img

একটানা নয়, দুই দফায় ঘুমানোর পরামর্শ

প্রকাশিত :  ১০:৩৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

একটানা নয়, দুই দফায় ঘুমানোর পরামর্শ

আমরা সুস্থ থাকার আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে টানা আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টাকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিয়েছি। তবে ইতিহাস ও বিজ্ঞানের গভীর বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমাদের পূর্বপুরুষদের ঘুমের ধরণ ছিল বর্তমানের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং বৈচিত্র্যময়।

‘বাইফ্যাসিক স্লিপ’ বা দ্বিখণ্ডিত ঘুমের অসংখ্য প্রমাণ মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় সাহিত্য থেকে শুরু করে ভিক্টোরিয়ান যুগের বিভিন্ন নথিতে পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদ রজার একির্চ প্রায় ৫০০টিরও বেশি ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, শিল্প বিপ্লবের আগে মানুষ মূলত দুই দফায় ঘুমাতে অভ্যস্ত ছিল। এই প্রাচীন জীবনধারায় মানুষ সূর্যাস্তের পরপরই বিছানায় যেত এবং রাত ১০টা বা ১১টার দিকে তাদের ‘প্রথম ঘুম’ ভেঙে যেত।

প্রথম দফার এই ঘুম ভাঙার পর মানুষের জীবনে ‘ওয়াচিং’ বা জেগে থাকার একটি বিশেষ বিরতি আসত যা প্রায় ঘণ্টা দুয়েক স্থায়ী হতো। এই সময়টুকুতে মানুষ অলস বসে না থেকে ঘরের টুকটাক কাজ, পড়াশোনা, প্রতিবেশী বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্পগুজব এবং ধর্মীয় উপাসনা করত। মধ্যরাতের এই বিরতি শেষে তারা পুনরায় ‘দ্বিতীয় ঘুমে’ তলিয়ে যেত এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত সেই বিশ্রাম চলত। 

বিজ্ঞানীদের মতে, কৃত্রিম আলোর অনুপস্থিতিতে মানুষের শরীর মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণকে ভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করত বলেই এমনটি হতো। নব্বইয়ের দশকে মনোবিজ্ঞানী টমাস ওয়্যারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষকে দীর্ঘ সময় অন্ধকারে রাখা হলে তাদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই এই দ্বিখণ্ডিত ঘুমের প্যাটার্নে ফিরে যায়।

এই দুই ঘুমের মধ্যবর্তী সময়ে মানবদেহে ‘প্রোল্যাকটিন’ নামক এক ধরনের হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত এবং অত্যন্ত সৃজনশীল করে তোলে। আধুনিক যুগের অনেক অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার রোগী আসলে এই প্রাচীন জৈবিক ঘড়ির প্যাটার্নেই আটকে আছেন, যা বর্তমানের যান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খায় না। 

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে ইউরোপে রাস্তার আলোর প্রচলন এবং পরবর্তীকালে শিল্প বিপ্লবের ফলে কৃত্রিম আলোর বিস্তার মানুষের এই আদিম অভ্যাসকে বদলে দেয়। কফি পানের সংস্কৃতি এবং রাত জেগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা ঘুমের সেই মধ্যবর্তী সৃজনশীল বিরতিটুকুকে চিরতরে হারিয়ে দেয়।

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, আট ঘণ্টার টানা ঘুমের প্রথা আসলে একটি সমকালীন উদ্ভাবন যা অনেক সময় আমাদের ডিএনএ-তে থাকা আদিম অভ্যাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। বিশেষ করে ছাত্র, গবেষক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য এই মধ্যবর্তী জেগে থাকার সময় বা ‘ওয়াচ’ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। 

ইতিহাসের এই বাঁক আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্রামের কোনো ধরাবাঁধা গাণিতিক নিয়ম নেই। বরং প্রকৃতির ছন্দের সঙ্গে শরীরকে মিলিয়ে নেওয়াই ছিল মানুষের প্রকৃত স্বভাব। এই আদিম জৈবিকতাকে যদি বর্তমানের সৃজনশীল কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা আমাদের চিন্তাশক্তিকে আরও শাণিত করতে পারে।


img

ঠোঁট ফাটছে শীতের আগেই ? জেনে নিন প্রতিকার

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

অনেকের ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দেওয়ার সমস্যা দেখা দেয় শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই । আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরে পানির ঘাটতি, বারবার ঠোঁট চাটা এবং কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারেও এমনটা হতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।

মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক বেশ পাতলা। এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিও প্রায় নেই। এ কারণে ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। সঠিক যত্নের অভাবে এই শুষ্কতা থেকে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হতে পারে।

কেন ফাটছে ঠোঁট?

আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, শুষ্ক বাতাস এবং তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমতে পারে। ফলে শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়।

বারবার ঠোঁট চাটা: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে তা ভেজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এতে ফাটল ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

পানির ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে ঠোঁটসহ মুখের বিভিন্ন অংশ শুষ্ক হতে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটার লক্ষণ দেখেই শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

প্রসাধনী ও টুথপেস্টের প্রভাব: কিছু লিপস্টিক, লিপবাম, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী এবং টুথপেস্টের উপাদান ঠোঁটে অ্যালার্জি বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এসব পণ্য ব্যবহারের পর ঠোঁটে জ্বালাপোড়া কিংবা শুষ্কতা বাড়লে সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

পুষ্টির ঘাটতি: কিছু ক্ষেত্রে আয়রন, ভিটামিন বি১২সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে ঠোঁটের সমস্যা, বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে ফাটলের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই পুষ্টির ঘাটতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

 ত্বকের রোগ বা সংক্রমণ: দীর্ঘদিন ধরে ঠোঁট ফাটা, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি কিংবা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণের মতো কারণও থাকতে পারে।

ঠোঁট ফাটা কমাতে করণীয়

নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার: ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা সাধারণ লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগালে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ঠোঁট চাটা থেকে বিরত থাকুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা বন্ধ করতে হবে। এসব অভ্যাস ঠোঁটের ত্বকে ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় পানি পান না করে থাকা এড়িয়ে চলুন। তবে ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে শুধু পানি পান নয়, বাইরে থেকে ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ থেকে সুরক্ষা: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিও ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগাতে হবে।

জ্বালাপোড়া তৈরি করে এমন পণ্য পরিহার: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি কিংবা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত কিছু পণ্য ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর জ্বালা বা শুষ্কতা অনুভূত হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন ?

সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁটের ফাটল না কমলে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ঠোঁটে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ, ক্ষত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল দেখা দিলে এর অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

ঠোঁট ফাটাকে সামান্য সমস্যা মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার, ঠোঁট চাটার অভ্যাস পরিহার এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী প্রসাধনী এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।