img

জানান না দিয়েই আসে গ্লকোমা, দৃষ্টিশক্তি বাঁচাতে এখনই সতর্ক হোন

প্রকাশিত :  ০৭:৩০, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

জানান না দিয়েই আসে গ্লকোমা, দৃষ্টিশক্তি বাঁচাতে এখনই সতর্ক হোন

প্রথমদিকে দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা লাগবে। ধীরে ধীরে কমতে থাকবে চারপাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা। শেষে এমন এক সময় আসে, যখন চোখের সামনে শুধুই অন্ধকার। এই ভয়ানক রোগের নাম গ্লকোমা।

চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি দৃষ্টি হারাচ্ছেন। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, দেশে গ্লকোমা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

গ্লকোমা আসলে কী

চোখের ভেতরে এক ধরনের তরল বা ফ্লুইড প্রবাহিত হয়। যখন এই তরল চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন তা ভেতরে জমে গিয়ে চোখের অপটিক স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।

একে বলা হয় ‘ইন্ট্রাঅকুলার প্রেশার’। এই চাপের কারণে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মানুষ অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যায়।

মনে রাখা জরুরি, গ্লকোমায় একবার দৃষ্টি চলে গেলে তা আর কোনো চিকিৎসাতেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

কাদের ঝুঁকি বেশি

যাদের বয়স ৪০ বছরের ওপরে।

যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা মায়োপিয়া থাকলে।

যারা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই স্টেরয়েড জাতীয় আই ড্রপ, ক্রিম বা ইনহেলার ব্যবহার করছেন।

চোখে পুরনো আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে।

অন্ধকার ঘরে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলোর ব্যবহার।

লক্ষণগুলো চিনে নিন

গ্লকোমার শুরুর দিকে সেভাবে কোনো ব্যথা বা উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু সংকেত এড়িয়ে চলা উচিত নয়।

    পাশের জিনিস দেখার ক্ষমতা বা ‘সাইড ভিশন’ কমে আসা।

    বারবার চশমার পাওয়ার পালটে যাওয়া।

    কম আলোয় কাজ করতে অসুবিধা।

    মাঝেমধ্যে মাথা ব্যথা বা চোখে যন্ত্রণা।

প্রতিরোধের উপায়

সচেতনতাই এই রোগের প্রধান ওষুধ। বছরে অন্তত দুই বার চোখের ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান। বিশেষ করে আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে বা পরিবারের কেউ গ্লকোমায় আক্রান্ত থাকেন, তবে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা ড্রপ চোখে দেবেন না। মনে রাখবেন, সময়মতো রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।



img

হঠাৎ ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকার ৫ উপায়

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শীত বিদায় নিচ্ছে গুটি গুটি পায়ে। ভোরে বা সন্ধ্যায় এখন ঠান্ডাভাব থাকলেও দুপুরে রোদ উঠলে শীত ভাব থাকছে না। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে বিভিন্ন রোগের উপদ্রব বাড়ে। একটু অসাবধানতায় দেখা দিতে পারে সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা কিংবা অন্যান্য রোগ। তাই এ সময় শরীরের প্রতি বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের বিদায় বেলায় হঠাৎ তাপমাত্রা কমলে বা বাড়লে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম-বেশি হতে থাকে। তখন সহজেই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধির আদর্শ সময় হয়ে ওঠে। শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন শুকিয়ে দেয়। ফলে জীবাণু খুব সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 

সাধারণ সমস্যা

ঋতু পরিবর্তনের সময় সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হল ভাইরাসজনিত জ্বর, সর্দি-কাশি। আসলে শীতের মতো এই সময়েও বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণ বেশি থাকে। দিনে গরম, রাতে হালকা ঠান্ডা-দু’রকম আবহাওয়ায় বাড়ে অ্যালার্জির সমস্যা। তখন গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি, সর্দি, জ্বর দেখা দেয়।

পেটের সমস্যা

শীতের শেষে ও বসন্তের আগমনের আগে পেটের সমস্যাও হতে পারে। 

চিকেন পক্সের দাপট

বসন্তের ঠিক আগে থেকে যে রোগের ভাইরাস আশপাশের বাতাসে ঘুরে বেড়ায় আর সুযোগ পেলেই গ্রাস করে, তার নাম বসন্ত বা চিকেন পক্স। শুরুতে জ্বর, গা ম্যাজম্যাজ, শরীরে দুর্বলতা থেকে পেটের সমস্যা দেখা দেয়।

শ্বাসজনিত সমস্যা

যারা নিয়মিত শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগেন তাদের এই সময়ে বাড়তি সাবধানতা প্রয়োজন। বাতাসে ঘুরে বেড়ানো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সহজেই নাক-মুখ দিয়ে শ্বাসযন্ত্রে চলে যায়। ফলে নতুন করে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। 

সুস্থ থাকতে যা করবেন-

হঠাৎ করে গরম লাগলে ঠান্ডা পানি খাওয়া চলবে না। 

গরম থেকে এসিতে বার বার যাতায়াত করা, সামান্য গরমে ফ্যান চালানো উচিত নয়। 

হাঁচি, কাশির সমস্যা থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করুন। 

বাইরে থেকে এসে এবং খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভাল করে হাত ধোওয়া অভ্যাস করুন৷ 

স্কুলে বাচ্চাদের একজনের থেকে অন্যজনের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই শিশুদের জ্বর,সর্দি,কাশি থাকলে স্কুলে না পাঠানোই ভাল। 

শিশু থেকে বয়স্ক, সব বয়সেই পর্যাপ্ত পানি খাওয়া প্রয়োজন। 

সবজি, ফল কিংবা অন্যান্য খাবার টাটকা খেতে হবে। রান্না করা বাসি খাবার না খাওয়াই ভালো।