img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৭:৩৭, ১৫ মার্চ ২০২৬

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

img

পেট ভরে খাওয়ার পরও কেন ক্ষুধা লাগে?

প্রকাশিত :  ১০:৪৫, ০৩ মে ২০২৬

খাওয়া ভরপেট হলেও কিছুক্ষণ পর ফের খিদে লাগছে। অনেকেই বলছেন, এ অনুভূতির কথা।’ তবে বিশেষজ্ঞরা কিছু কারণের কথা বলছেন ক্ষুধা বাড়ার। খাদ্য কিছুক্ষণ পরেই ফের খেতে ইচ্ছা করা বা বেশি বেশি খাওয়ার পরেও আরও খেতে ইচ্ছা করা বেশি খিদে লাগার প্রধান লক্ষণ।

বার বার খিদে লাগার পাঁচ কারণ জেনে নিন-

কার্বোহাইড্রেট: রাতে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাদ্য খেলে কিছুক্ষণ পর ফের ক্ষুধা লাগতে পারে। যখন আমরা একসাথে বহু বেশি কার্বোহাইড্রেট খাই, তখন চিনির মতই তা খুব দ্রুত শরীর শুষে নেয়। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে পরিমিত আন-রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যেমন মিষ্টি আলু, বাদামি চাল, মাছ বা মুরগি, ব্রকলি কিংবা অন্যান্য সবজি খান।

কম ঘুম: ক্ষুধা বাড়াতে ঘুম অনেকটা প্রভাব ফেলে। কম ঘুম গ্রেলিন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ক্ষুধার উদ্দীপক। যার ফলে কম ঘুম ওজনও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভাল ঘুমের জন্য ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি পেশি রিল্যাক্স করে। সবুজ শাক, বাদাম, বীজ, মাছ, কলা ও চকোলেটে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।

তৃষ্ণা: বহু সময় তৃষ্ণাকে আমরা ক্ষুধার সাথে মিলিয়ে ফেলি। মাঝে মাঝে আমরা ক্ষুধার্ত বোধ করি কিন্তু ওই সময়ে শরীরে হয়তো প্রয়োজন এক থেকে দুই গ্লাস পানি। কিন্তু, ভরপেট খাদ্য খেয়ে ফেলি।

মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল: মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গেছে, নারীদের ক্ষুধা ও খাদ্য গ্রহণের মাত্রা বেড়ে যায়, তাদের মাসিক চক্রের দ্বিতীয়ার্ধে। ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক রাখতে ও ক্ষুধা নিবারণে প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন মাছ, ডিম, ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন প্রকার বীজ খান।

গর্ভকাল: গর্ভকালে ক্ষুধা বাড়ে, সাথে বাড়ে ক্যালরির চাহিদাও। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে, এ সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দিকে নজর রাখতে হবে। এ সময় রিফাইন্ড ও চিনিসমৃদ্ধ খাদ্য ত্যাগ করতে হবে।