img

শীতকালে নারীদের মূত্রনালির সংক্রমণ ঝুঁকি কেন বাড়ে

প্রকাশিত :  ১০:৫২, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

শীতকালে নারীদের মূত্রনালির সংক্রমণ ঝুঁকি কেন বাড়ে

নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউটিআই–এর ঝুঁকি শীতকালে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিহাইড্রেশন, দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস এই সমস্যার মূল কারণ।

শীতে মূত্রনালির সংক্রমণ বাড়ার কারণ:

ডিহাইড্রেশন ও কম প্রস্রাব: শীতকালে ঠান্ডার কারণে তৃষ্ণা কম অনুভূত হয়। অনেকেই কম পানি পান করেন, যার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়। প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রনালিতে থাকা জীবাণু বের হয়; কম প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সংক্রমণ ঘটে।

প্রস্রাব চেপে রাখা: ঠান্ডা বা নোংরা পাবলিক টয়লেট এড়াতে অনেকেই প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। এতে উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া সহজে বৃদ্ধি পায়।

ঠান্ডা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: শীতে রক্তনালি সংকুচিত হয়, মূত্রনালি অঞ্চলে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ফলে ওই অঞ্চলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সামান্য ব্যাকটেরিয়াও সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

যৌন মিলন: শীতে ডিহাইড্রেশনের কারণে মিলনের পর প্রস্রাবের প্রয়োজন সময়মতো আসে না। ফলে ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালি বা ইউরেথ্রায় প্রবেশ করে মূত্রনালির সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

ভিটামিন ডি–এর ঘাটতি ও দুর্বল ইমিউন সিস্টেম: কম রোদে থাকা, শীতকালীন দুর্বল পুষ্টি, ফ্লু ও ঠান্ডা রোগ ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ করে।

হরমোন ও রজোনিবৃত্তি: রজোনিবৃত্তির সময় নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়, যা যোনি এবং মূত্রনালির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে। এই অবস্থায় শীতের অন্যান্য প্রভাবের সঙ্গে মিলিত হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পোশাক ও পরিচ্ছন্নতা: টাইট জিন্স, থার্মাল, সিনথেটিক অন্তর্বাস বা একাধিক স্তরের পোশাক যৌনাঙ্গের চারপাশে তাপ ও আর্দ্রতা ধরে রাখে, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বাড়ায়। শীতকালে অনেকেই নিয়মিত গোসল করেন না, ফলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হয়।

সতর্কতার উপায়:

    পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।

    সুষম খাদ্য খান—সবজি, ফল, প্রোটিন ও পূর্ণশস্য।

    পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।

    ধূমপান, অ্যালকোহল ও জাঙ্ক ফুড কমান।

    ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

শীতকালে এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ–এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।


img

পান্তা ভাতে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রকাশিত :  ১০:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পান্তা ভাত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবেও পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

এক সময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে পান্তা ভাত দারুণ কাজ করে শরীরে। এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ খাবারে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যারা তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। 

পান্তা ভাতকে অনেকেই শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে মনে করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতেও শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানিয়েছে, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। তিনি জানান,  পান্তা ভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২। 

এ পুষ্টিবিদ আরও জানান, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে যেখানে প্রায় ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ পান্তা ভাতে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়- সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম থাকলেও পান্তা ভাতে তা প্রায় ৮৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তাই গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।