img

বর্ষায় পেট খারাপের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

প্রকাশিত :  ১৪:৫২, ২৮ জুন ২০২৫

বর্ষায় পেট খারাপের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার

আকাশের মতো মনও হয়ে উঠেছে অস্থির- কখনো বিষণ্ন, কখনো অবিরাম বৃষ্টি। এমনটা অবশ্য স্বাভাবিকই, কারণ এখন বর্ষাকাল। বর্ষাকাল গরমের তীব্রতা থেকে মুক্তি দেয়, নিয়ে আসে স্বস্তি। এ সময় বাঙালির মন উড়ু উড়ু করে। বৃষ্টি পড়লেই ভাজাপোড়া খেতে ইচ্ছা করে। মুখরোচক সব খাবার যেন বৃষ্টি দিনের উৎকৃষ্ট সঙ্গী। কিন্তু এসময় খাবার খেতে হবে বুঝেশুনে। কেননা বর্ষায় খাবার ও পানি থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া এ সময় পেট খারাপের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই আসুন জেনে নিই বর্ষাকালে পেট খারাপের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব খাবার-

সামুদ্রিক খাবার

বর্ষায় কিছু মাছ ও চিংড়ির মতো সামুদ্রিক খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর দুটি প্রধান কারণ হলো- বর্ষাকালে পানিতে রোগজীবাণু ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মাছকে সংক্রামিত করতে পারে। এছাড়া এই প্রজনন ঋতুতে সামুদ্রিক খাবারে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে, যা খেলে পেটের ক্ষতি হতে পারে।

মিষ্টি

পেটের সমস্যা থাকলে বর্ষায় মিষ্টি খাবার একটু কম খান। বিশেষ করে ভাজা মিষ্টি মানে জিলিপির খাবার খেলে পেটে সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়া অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য একেবারে ভালো নয়। তাই যত মিষ্টি এড়িয়ে চলবেন তত ভালো। 

পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি

যদিও পালং শাক, লেটুস এবং বাঁধাকপির মতো শাক-সবজি সাধারণত স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়, তবে বর্ষা মৌসুমে এগুলো সমস্যার কারণ হতে পারে। স্যাঁতসেঁতে এবং আর্দ্র অবস্থা এই সবজিতে ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য রোগজীবাণুর জন্য একটি আদর্শ প্রজনন স্থল। ভেজা অবস্থার কারণে পাতাযুক্ত শাক সহজেই ময়লা, জীবাণু এবং পোকার ডিম দ্বারা দূষিত হতে পারে। এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করা কঠিন, ফলে পেটের সংক্রমণ এবং ডায়রিয়ার মতো খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চা-কফি কম খান

অনেকেই বৃষ্টির দিনে ঘন ঘন চা-কফি খেতে ভালোবাসেন। এটা ঠিক নয়। কারণ এই আবহাওয়ায় যত বেশি চা-কফি খাবেন, পেটের সমস্যা তত বাড়বে।

মাশরুম

মাশরুম মূলত স্যাঁতসেঁতে মাটিতে জন্মায়। ফলে এতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। যদিও মাশরুম রান্নায় ব্যবহারের আগে ভালো করে প্রক্রিয়াজাত করে নেওয়া হয়, তবুও সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই বর্ষায় মাশরুম না খাওয়াই ভালো।

দুগ্ধজাত খাবার

পুষ্টিবিদদের মতে, দুধে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা শরীরে ক্যালশিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন, খনিজের ঘাটতি মেটায়। কিন্তু বর্ষায় দুগ্ধজাত খাবার খেলে পেট খারাপের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ দুধে থাকা ল্যাক্টোজ সহজে হজম হতে চায় না।

বাইরের খোলা খাবার

রাস্তার ধারের খাবার প্রস্তুত এবং পরিবেশন করা হয় খোলা পরিবেশে। এ ধরনের খাবার বৃষ্টির পানি এবং মাছির মাধ্যমে দূষিত হতে পারে। রাস্তার খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত পানি বিশুদ্ধ নাও হতে পারে, যা কলেরা এবং টাইফয়েডের মতো জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রাস্তার খাবার খাওয়ার পরিবর্তে, পরিষ্কার, তাজা উপাদান এবং নিরাপদ রান্নার অভ্যাস ব্যবহার করে বাড়িতে একই ধরনের স্ন্যাকস তৈরি করুন।

 

img

ভালো লিচু চিনবেন কীভাবে

প্রকাশিত :  ১০:৪৬, ০৭ জুন ২০২৬

দেশের বাজার এখন মিলছে রসালো ফল লিচু। স্বাদের কারণে এটি অনেকেরই পছন্দের। এ ফল খুব বেশিদিন বাজারে থাকেও না। তবে অনেক ব্যবসায়ীই বেশি লাভের আশায় রাসায়নিকযুক্ত বা বাসি লিচু বিক্রি করেন। ফলের গায়ের রং, গন্ধ এবং খোসার শক্ত ভাব লক্ষ্য করে খুব সহজেই সেরা লিচুটি বেছে নেওয়া সম্ভব।ভালো লিচু চেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। যেমন- 

লিচু কেনার সময় প্রথমেই ফলের গায়ের রঙের দিকে নজর দিন। সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা হালকা গোলাপি রঙের লিচুগুলো বেশ মিষ্টি ও পরিপক্ব হয়। খোসার ওপর অতিরিক্ত কালো বা বাদামি দাগ থাকলে বুঝতে হবে ফলটি পচে গেছে কিংবা পুরনো। 

ফলের খোসাটি আঙুল দিয়ে আলতো করে চেপে দেখুন। টাটকা লিচু সাধারণত সামান্য শক্ত কিন্তু স্পঞ্জের মতো সামান্য নমনীয় অনুভূত হয়ে থাকে। ফলটি যদি অতিরিক্ত শক্ত হয় তাহলে বুঝতে হবে সেটি কাঁচা। খুব নরম হলে বুঝতে হবে ভেতরের অংশ পচে গেছে।

লিচুর খোসার উপরিভাগের গঠন দেখেও অনেক সময় বোঝা যায় এটি মিষ্টি কিনা। খোসার ওপরের ছোট ছোট গুটিগুলো যদি খুব ছড়ানো এবং সমতল প্রকৃতির হয় তাহলে বুঝতে হবে ফলটি পরিপক্ক হয়েছে। খোসার গায়ে কোনও ছোট ছিদ্র থাকলে সেই লিচু এড়িয়ে চলুন। কারণ এ ধরনের লিচুতে পোকা থাকার আশঙ্কা থাকে। 

বাজার থেকে লিচু কেনার সময় সবসময় ডালসহ বা গুচ্ছ আকারে থাকা ফল বেছে নেওয়া ভালো। ডালসহ লিচু অনেক বেশি সময় পর্যন্ত তাজা থাকে এবং সহজে নষ্ট হয়ে যায় না। ডালগুলো যদি একদম শুকিয়ে ভেঙে পড়ে তাহলে বুঝতে হবে ফলটি বেশ কয়েকদিন আগে গাছ থেকে পাড়া হয়েছে।

ফলের সুগন্ধ পরীক্ষার মাধ্যমেও লিচু মিষ্টি কিনা বোঝা যায় । টাটকা এবং ভালো মানের লিচুর বোঁটার কাছ থেকে মিষ্টি ও মৃদু গন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু লিচু থেকে যদি কোনও টক বা অ্যালকোহলের মতো গন্ধ বের হয় তবে বুঝতে হবে সেটি নষ্ট হতে শুরু করেছে। 

সাধারণত সুষম গোল বা ডিম্বাকৃতির এবং ওজনে ভারী লিচুগুলোর ভেতরে রসালো অংশের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। চ্যাপ্টা বা অস্বাভাবিক আকৃতির লিচুগুলোতে অনেক সময় বীজ বড় হয় এবং শাঁসের পরিমাণ কম থাকে। 

আজকাল বাজারে লিচু আকর্ষণীয় করতে কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। কেনার আগে লিচুটি হাত দিয়ে কিছুক্ষণ ধরে রাখলে বা সামান্য পানি লাগালে যদি রং উঠে আসে তবে তা কেনা উচিত নয়। প্রাকৃতিকভাবে পাকা লিচুর রঙ কখনও অতিরিক্ত চকচকে বা কৃত্রিমভাবে নিখুঁত দেখায় না। 

বাজার থেকে কেনার পর লিচুগুলো কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। সবসময় খোসা ছাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই লিচু খেয়ে নেওয়া ভালো । দীর্ঘ সময় ছিলে রাখা লিচু না খাওয়াই শরীরের জন্য উপকারী। সূত্র: টিভিনাইন