img

বিয়ের আগের দিন: যেসব ছোট কাজ বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে

প্রকাশিত :  ১৩:৫৫, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬

বিয়ের আগের দিন: যেসব ছোট কাজ বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে

বিয়ের আগের দিনটি বর ও কনের জীবনের অন্যতম সংবেদনশীল ও স্মরণীয় সময়। এই দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানসিক শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও আনন্দ ধরে রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। অপ্রস্তুতি বা তাড়াহুড়ো সহজেই এই বিশেষ সময়কে চাপের মধ্যে ফেলে দিতে পারে। তাই বিয়ের আগের দিনটিকে সুন্দরভাবে কাটাতে চাইলে দরকার পরিকল্পিত প্রস্তুতি, মানসিক স্থিরতা এবং ইতিবাচক মনোভাব।

আসুন জেনে নেওয়া যাক বিয়ের আগের দিন নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন-

১. নিজের জন্য সময় বের করা

বিয়ের আগের দিনটি শুধুই কাজের নয়, নিজের জন্যও সময় দিন। হালকা হাঁটা বা ধ্যান করুন, যাতে মানসিক চাপ কমে। গভীর শ্বাস নিন, নিজেকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করুন।

২. শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা

বিয়ের আগের দিন সব কিছু ভালোভাবে প্রস্তুত রাখা খুবই জরুরি। পোশাক এবং গয়নার সব প্রস্তুতি একবার চেক করুন। শাড়ি বা লেহেঙ্গা, জুয়েলারি, ক্লাচ, জুতা-সবকিছু একসঙ্গে রাখলে দিনটি আরও সুন্দরভাবে শুরু হবে। হেয়ার ও মেকআপের জন্য যে স্টাইল ঠিক করেছেন, তার সব উপাদান এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখুন। ব্যাগ বা জরুরি আইটেমও আলাদা রাখুন। ফোন, পাসপোর্ট (যদি হানিমুনের আগে প্রয়োজন হয়) বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আগেভাগেই সজ্জিত রাখলে বিয়ের দিন যেকোনো চাপ এড়ানো সম্ভব। 

৩. পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করা

বিয়ের দিন অনেক কাজ জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের দায়িত্ব ভাগ করুন। কেউ রান্নার, কেউ সাজের, কেউ অতিথি দেখাশোনার দায়িত্ব নিলে চাপ কমে।

৪. মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া

বিয়ের দিন সবসময় উত্তেজনায় ভরা থাকে। তাই নিজের মনকে শান্ত ও স্থির রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেকে মনে করিয়ে দিন-সবকিছুই ঠিকঠাক হবে এবং নেতিবাচক ভাবনা এড়িয়ে চলুন। আত্মবিশ্বাসী থাকলেই আপনার উপস্থিতি আরও উজ্জ্বল এবং প্রাকৃতিক দেখাবে। ছোট ছোট মানসিক প্রস্তুতি বিয়ের দিন আপনাকে চাপমুক্ত, স্বস্তি এবং আনন্দদায়ক অনুভূতিতে রাখবে। ইতিবাচক মনোভাবই আপনার দিনকে স্মরণীয় করে তুলবে।

৫. হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

বিয়ের আগের দিন অতি ভারী বা তেলতেলে খাবার এড়িয়ে চলুন। হালকা, পুষ্টিকর খাবার খান, যা শক্তি দেবে এবং ঘুমের সমস্যা কমাবে।

৬.পানি পান করা

শরীর ও ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এটি ত্বককে সতেজ রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় ফোলাভাব কমায়।

৭.শাওয়ার নিন

গরম বা হালকা মসৃণ শাওয়ার নিন। এটি আপনার শরীরকে সতেজ রাখবে, ত্বক থাকবে কোমল এবং আপনি মন থেকেও স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন

৮. পর্যাপ্ত ঘুমানো

পরবর্তী দিনের জন্য সতেজ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন, যাতে সকালে সতেজ ও সুন্দর অনুভূতি নিয়ে উঠতে পারেন।

বিয়ের আগের দিনটি হয় প্রস্তুতির দিন, মানসিক স্থিতিশীলতার দিন এবং বিশ্রামের দিন। সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা মানসিক চাপ কমায় এবং বিয়ের দিনকে স্মরণীয় করে তোলে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ব্রাইডস


img

পেট ভরে খাওয়ার পরও কেন ক্ষুধা লাগে?

প্রকাশিত :  ১০:৪৫, ০৩ মে ২০২৬

খাওয়া ভরপেট হলেও কিছুক্ষণ পর ফের খিদে লাগছে। অনেকেই বলছেন, এ অনুভূতির কথা।’ তবে বিশেষজ্ঞরা কিছু কারণের কথা বলছেন ক্ষুধা বাড়ার। খাদ্য কিছুক্ষণ পরেই ফের খেতে ইচ্ছা করা বা বেশি বেশি খাওয়ার পরেও আরও খেতে ইচ্ছা করা বেশি খিদে লাগার প্রধান লক্ষণ।

বার বার খিদে লাগার পাঁচ কারণ জেনে নিন-

কার্বোহাইড্রেট: রাতে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাদ্য খেলে কিছুক্ষণ পর ফের ক্ষুধা লাগতে পারে। যখন আমরা একসাথে বহু বেশি কার্বোহাইড্রেট খাই, তখন চিনির মতই তা খুব দ্রুত শরীর শুষে নেয়। রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট বাদ দিয়ে পরিমিত আন-রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যেমন মিষ্টি আলু, বাদামি চাল, মাছ বা মুরগি, ব্রকলি কিংবা অন্যান্য সবজি খান।

কম ঘুম: ক্ষুধা বাড়াতে ঘুম অনেকটা প্রভাব ফেলে। কম ঘুম গ্রেলিন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ক্ষুধার উদ্দীপক। যার ফলে কম ঘুম ওজনও বাড়িয়ে দিতে পারে। ভাল ঘুমের জন্য ম্যাগনেশিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এটি পেশি রিল্যাক্স করে। সবুজ শাক, বাদাম, বীজ, মাছ, কলা ও চকোলেটে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।

তৃষ্ণা: বহু সময় তৃষ্ণাকে আমরা ক্ষুধার সাথে মিলিয়ে ফেলি। মাঝে মাঝে আমরা ক্ষুধার্ত বোধ করি কিন্তু ওই সময়ে শরীরে হয়তো প্রয়োজন এক থেকে দুই গ্লাস পানি। কিন্তু, ভরপেট খাদ্য খেয়ে ফেলি।

মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল: মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গেছে, নারীদের ক্ষুধা ও খাদ্য গ্রহণের মাত্রা বেড়ে যায়, তাদের মাসিক চক্রের দ্বিতীয়ার্ধে। ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক রাখতে ও ক্ষুধা নিবারণে প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন মাছ, ডিম, ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন প্রকার বীজ খান।

গর্ভকাল: গর্ভকালে ক্ষুধা বাড়ে, সাথে বাড়ে ক্যালরির চাহিদাও। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে, এ সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যের দিকে নজর রাখতে হবে। এ সময় রিফাইন্ড ও চিনিসমৃদ্ধ খাদ্য ত্যাগ করতে হবে।