img

চোখের যে ৫ লক্ষণ জানাবে কিডনির সমস্যা

প্রকাশিত :  ১৪:০৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চোখের যে ৫ লক্ষণ জানাবে কিডনির সমস্যা

আমাদের শরীরে কিডনি নষ্ট হওয়ার লক্ষণগুলো অন্য রোগের মতো তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে না। কারণ একটি কিডনি বিকল হলেও অন্যটি দিয়ে কাজ চালিয়ে যায় শরীর। তাই অনেক সময় মানুষ টেরই পান না, কখন কিডনি ভয়ংকর অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি খারাপ হওয়ার আগে শরীর আমাদের কিছু সংকেত পাঠায়, আর সেই সংকেতগুলো সবচেয়ে আগে ধরা দিতে পারে চোখে। চোখে দেখা দেওয়া কয়েকটি লক্ষণ আসলে হতে পারে কিডনির অসুস্থতার প্রথম সতর্কবার্তা। এগুলো উপেক্ষা করলে বিপদ আরও বড় হতে পারে।

চিকিৎসকরা জানান, কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে দেহে টক্সিন জমে যায়, পানি ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হয়। চোখ যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ, তাই শরীরের ভেতরের পরিবর্তন অনেক সময় প্রথমে চোখেই ধরা পড়ে। চলুন জেনে নিই, কিডনি খারাপ হওয়ার আগে কী কী সংকেত দেয় চোখ—

১. ঝাপসা বা দ্বিগুণ দেখা

হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, ফোকাস করতে কষ্ট হওয়া বা দ্বিগুণ দেখা— এসব হতে পারে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালির ক্ষতির ফলাফল হিসেবে, যা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামে পরিচিত। উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনি রোগের প্রধান কারণ এবং এসব রেটিনার রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ফলে রেটিনায় তরল জমা, ফোলা ভাব, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থাকে। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকে এবং হঠাৎ দৃষ্টি পরিবর্তন হওয়ার মতো ঘটনাগুলো ঘটে, চোখের পরীক্ষা সঙ্গে কিডনি পরীক্ষা করানোও জরুরি।

২. চোখ শুষ্ক, চুলকানো বা জ্বালা

চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, শুষ্ক বোধ হওয়া বা চুলকানি অনেক কারণেই হতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ীভাবে শুষ্ক চোখ উচ্চ পর্যায়ের কিডনি রোগ বা ডায়ালাইসিস নেওয়া রোগীদের মধ্যে সাধারণত হতে দেখা যায়। এর কারণ হতে পারে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্যহীনতা বা শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে গিয়ে অশ্রু উৎপাদন ও চোখের লুব্রিকেশন কমে যাওয়া। যদি পরিবেশগত কারণ ছাড়াই চোখ বারবার শুষ্ক হয়ে যায়, লাল হয়ে যায়, খচ খচ করে, তাহলে কিডনি পরীক্ষা করে ফেলুন। কৃত্রিম অশ্রু বা চোখ আর্দ্র রাখার উপায় সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও আসল কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

৩. সারা দিন চোখ ফোলা

ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই চোখ ফোলা থাকে। সেটা এক বিষয়। কিন্তু সেই ফোলা চোখ যদি সারা দিন থাকে, তাহলে চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে চোখের পাতার চারপাশে ফোলাভাব থাকলে সতর্ক হোন। এটি প্রোটিনুরিয়া হতে পারে, যেখানে প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বের হয়ে যায়। এতে শরীরের নরম টিস্যুতে তরল জমে যায়। যেমন জমে চোখের চারপাশে। কিডনির ক্ষতির অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ এটি।

৪. রং বুঝতে ঝামেলা

কিডনিতে কোনো সমস্যা তৈরি হলে এর প্রভাব পড়ে রং বোঝার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে নীল ও হলুদ রঙ। এর কারণ হতে পারে অপটিক নার্ভ বা রেটিনার ক্ষতি, যা দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা ইউরেমিক টক্সিন জমে যাওয়ার কারণে হয়। এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে শুরু হয়। প্রথমে চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্পষ্ট হতে থাকে। সঠিকভাবে রঙ ধরতে না পারলে অথবা দৃষ্টি নিস্তেজ হলে, বয়স হয়েছে ভেবে বসে থাকবেন না। চিকিৎসকের কাছে যান। পরীক্ষা করান।

৫. লাল বা রক্তাভ চোখ

চোখ লাল হওয়ার পেছনে অ্যালার্জি, ক্লান্তি বা সংক্রমণ— এসব সাধারণ কারণ থাকতে পারে। তবে কিডনি রোগের ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণও থাকতে পারে। রক্তচাপ বেড়ে গেলে চোখের ক্ষুদ্র রক্তনালি ফেটে গিয়ে চোখ রক্তাভ দেখাতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটো ইমিউন রোগ কিডনি ও চোখ উভয়কেই প্রদাহগ্রস্ত করে তোলে। চোখ লালের সঙ্গে যদি জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা বা ত্বকে র‍্যাশ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই পরীক্ষা ও চিকিৎসা করান।

সতর্কতা

চোখের সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, সঙ্গে ক্লান্তি, শরীর ফোলা বা প্রস্রাবে পরিবর্তন হয়, তাহলে চোখ ও কিডনি দুটোই পরীক্ষা করান।

সূত্র : মায়ো ক্লিনিক


img

ঘরোয়া উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ০৯:৩৫, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্যয়বহুল স্কিনকেয়ার পণ্যের ভিড়ে অনেকেই এখনো ঘরোয়া উপাদানেই ত্বকের যত্ন নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আমাদের ঘরে ঘরেই পাওয়া যায় এমন কিছু উপকরণ—যেমন বেসন, দই, মধু, শসা ও গোলাপজল—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। আধুনিক স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞরাও এসব প্রাকৃতিক উপাদানের উপকারিতা স্বীকার করেন। 

গোলাপজল

ত্বক সতেজ রাখতে সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় হলো গোলাপজল ব্যবহার। মুখে স্প্রে করলেই ত্বকে এনে দেয় তাৎক্ষণিক সতেজতা আর মনোরম সুবাস। বিশেষজ্ঞরা রাতে মুখ ধোয়ার পর তুলায় গোলাপজল লাগানোর পরামর্শ দেন, যা রোমকূপ টাইট করার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।  

শুষ্ক ত্বকের জন্য দই-মধুর মাস্ক

দই ত্বককে শীতল রাখে, আর মধু কাজ করে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে। এক টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগালে ত্বক হয় নরম, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়। 

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেসন-লেবুর প্যাক

এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও সামান্য পানি মিশিয়ে তৈরি করুন পেস্ট। এটি অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে কম লেবু ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে আগে প্যাচ টেস্ট করাও জরুরি।  

শসা

গৃহস্থের রান্নাঘরে সহজেই মিলে এমন শসা ত্বক ঠান্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর। চোখ ও মুখে শসার স্লাইস রাখলে ফোলাভাব কমে এবং ডার্ক সার্কেল হালকা হয়। গরমের দিনে অনেকে টোনার হিসেবেও শসার রস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। 

অ্যালোভেরা জেল

প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা খুবই জনপ্রিয়। বাসায় গাছ থাকলে সরাসরি পাতার জেল মুখে লাগানো যায়। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ব্রণ ও লালচেভাব কমাতেও সাহায্য করে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যতই ক্রিম বা প্যাক ব্যবহার করা হোক, প্রকৃত ত্বক সতেজতার মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের ভেতরের সুস্থতা। পর্যাপ্ত পানি পান, ভালো ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার ওপরই নির্ভর করে ত্বকের প্রকৃত স্বাস্থ্য। ঘরোয়া উপায়গুলো এসব ফল আরও বাড়িয়ে ত্বককে দেয় প্রাকৃতিক ও নিরাপদ যত্ন।