img

জেনে নিন, সকালের নাস্তা না খেলে কি ক্ষতি হতে পারে

প্রকাশিত :  ২০:৪৮, ০২ জানুয়ারী ২০২৬

জেনে নিন, সকালের নাস্তা না খেলে কি ক্ষতি হতে পারে

সকালের নাস্তা কি আসলেই গুরুত্বপূর্ণ? ব্যস্ত জীবনে, অনেকেই মনে করেন একটু তাড়াহুড়ো করলেই চলে। কিন্তু জানেন কি, দিন শুরুর সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া? নতুন গবেষণা বলছে, সকালের নাস্তি এড়ানো শুধু ক্ষুধার কারণই নয়, এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নিয়মিত নাস্তা না খেলে হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, দুধ, দই, ডিম এবং ফোর্টিফায়েড সিরিয়ালের মতো সাধারণ নাস্ত্যকারি খাবারে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, যা হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “আমাদের হাড় সবসময় পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় থাকে — কিছু অংশ ভেঙে যায়, আবার নতুন করে গড়ে ওঠে। সকালবেলায় যদি শরীর সঠিক পুষ্টি না পায়, এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে হাড় দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।”

গবেষকরা আরও দেখেছেন, নাস্তা এড়িয়ে চললে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। কর্টিসলের মাত্রা বেশি হলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি হাড়ের সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়ে।

যারা নাস্তা এড়িয়ে চলেন, তারা প্রায়ই পরে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের অভ্যাস হাড় ভঙ্গুর করে দিতে পারে এবং আঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দিনে শুরু করুন ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে — যেমন দুধ, দই, বাদাম বা ফোর্টিফায়েড সিরিয়াল। সঙ্গে একটি প্রোটিনের উৎস রাখলেই হাড় মজবুত রাখা সম্ভব। হালকা হলেও সুষম নাস্তা হাড় ও শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

img

পান্তা ভাতে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

প্রকাশিত :  ১০:২১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পান্তা ভাত বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার। বিশেষ করে গরমের সময়ে অনেকেই খাদ্যতালিকায় এ খাবারকে গুরুত্ব দেন। পহেলা বৈশাখের উৎসবেও পান্তা-ইলিশ দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

এক সময় গ্রাম-বাংলার কৃষকের সকালের প্রধান খাবার ছিল পান্তা ভাত। সারাদিন মাঠে কাজের শক্তি জোগাতে পান্তা ভাত দারুণ কাজ করে শরীরে। এখনও অনেক পরিবারে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, লবণ ও ভাজা মাছের সঙ্গে পান্তা খাওয়ার চল রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময়ে পান্তা ভাত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়, যা রক্তশূন্যতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।

এ খাবারে রয়েছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও। গরম ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান যারা তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে। 

পান্তা ভাতকে অনেকেই শরীরের প্রাকৃতিক শীতলকারী খাবার হিসেবে মনে করেন। গরমের দিনে এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম থাকতেও শক্তি জোগায়।

হলিক্রস মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পুষ্টিবিদ মাহিনুর ফেরদৌস জানিয়েছে, যারা অনিদ্রায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। তিনি জানান,  পান্তা ভাতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন বি-১২। 

এ পুষ্টিবিদ আরও জানান, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ চালে যেখানে প্রায় ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে একই পরিমাণ পান্তা ভাতে পাওয়া যায় প্রায় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম আয়রন। একইভাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়- সাধারণ চালে ২১ মিলিগ্রাম থাকলেও পান্তা ভাতে তা প্রায় ৮৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্কের মাত্রাও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

এছাড়া ত্বকের সতেজতা ও তারুণ্য ধরে রাখতেও পান্তা ভাত সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তাই গরমের এই সময়ে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও লবণের সঙ্গে এক প্লেট পান্তা ভাত হতে পারে স্বাদ ও সুস্থতার দারুণ সমন্বয়।