img

বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো সাধারণ ইঁদুরেও কি হান্টা ভাইরাসের জীবাণু থাকতে পারে?

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ১৫ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২২, ১৫ মে ২০২৬

বাড়িতে ঘুরে বেড়ানো সাধারণ ইঁদুরেও কি হান্টা ভাইরাসের জীবাণু থাকতে পারে?

দৈনন্দিন জীবনে ইঁদুরকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট বন্য ইঁদুর মারাত্মক ভাইরাস বহন করতে পারে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো হান্টা ভাইরাস। এটি মানুষের জন্য প্রাণঘাতী সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘর, পুরোনো গুদাম, টিনশেড বা স্টোররুম খোলার সময় ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ইঁদুর এই ভাইরাস ছড়ায় না; নির্দিষ্ট প্রজাতি ও অঞ্চলের ওপর ঝুঁকি নির্ভর করে।

অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুচিস্মিতা রাজামান্যা জানান, শহরের সাধারণ ইঁদুর সাধারণত এই ভাইরাসের বাহক নয়। বরং কিছু বন্য ইঁদুর, যেমন ডিয়ার মাউস ও ফিল্ড মাউস, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় এসব ইঁদুর নিজেরা অসুস্থ না হলেও ভাইরাস বহন করতে পারে এবং তাদের মল, প্রস্রাব বা লালা থেকে তা মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় ধুলাবালির সঙ্গে ভাইরাস বাতাসে মিশে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পুরোনো ঘর বা স্টোররুম পরিষ্কার করার সময় শুকনো ঝাড়ু বা ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে ভাইরাসযুক্ত কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বরং জীবাণুনাশক ব্যবহার এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা উচিত।

হান্টা ভাইরাস সংক্রমণ খুব বেশি দেখা না গেলেও এটি গুরুতর হলে দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে। শুরুতে সাধারণ ফ্লুর মতো উপসর্গ দেখা দেয়—জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও মাথাব্যথা। পরে অবস্থার অবনতি হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, যা মারাত্মক আকার নিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাগান, শেড বা পুরোনো ঘরে ইঁদুরের উপস্থিতি থাকলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ঘরের ফাঁক বন্ধ রাখা, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং পরিষ্কারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা হলো—ইঁদুর নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা ও নিরাপদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসই এই ঝুঁকি কমাতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

img

কাঁঠালের বিচি দিয়েই বানিয়ে নিন মজাদার সন্দেশ

প্রকাশিত :  ০৭:৩২, ০৩ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪০, ০৩ আগষ্ট ২০২৬

কাঁঠালের বিচি দিয়েও তৈরি করা যায় সুস্বাদু, নরম, সুগন্ধি ও পুষ্টিকর এক ব্যতিক্রমী মিষ্টান্ন—কাঁঠালের বিচির সন্দেশ। সহজলভ্য এই উপাদান দিয়ে ঘরেই স্বাস্থ্যকর ও ভিন্ন স্বাদের এ মিষ্টি তৈরি করা সম্ভব, যা ইতোমধ্যে খাবারপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

ঘরে থাকা সহজ উপকরণ আর কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলেই তৈরি হবে ভিন্ন স্বাদের এই ঘরোয়া মিষ্টি। যা বিকেলের নাশতা বা অতিথি আপ্যায়নে হতে পারে দারুণ চমক।

যেভাবে তৈরি করবেন কাঁঠালের বিচির সন্দেশ

প্রথমে কাঁঠালের বিচির খোসা ছাড়িয়ে ভালোভাবে সিদ্ধ করে নিন। ঠান্ডা হলে এর বাদামি আবরণ সরিয়ে ফেলুন। এরপর বিচিগুলো ব্লেন্ড করে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।

এবার সেই পেস্টের সঙ্গে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে নিন। একটি ননস্টিক প্যানে সামান্য ঘি গরম করে তাতে মিশ্রণটি দিন।

এরপর চিনি মিশিয়ে মাঝারি আঁচে প্রায় ১০ মিনিট নেড়ে রান্না করুন। ধীরে ধীরে মিশ্রণটি ঘন হয়ে প্যানের গা ছেড়ে উঠতে শুরু করবে।

চুলা বন্ধ করে শেষে এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। তারপর মিশ্রণটি একটি পাত্রে ঢেলে ঠান্ডা হতে দিন।

ঠান্ডা হয়ে গেলে পছন্দমতো আকারে কেটে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু কাঁঠালের বিচির সন্দেশ।

এই সন্দেশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে ৪–৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। কাঁঠালের বিচি পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন হিসেবেও বিবেচিত।