img

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যে ৭ খাবার

প্রকাশিত :  ০৯:৫৪, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যে ৭ খাবার

ক্যান্সার হলো এমন একটি জটিল রোগ, যেখানে শরীরের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে এবং নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে ক্যান্সার বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। স্তন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার ও রক্তের ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এগুলো প্রাণঘাতী হিসেবেও পরিচিত। তবে কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে ক্যান্সার-বিরোধী গুণে সমৃদ্ধ এবং নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে-

১. ক্রুসিফেরাস শাক-সবজি

ফুলকপি, বাঁধাকপির পাশাপাশি ব্রকলির মতো শাক-সবজিতে সালফোরাফেন থাকে। এই যৌগটি শরীরকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে এবং টিউমারের বিকাশ রোধ করার সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

২. বেরি এবং রঙিন ফল

বেরি, সাইট্রাস ফল এবং ডালিম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল সমৃদ্ধ, যা আমাদের কোষগুলোকে ফ্রি র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

৩. টমেটো

টমেটো হলো লাইকোপিনের একটি প্রধান উৎস, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা প্রোস্টেট এবং স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে।

৪. হলুদ এবং অন্যান্য মসলা

হলুদ এবং অন্যান্য মসলায় কারকিউমিন থাকে, যা কোষের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অত্যন্ত কার্যকর প্রদাহ-বিরোধী পদার্থ হিসেবে কাজ করে।

৫. রসুন এবং পেঁয়াজ

রসুন এবং পেঁয়াজ বেশিরভাগ রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এই ঝাঁঝালো ভেষজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সালফার যৌগ ধারণ করে যা ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পরিচিত।

৬. গ্রিন টি

ওজন কমানোর জন্য গ্রিন টি খুবই উপযোগী। এই জনপ্রিয় পানীয়টিতে ক্যাটেচিনও থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন রোধ করতে পারে।

৭. আস্ত শস্য এবং ডাল

আঁশ সমৃদ্ধ এই খাবারগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।

img

চুলের যত্নে তিলের তেল কতটা উপকারী?

প্রকাশিত :  ১০:০১, ০৫ জুলাই ২০২৬

চুলের যত্নে প্রাচীনকাল থেকেই তিলের তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চুল ও মাথার ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগাতে এই তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করলে চুলের একাধিক সমস্যা দূর হয়।

তিলের তেলে থাকা ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই তেল মাথায় মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। এর ফলে চুল দ্রুত বাড়তে পারে।

যারা খুশকি বা শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য তিলের তেল খুবই উপকারী। এই তেলে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তিলের তেল চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। এর ফলে চুল হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।

অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পাকে। এ সমস্যা কমাতে তিলের তেল কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের ক্ষতি কমায়। যারা নিয়মিত হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করেন, তাদের জন্য তিলের তেল চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার করবেন যেভাবে 

তিলের তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হতে পারে। এজন্য প্রথমে কনুইয়ের ভাঁজে বা কানের পেছনে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।

হালকা গরম করে তিলের তেল ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। খুব জোরে ঘষাঘষি ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। এই তেল সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। 

কখন মাখবেন

তিলের তেল সারারাত মাথায় রেখে দেওয়া উপকারী। তবে যাদের মাথার ত্বক খুব তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণ, তারা ১–২ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।