img

পান্তা ভাতে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রকাশিত :  ১০:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পান্তা ভাতে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

পান্তা ভাত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবেও পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

এক সময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে পান্তা ভাত দারুণ কাজ করে শরীরে। এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ খাবারে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যারা তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। 

পান্তা ভাতকে অনেকেই শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে মনে করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতেও শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানিয়েছে, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। তিনি জানান,  পান্তা ভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২। 

এ পুষ্টিবিদ আরও জানান, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে যেখানে প্রায় ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ পান্তা ভাতে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়- সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম থাকলেও পান্তা ভাতে তা প্রায় ৮৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তাই গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।


img

ধূমপান ছাড়তে চান? জানুন ৪ সহজ উপায়

প্রকাশিত :  ১০:১৫, ০৪ জুন ২০২৬

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি। দিবসটি উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগে সহায়ক কিছু সহজ উপায়। 

ধূমপান বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসকদের মতে, তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তনালিজনিত নানা সমস্যার সঙ্গেও ধূমপানের সম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ধূমপান ছাড়তে হলে জীবনযাপনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা জরুরি। হঠাৎ করে অভ্যাস ত্যাগ না করে ধীরে ধীরে সিগারেটের পরিমাণ কমিয়ে আনা তুলনামূলকভাবে কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের দেওয়া চারটি কার্যকর উপায় হলো—

১. চকলেট ও চুইংগাম ব্যবহার

হঠাৎ ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা হলে চকলেট বা চুইংগাম খেলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং আকাঙ্ক্ষা কিছুটা কমে।

২. কিছু পানীয় এড়িয়ে চলা

চা, কফি বা মদ্যপানের সঙ্গে অনেকের ধূমপানের অভ্যাস জড়িয়ে থাকে। তাই এগুলো কমালে বা এড়িয়ে চললে ধূমপানের ইচ্ছাও অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।

৩. মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সময় মানসিক চাপ একটি বড় বাধা। এ ক্ষেত্রে মনোবিদ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া, গ্রুপ থেরাপি বা পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উপকারী হতে পারে।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার

প্রয়োজনে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি বা নন-নিকোটিন ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এগুলো অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ধূমপান ছাড়ার পর আবার এই অভ্যাসে ফিরে গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই সিদ্ধান্তে স্থির থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিজেকে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখা ধূমপানমুক্ত জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করে।