img

গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাবে যেসব খাবার

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ০২ জুন ২০২৬

গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাবে যেসব খাবার

চলমান তাপপ্রবাহে বাড়ছে দেশজুড়ে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু গরমে অস্বস্তি নয়, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে থাকলে ডিহাইড্রেশন, হিট এক্সহশন, মাসল ক্র্যাম্প, এমনকি হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, গাঢ় হলুদ প্রস্রাব, খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এসব উপসর্গ হিটস্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে। তাপপ্রবাহের সময়ে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং তাপজনিত অসুস্থতা এড়াতে কিছু খাবার ও পানীয় বিশেষভাবে উপকারী।

ঘোল ও লাচ্ছি

গরমের দিনে ঘোল ও লাচ্ছি হতে পারে শরীর ঠান্ডা রাখার কার্যকর পানীয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বাড়িতে তৈরি ঘোল বা লাচ্ছি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। রাস্তার পাশের খোলা দোকানের শরবত বা পানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ডাবের পানি

প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের অন্যতম উৎস ডাবের পানি। এতে থাকা খনিজ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। তীব্র গরমে নিয়মিত ডাবের পানি পান শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

লেবুর শরবত

গরমে স্বস্তি পেতে ঘরে তৈরি লেবুর শরবতের জুড়ি নেই। এক চিমটি লবণ মিশিয়ে তৈরি করা লেবুর শরবত শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তরমুজ

পানিসমৃদ্ধ ফল হিসেবে তরমুজ গ্রীষ্মের অন্যতম উপকারী খাবার। শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও ভূমিকা রাখে। নিয়মিত তরমুজ খেলে তাপজনিত বিভিন্ন সমস্যা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।

শসা

শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরকে শীতল রাখতে কার্যকর। সালাদ, রায়তা কিংবা শুধু লবণ দিয়ে, যেকোনোভাবেই শসা খাওয়া যায়। গরমের সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখলে শরীর সতেজ থাকে এবং পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।


img

ঠোঁট ফাটছে শীতের আগেই ? জেনে নিন প্রতিকার

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

অনেকের ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দেওয়ার সমস্যা দেখা দেয় শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই । আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরে পানির ঘাটতি, বারবার ঠোঁট চাটা এবং কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারেও এমনটা হতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।

মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক বেশ পাতলা। এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিও প্রায় নেই। এ কারণে ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। সঠিক যত্নের অভাবে এই শুষ্কতা থেকে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হতে পারে।

কেন ফাটছে ঠোঁট?

আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, শুষ্ক বাতাস এবং তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমতে পারে। ফলে শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়।

বারবার ঠোঁট চাটা: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে তা ভেজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এতে ফাটল ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

পানির ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে ঠোঁটসহ মুখের বিভিন্ন অংশ শুষ্ক হতে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটার লক্ষণ দেখেই শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

প্রসাধনী ও টুথপেস্টের প্রভাব: কিছু লিপস্টিক, লিপবাম, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী এবং টুথপেস্টের উপাদান ঠোঁটে অ্যালার্জি বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এসব পণ্য ব্যবহারের পর ঠোঁটে জ্বালাপোড়া কিংবা শুষ্কতা বাড়লে সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

পুষ্টির ঘাটতি: কিছু ক্ষেত্রে আয়রন, ভিটামিন বি১২সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে ঠোঁটের সমস্যা, বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে ফাটলের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই পুষ্টির ঘাটতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

 ত্বকের রোগ বা সংক্রমণ: দীর্ঘদিন ধরে ঠোঁট ফাটা, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি কিংবা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণের মতো কারণও থাকতে পারে।

ঠোঁট ফাটা কমাতে করণীয়

নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার: ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা সাধারণ লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগালে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ঠোঁট চাটা থেকে বিরত থাকুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা বন্ধ করতে হবে। এসব অভ্যাস ঠোঁটের ত্বকে ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় পানি পান না করে থাকা এড়িয়ে চলুন। তবে ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে শুধু পানি পান নয়, বাইরে থেকে ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ থেকে সুরক্ষা: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিও ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগাতে হবে।

জ্বালাপোড়া তৈরি করে এমন পণ্য পরিহার: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি কিংবা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত কিছু পণ্য ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর জ্বালা বা শুষ্কতা অনুভূত হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন ?

সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁটের ফাটল না কমলে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ঠোঁটে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ, ক্ষত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল দেখা দিলে এর অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

ঠোঁট ফাটাকে সামান্য সমস্যা মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার, ঠোঁট চাটার অভ্যাস পরিহার এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী প্রসাধনী এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।