img

চোখের যে ৫ লক্ষণ জানাবে কিডনির সমস্যা

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

চোখের যে ৫ লক্ষণ জানাবে কিডনির সমস্যা

আমাদের শরীরে কিডনি নষ্ট হওয়ার লক্ষণগুলো অন্য রোগের মতো তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে না। কারণ একটি কিডনি বিকল হলেও অন্যটি দিয়ে কাজ চালিয়ে যায় শরীর। তাই অনেক সময় মানুষ টেরই পান না, কখন কিডনি ভয়ংকর অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি খারাপ হওয়ার আগে শরীর আমাদের কিছু সংকেত পাঠায়, আর সেই সংকেতগুলো সবচেয়ে আগে ধরা দিতে পারে চোখে। চোখে দেখা দেওয়া কয়েকটি লক্ষণ আসলে হতে পারে কিডনির অসুস্থতার প্রথম সতর্কবার্তা। এগুলো উপেক্ষা করলে বিপদ আরও বড় হতে পারে।

চিকিৎসকরা জানান, কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে দেহে টক্সিন জমে যায়, পানি ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হয়। চোখ যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ, তাই শরীরের ভেতরের পরিবর্তন অনেক সময় প্রথমে চোখেই ধরা পড়ে। চলুন জেনে নিই, কিডনি খারাপ হওয়ার আগে কী কী সংকেত দেয় চোখ—

১. ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখা

হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, ফোকাস করতে কষ্ট হওয়া বা দ্বিগুণ দেখা— এসব হতে পারে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালির ক্ষতির ফলাফল হিসেবে, যা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামে পরিচিত। উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনি রোগের প্রধান কারণ এবং এসব রেটিনার রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে রেটিনায় তরল জমা, ফোলা ভাব, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকে এবং হঠাৎ দৃষ্টি পরিবর্তন হওয়ার মতো ঘটনাগুলো ঘটে, চোখের পরীক্ষা সঙ্গে কিডনি পরীক্ষা করানোও জরুরি।

২. চোখ শুষ্ক, চুলকানো বা জ্বালা

চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, শুষ্ক বোধ হওয়া বা চুলকানি অনেক কারণেই হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ীভাবে শুষ্ক চোখ উচ্চ পর্যায়ের কিডনি রোগ বা ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের মধ্যে সাধারণত হতে দেখা যায়। এর কারণ হতে পারে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্যহীনতা বা শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে গিয়ে অশ্রু উৎপাদন ও চোখের লুব্রিকেশন কমে যাওয়া। যদি পরিবেশগত কারণ ছাড়াই চোখ বারবার শুষ্ক হয়ে যায়, লাল হয়ে যায়, খচ খচ করে, তাহলে কিডনি পরীক্ষা করে ফেলুন। কৃত্রিম অশ্রু বা চোখ আর্দ্র রাখার উপায় সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও আসল কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

৩. সারা দিন চোখ ফোলা

ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই চোখ ফোলা থাকে। সেটা এক বিষয়। কিন্তু সেই ফোলা চোখ যদি সারা দিন থাকে, তাহলে চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে চোখের পাতার চারপাশে ফোলাভাব থাকলে সতর্ক হোন। এটি প্রোটিনুরিয়া হতে পারে, যেখানে প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বের হয়ে যায়। এতে শরীরের নরম টিস্যুতে তরল জমে যায়। যেমন জমে চোখের চারপাশে। কিডনির ক্ষতির অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ এটি।

৪. রং বুঝতে ঝামেলা

কিডনিতে কোনো সমস্যা তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে রং বোঝার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে নীল ও হলুদ রঙ। এর কারণ হতে পারে অপটিক নার্ভ বা রেটিনার ক্ষতি, যা দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ইউরেমিক টক্সিন জমে যাওয়ার কারণে হয়। এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে শুরু হয়। প্রথমে চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্পষ্ট হতে থাকে। সঠিকভাবে রঙ ধরতে না পারলে অথবা দৃষ্টি নিস্তেজ হলে, বয়স হয়েছে ভেবে বসে থাকবেন না। চিকিৎসকের কাছে যান। পরীক্ষা করান।

৫. লাল বা রক্তাভ চোখ

চোখ লাল হওয়ার পেছনে অ্যালার্জি, ক্লান্তি বা সংক্রমণ— এসব সাধারণ কারণ থাকতে পারে। তবে কিডনি রোগের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণও থাকতে পারে। রক্তচাপ বেড়ে গেলে চোখের ক্ষুদ্র রক্তনালি ফেটে গিয়ে চোখ রক্তাভ দেখাতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটো ইমিউন রোগ কিডনি ও চোখ উভয়কেই প্রদাহগ্রস্ত করে তোলে। চোখ লালের সঙ্গে যদি জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা বা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই পরীক্ষা ও চিকিৎসা করান।

সতর্কতা

চোখের সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সঙ্গে ক্লান্তি, শরীর ফোলা বা প্রস্রাবে পরিবর্তন হয়, তাহলে চোখ ও কিডনি দুটোই পরীক্ষা করান।

সূত্র : মায়ো ক্লিনিক

img

ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবেন ? আবেদনে যা লাগবে

প্রকাশিত :  ১৬:১৮, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:২২, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করছে সরকার। বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতে এই বিশেষ কার্ড একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই কর্মসূচির পরীক্ষামূলক বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দল-মত-নির্বিশেষে যোগ্য সবাই এই কার্ড পাবে।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী বিভিন্ন জনসভা এবং আলোচনায় এই কার্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের দ্বিতীয় দিনেই এ কার্ড বাস্তবায়নের কাজে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি।

ওদিকে নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে যে ৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দিয়েছিলেন, তার অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড।

ওই সময় দলের তরফে বলা হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০০০ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই অর্থ ও পণ্য-সেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচিত ওয়ার্ডে সরজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী চূড়ান্ত করা হবে। পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত- এই ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে হতদরিদ্র এবং দরিদ্র পরিবারকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হবে। কারণ মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত এই সুবিধা নিতে চাইবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

গত রোববার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে শুরুতে দু’টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সরকার প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে ১৩টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করবে। আগামী ১০ই মার্চ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন নিজ দপ্তরে বলেন, দল-মত-নির্বিশেষে ফ্যামিলি কার্ড সবাইকে দেয়া হবে। ফ্যামিলি প্রধান, অর্থাৎ ‘মা’ এই কার্ড পাবেন। আর ফ্যামিলি কতগুলো হয়, আমরা ধরে নেই- ৫ জনের যদি একটি ফ্যামিলি হয়, আমাদের মানুষ যদি ১৮ কোটি হয়- তাহলে সাড়ে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে।

এরমধ্যে হতদরিদ্র ও দরিদ্র আছে। আবার কেউ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং কেউ উচ্চবিত্ত আছে। ফ্যামিলি কার্ড তো সব পরিবার ইনজয় করবে না। এই সুবিধা সবাই ভোগ করতে চাইবে না। যাদের করা উচিত, অর্থাৎ হতদরিদ্র এবং দরিদ্র- এই দু’টি গ্রুপকে আমরা ইউনিভার্সাল দেবো।

অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, রোজার ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সে লক্ষ্যে ২৪শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলা নির্বাচন করে সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে তা শুরু করার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজের আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের একটি ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশও করবে কমিটি। এছাড়া নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচিকে ফ্যামিলি কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটির সভা প্রয়োজন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। এ ছাড়া নারীদের জন্য বিদ্যমান কোনো কর্মসূচিকে ফ্যামিলি কার্ডের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।

ওদিকে এই কার্ডের মধ্যদিয়ে পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হবে। এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীকে দেয়া হবে। এরমধ্যে দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবে। আর বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হবে বলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়ম রোধে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করছে সরকার। জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য এই ডেটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে।

আবেদন প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি। তবে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের জন্য- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (ঘওউ), পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, একটি সচল মোবাইল নম্বরসহ কাগজগুলো সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে।

পাইলট কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয়, সরকারি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল (যা চালুর প্রক্রিয়া চলছে) থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে।

ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি। ঈদের আগে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এরপর থেকে এটা চলতে থাকবে।