img

শীতে ঘর গরম রাখতে হিটার ব্যবহারে সেসব সতর্কতা মানতেই হবে

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ০২ জানুয়ারী ২০২৬

শীতে ঘর গরম রাখতে হিটার ব্যবহারে সেসব সতর্কতা মানতেই হবে

গত কয়েক দিনে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন বয়স্ক ও শিশুরা। ফলে হঠাৎ রুম হিটারের চাহিদা ও ব্যবহার বেড়েছে। তবে রুম হিটার ব্যবহারের আগে সতর্কতার বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি। কারণ, ভুলভাবে ব্যবহার করলে রুম হিটার থেকেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। নিরাপদে রুম হিটার ব্যবহার করতে নিচে ৭টি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

১. রুম হিটার মেঝেতেই রাখুন

রুম হিটার সব সময় সমতল মেঝেতে রাখুন। কার্পেট, ম্যাট বা কাপড়ের ওপর রাখা ঠিক নয়। টেবিল, টুল বা কাঠের আসবাবের ওপর রাখলে হিটার পড়ে গিয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে। যতটা সম্ভব স্থির ও নিরাপদ জায়গায় রাখাই ভালো।

২. পানি বা ভেজা জায়গা থেকে দূরে রাখুন

রুম হিটার ও পানি—এই দুইয়ের ‘দা–কুমড়া সম্পর্ক’। বাথরুম বা রান্নাঘরের মতো ভেজা জায়গায় কখনোই হিটার ব্যবহার করা ঠিক নয়। ভেজা কাপড় বা চাদর শুকানোর জন্য হিটারের ওপর দেওয়া খুব বিপজ্জনক। এতে আগুন ধরে যেতে পারে।

৩. দাহ্য বস্তু থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে রাখুন

পর্দা, কাগজ, বালিশ, কম্বল, বিছানার চাদর, কাপড় কিংবা কাঠের আসবাব—এসব দাহ্য বস্তু থেকে হিটার অন্তত তিন ফুট দূরে রাখুন ।

হিটার ব্যবহারে ‘তিন ফুটের নিয়ম’ মনে রাখুন। হিটার দাহ্য বস্তু থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে রাখুন। ম্যাচ, রং বা দাহ্য কোনো বস্তু যেন হিটারের আশপাশে না থাকে, সেটাও নিশ্চিত করুন।

৪.হিটার চালু রেখে ঘর ছেড়ে যাবেন না

রুম হিটার চালু রেখে ঘর ছেড়ে যাওয়া বা ঘুমিয়ে পড়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । ঘরে শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে বাড়তি সতর্কতা দরকার। দীর্ঘ সময় বন্ধ ঘরে হিটার চালু থাকলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে।

৫. নিরাপত্তা ফিচার আছে কি না দেখুন

ভালো রুম হিটারে সাধারণত কিছু সেফটি ফিচার থাকে। যেমন উল্টে গেলে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হলে অটো শাট–অফ, ওভারহিট প্রটেকশন ইত্যাদি। কেনার সময় এসব সুবিধা আছে কি না, দেখে নেওয়া জরুরি।

৬. হিটার নিয়মিত পরীক্ষা করুন

হিটার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তার বা প্লাগে কোনো সমস্যা আছে কি না—এসব নিয়মিত দেখে নিন। অস্বাভাবিক শব্দ, পোড়া গন্ধ বা অতিরিক্ত গরম লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করুন।

৭. অনুমোদন ও সনদ যাচাই করে কিনুন

রুম হিটার কেনার সময় অবশ্যই দেখে নিন সেটি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সনদপ্রাপ্ত কি না ও মান যাচাই করে, পরীক্ষিত পণ্য ব্যবহার করলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

শীতে আরাম পেতে রুম হিটার দারুণ সহায়ক, তবে একটু অসতর্কতা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই হিটার ব্যবহার করুন বুঝে, নিরাপত্তা মেনে। তাতেই শীত থাকবে উষ্ণ, আর আপনি থাকবেন নিশ্চিন্ত।

img

বিয়ের আগের দিন: যেসব ছোট কাজ বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে

প্রকাশিত :  ১৩:৫৫, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিয়ের আগের দিনটি বর ও কনের জীবনের অন্যতম সংবেদনশীল ও স্মরণীয় সময়। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও আনন্দ ধরে রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অপ্রস্তুতি বা তাড়াহুড়ো সহজেই এই বিশেষ সময়কে চাপের মধ্যে ফেলে দিতে পারে। তাই বিয়ের আগের দিনটিকে সুন্দরভাবে কাটাতে চাইলে দরকার পরিকল্পিত প্রস্তুতি, মানসিক স্থিরতা এবং ইতিবাচক মনোভাব।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বিয়ের আগের দিন নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন-

১. নিজের জন্য সময় বের করা

বিয়ের আগের দিনটি শুধুই কাজের নয়, নিজের জন্যও সময় দিন। হালকা হাঁটা বা ধ্যান করুন, যাতে মানসিক চাপ কমে। গভীর শ্বাস নিন, নিজেকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করুন।

২. শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা

বিয়ের আগের দিন সব কিছু ভালোভাবে প্রস্তুত রাখা খুবই জরুরি। পোশাক এবং গয়নার সব প্রস্তুতি একবার চেক করুন। শাড়ি বা লেহেঙ্গা, জুয়েলারি, ক্লাচ, জুতা-সবকিছু একসঙ্গে রাখলে দিনটি আরও সুন্দরভাবে শুরু হবে। হেয়ার ও মেকআপের জন্য যে স্টাইল ঠিক করেছেন, তার সব উপাদান এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখুন। ব্যাগ বা জরুরি আইটেমও আলাদা রাখুন। ফোন, পাসপোর্ট (যদি হানিমুনের আগে প্রয়োজন হয়) বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আগেভাগেই সজ্জিত রাখলে বিয়ের দিন যেকোনো চাপ এড়ানো সম্ভব। 

৩. পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করা

বিয়ের দিন অনেক কাজ জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের দায়িত্ব ভাগ করুন। কেউ রান্নার, কেউ সাজের, কেউ অতিথি দেখাশোনার দায়িত্ব নিলে চাপ কমে।

৪. মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া

বিয়ের দিন সবসময় উত্তেজনায় ভরা থাকে। তাই নিজের মনকে শান্ত ও স্থির রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে মনে করিয়ে দিন-সবকিছুই ঠিকঠাক হবে এবং নেতিবাচক ভাবনা এড়িয়ে চলুন। আত্মবিশ্বাসী থাকলেই আপনার উপস্থিতি আরও উজ্জ্বল এবং প্রাকৃতিক দেখাবে। ছোট ছোট মানসিক প্রস্তুতি বিয়ের দিন আপনাকে চাপমুক্ত, স্বস্তি এবং আনন্দদায়ক অনুভূতিতে রাখবে। ইতিবাচক মনোভাবই আপনার দিনকে স্মরণীয় করে তুলবে।

৫. হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

বিয়ের আগের দিন অতি ভারী বা তেলতেলে খাবার এড়িয়ে চলুন। হালকা, পুষ্টিকর খাবার খান, যা শক্তি দেবে এবং ঘুমের সমস্যা কমাবে।

৬.পানি পান করা

শরীর ও ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এটি ত্বককে সতেজ রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় ফোলাভাব কমায়।

৭.শাওয়ার নিন

গরম বা হালকা মসৃণ শাওয়ার নিন। এটি আপনার শরীরকে সতেজ রাখবে, ত্বক থাকবে কোমল এবং আপনি মন থেকেও স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন

৮. পর্যাপ্ত ঘুমানো

পরবর্তী দিনের জন্য সতেজ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন, যাতে সকালে সতেজ ও সুন্দর অনুভূতি নিয়ে উঠতে পারেন।

বিয়ের আগের দিনটি হয় প্রস্তুতির দিন, মানসিক স্থিতিশীলতার দিন এবং বিশ্রামের দিন। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা মানসিক চাপ কমায় এবং বিয়ের দিনকে স্মরণীয় করে তোলে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ব্রাইডস