img

নম্বর গোপন করেই চ্যাটিং ফিচার আনছে হোয়াটসঅ্যাপ

প্রকাশিত :  ০৭:২১, ০৩ আগষ্ট ২০২৬

 নম্বর গোপন করেই চ্যাটিং ফিচার আনছে হোয়াটসঅ্যাপ

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা আরও জোরদার করতে নতুন একটি ফিচার আনছে মেটার মালিকানাধীন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনে নিজেদের ফোন নম্বর গোপন রেখে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২৯ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব শিগগিরই হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বরের পরিবর্তে একটি ইউজারনেম নাম ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ করার প্রয়োজন হবে না।

হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমতো একটি ইউজারনেম নাম নির্বাচন করতে পারবেন। এর মূল লক্ষ্য হলো, ফোন নম্বরের গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই সুবিধা চালু হলে বড় কোনো গ্রুপে হওয়া বা প্রথমবার কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানে ম্যাসেজ পাঠানোর সময় ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্যদের কাছে দৃশ্যমান হবে না।

মেটা জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের খুঁজে পাওয়ার জন্য কোনো বিশাল সাজেশণ লিস্ট বা স্বয়ংক্রিয় পরামর্শ ব্যবস্থা থাকবে না। ফলে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তার সঠিক ইউজারনেম জানতে হবে।

অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো হোয়াটসঅ্যাপেরও বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী রয়েছে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটির সক্রিয় ব্যবহারকারী তিনশ কোটিরও বেশি। তাই নতুন সুবিধাটি একসঙ্গে সবার জন্য চালু করা সম্ভব হবে না।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বজুড়ে ইউজারনেম সুবিধা চালু করা হবে। প্রতিটি দেশে ফিচারটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

হোয়াটসঅ্যাপ আরও জানিয়েছে, শুরুতে উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এই সুবিধা চালু করা হবে। এ সুবিধা ব্যবহার করতে হলে তাদের মেটার অন্য  প্রতিষ্ঠান যেমন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

সূত্র: এনডিটিভি


img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।