img

শৈত্যপ্রবাহ নেই, তাহলে এত শীত কেন?

প্রকাশিত :  ০৯:৫৭, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

শৈত্যপ্রবাহ নেই, তাহলে এত শীত কেন?

কোথাও শৈত্যপ্রবাহ না বইলেও প্রচণ্ড ঠান্ডায় ঢাকাসহ সারাদেশে জনজীবন পর্যুদস্ত। ভোর ও রাতের দিকে হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার কারণে ঘর থেকে বের হওয়াই অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। হাটবাজার, নির্মাণকাজ এবং উন্মুক্ত স্থানে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য গত দু-তিন দিনে কমে গেছে। বাতাসের গতিবেগও বেড়েছে। সেই সঙ্গে ওপরের ঠান্ডা বাতাস ভূমির দিকে নেমে এসেছে– মূলত এই তিন কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীতের এই প্রকোপ জানুয়ারি জুড়েই  থাকবে।

আবহাওয়াবিদরা আরও বলছেন, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য যদি ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আসে, সেখানে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। পার্থক্য যদি ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে তবে শীতের অনুভূতি প্রকট থেকে প্রকটতর হয়। অর্থাৎ হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হয়।

গতকাল সোমবার বিভিন্ন জেলার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তুলনা করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ অঞ্চলেই তাপমাত্রার পার্থক্য ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম। ঢাকায় এই পার্থক্য গতকাল নেমে এসেছে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে।  বেশির ভাগ জেলাতেই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি বাড়ছে। কোথাও কোথাও তা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা। 

নিয়ম অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আর ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়। ৪ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে হয় অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ।

আপাতভাবে কিশোরগঞ্জের নিকলীই শুধু ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আছে। শীতের তীব্রতা সারাদেশেই অনুভূত হচ্ছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাতাসের গতিবেগ। কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো না পাওয়ায় মাটি গরম হচ্ছে না। এজন্য শীতের তীব্রতা বেশি।

আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, বাতাসের গতিবেগ তুলনামূলক একটু বেশি থাকার কারণে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং ঢাকার পশ্চিমাঞ্চল ও খুলনার ওপরের দিকে যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা– এসব অঞ্চলে শীতের অনুভূতি তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এ ছাড়া ঊর্ধ্ব আকাশের বাতাস খুব ঠান্ডা হওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘জেড স্ট্রিম’ বা প্রচণ্ড গতিবেগসম্পন্ন বাতাস কখনও নিচে নেমে আসছে, কখনও ওপরে উঠে যাচ্ছে, যেটা ভাইব্রেট (কম্পন) হচ্ছে। অর্থাৎ ঊর্ধ্ব আকাশের বাতাসের নিম্নমুখী বিচরণ হচ্ছে। এই নিম্নমুখী বিচরণও অনেক সময় শীতের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয় বলে জানান এ আবহাওয়াবিদ। 

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশার কারণে সারাদেশে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। 

রাজধানীতে দিন দিন শীতের প্রকোপ বাড়ছে। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি। দিনভর সূর্যের দেখা মেলেনি। ঠান্ডা বাতাসে নগরজুড়ে শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে। রাতের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরেছে। ঢাকায় রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। 


img

বিয়ের আগের দিন: যেসব ছোট কাজ বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে

প্রকাশিত :  ১৩:৫৫, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিয়ের আগের দিনটি বর ও কনের জীবনের অন্যতম সংবেদনশীল ও স্মরণীয় সময়। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও আনন্দ ধরে রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অপ্রস্তুতি বা তাড়াহুড়ো সহজেই এই বিশেষ সময়কে চাপের মধ্যে ফেলে দিতে পারে। তাই বিয়ের আগের দিনটিকে সুন্দরভাবে কাটাতে চাইলে দরকার পরিকল্পিত প্রস্তুতি, মানসিক স্থিরতা এবং ইতিবাচক মনোভাব।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বিয়ের আগের দিন নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন-

১. নিজের জন্য সময় বের করা

বিয়ের আগের দিনটি শুধুই কাজের নয়, নিজের জন্যও সময় দিন। হালকা হাঁটা বা ধ্যান করুন, যাতে মানসিক চাপ কমে। গভীর শ্বাস নিন, নিজেকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করুন।

২. শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা

বিয়ের আগের দিন সব কিছু ভালোভাবে প্রস্তুত রাখা খুবই জরুরি। পোশাক এবং গয়নার সব প্রস্তুতি একবার চেক করুন। শাড়ি বা লেহেঙ্গা, জুয়েলারি, ক্লাচ, জুতা-সবকিছু একসঙ্গে রাখলে দিনটি আরও সুন্দরভাবে শুরু হবে। হেয়ার ও মেকআপের জন্য যে স্টাইল ঠিক করেছেন, তার সব উপাদান এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখুন। ব্যাগ বা জরুরি আইটেমও আলাদা রাখুন। ফোন, পাসপোর্ট (যদি হানিমুনের আগে প্রয়োজন হয়) বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আগেভাগেই সজ্জিত রাখলে বিয়ের দিন যেকোনো চাপ এড়ানো সম্ভব। 

৩. পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করা

বিয়ের দিন অনেক কাজ জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের দায়িত্ব ভাগ করুন। কেউ রান্নার, কেউ সাজের, কেউ অতিথি দেখাশোনার দায়িত্ব নিলে চাপ কমে।

৪. মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া

বিয়ের দিন সবসময় উত্তেজনায় ভরা থাকে। তাই নিজের মনকে শান্ত ও স্থির রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে মনে করিয়ে দিন-সবকিছুই ঠিকঠাক হবে এবং নেতিবাচক ভাবনা এড়িয়ে চলুন। আত্মবিশ্বাসী থাকলেই আপনার উপস্থিতি আরও উজ্জ্বল এবং প্রাকৃতিক দেখাবে। ছোট ছোট মানসিক প্রস্তুতি বিয়ের দিন আপনাকে চাপমুক্ত, স্বস্তি এবং আনন্দদায়ক অনুভূতিতে রাখবে। ইতিবাচক মনোভাবই আপনার দিনকে স্মরণীয় করে তুলবে।

৫. হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

বিয়ের আগের দিন অতি ভারী বা তেলতেলে খাবার এড়িয়ে চলুন। হালকা, পুষ্টিকর খাবার খান, যা শক্তি দেবে এবং ঘুমের সমস্যা কমাবে।

৬.পানি পান করা

শরীর ও ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এটি ত্বককে সতেজ রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় ফোলাভাব কমায়।

৭.শাওয়ার নিন

গরম বা হালকা মসৃণ শাওয়ার নিন। এটি আপনার শরীরকে সতেজ রাখবে, ত্বক থাকবে কোমল এবং আপনি মন থেকেও স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন

৮. পর্যাপ্ত ঘুমানো

পরবর্তী দিনের জন্য সতেজ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন, যাতে সকালে সতেজ ও সুন্দর অনুভূতি নিয়ে উঠতে পারেন।

বিয়ের আগের দিনটি হয় প্রস্তুতির দিন, মানসিক স্থিতিশীলতার দিন এবং বিশ্রামের দিন। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা মানসিক চাপ কমায় এবং বিয়ের দিনকে স্মরণীয় করে তোলে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ব্রাইডস