁয়াজের রস ও লেবু

হাতে সময় কম। চটজলদি ত্বকে জেল্লা আনতে চাইলে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এই মিশ্রণ মুখে মেখে নিন। মিনিট দশেক অপেক্ষা করুন। তার পর ধুয়ে ফেলুন। তবে ত্বক যদি স্পর্শকাতর হয়, সে ক্ষেত্রে এই প্যাক না মাখাই ভালো।

৪. পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা

শুষ্ক খসখসে ত্বকে জেল্লা বৃদ্ধি করতে পেঁয়াজের রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন অ্যালোভেরা। তাতে যেমন ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে, ঠিক তেমন ত্বকও উজ্জ্বল হবে।

৫. পেঁয়াজের রস ও বেসন

তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা? পেঁয়াজের রস এবং বেসন একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এরপর এই প্যাক মুখে মেখে ফেলুন। ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এ মিশ্রণ। স্কিনের টেক্সচারও ভালো হয়।


img

পান্তা ভাতে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রকাশিত :  ১০:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পান্তা ভাত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবেও পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

এক সময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে পান্তা ভাত দারুণ কাজ করে শরীরে। এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ খাবারে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যারা তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। 

পান্তা ভাতকে অনেকেই শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে মনে করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতেও শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানিয়েছে, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। তিনি জানান,  পান্তা ভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২। 

এ পুষ্টিবিদ আরও জানান, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে যেখানে প্রায় ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ পান্তা ভাতে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়- সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম থাকলেও পান্তা ভাতে তা প্রায় ৮৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তাই গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।