img

জেনে নিন, সকালের নাস্তা না খেলে কি ক্ষতি হতে পারে

প্রকাশিত :  ০৮:৪৫, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জেনে নিন, সকালের নাস্তা না খেলে কি ক্ষতি হতে পারে

সকালের নাস্তা কি আসলেই গুরুত্বপূর্ণ? ব্যস্ত জীবনে, অনেকেই মনে করেন একটু তাড়াহুড়ো করলেই চলে। কিন্তু জানেন কি, দিন শুরুর সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া? নতুন গবেষণা বলছে, সকালের নাস্তি এড়ানো শুধু ক্ষুধার কারণই নয়, এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নিয়মিত নাস্তা না খেলে হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, দুধ, দই, ডিম এবং ফোর্টিফায়েড সিরিয়ালের মতো সাধারণ নাস্ত্যকারি খাবারে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, যা হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “আমাদের হাড় সবসময় পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় থাকে — কিছু অংশ ভেঙে যায়, আবার নতুন করে গড়ে ওঠে। সকালবেলায় যদি শরীর সঠিক পুষ্টি না পায়, এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে হাড় দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।”

গবেষকরা আরও দেখেছেন, নাস্তা এড়িয়ে চললে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। কর্টিসলের মাত্রা বেশি হলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, ফলে দীর্ঘমেয়াদি হাড়ের সমস্যার ঝুঁকি আরও বাড়ে।

যারা নাস্তা এড়িয়ে চলেন, তারা প্রায়ই পরে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের অভ্যাস হাড় ভঙ্গুর করে দিতে পারে এবং আঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দিনে শুরু করুন ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার দিয়ে — যেমন দুধ, দই, বাদাম বা ফোর্টিফায়েড সিরিয়াল। সঙ্গে একটি প্রোটিনের উৎস রাখলেই হাড় মজবুত রাখা সম্ভব। হালকা হলেও সুষম নাস্তা হাড় ও শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


img

এসি ঘরে থাকলে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১১:৫০, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ত্বকের জন্য এসির আরামদায়ক আবহাওয়া অজান্তেই  ডেকে আনতে পারে নানা সমস্যা।

গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এখন অনেকেই দীর্ঘ সময় কাটান এসি কক্ষে। বাইরে প্রখর রোদ হলেও ভেতরে থাকে ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। তবে এই আরামদায়ক আবহাওয়াই অজান্তে ত্বকের জন্য ডেকে আনতে পারে নানা সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এসি পরিবেশে থাকলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং সংবেদনশীলতাও বেড়ে যেতে পারে। কারণ এসি চলার ফলে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়, এতে ত্বকের স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারিয়ে যায়। ফলে ত্বক টানটান লাগে, রুক্ষ হয়ে ওঠে, এমনকি সূক্ষ্ম রেখাও স্পষ্ট হতে শুরু করে। তাই এসি ঘরে থাকলে নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি কিছু বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার বাড়ান

এসি ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়, তাই দিনে কয়েকবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। জেল নয়, বরং ক্রিম-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার বেশি কার্যকর হতে পারে।

হাইড্রেটিং ক্লিনজার ব্যবহার করুন

অনেক ফেসওয়াশ ত্বক আরও শুষ্ক করে তোলে। তাই এমন ক্লিনজার বেছে নিন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল পুরোপুরি সরিয়ে দেয় না।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

ত্বক ভালো রাখতে ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।  

ফেস মিস্ট বা টোনার ব্যবহার

এসি ঘরে বসেও মাঝে মাঝে ফেস মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

রাতের যত্নে গুরুত্ব দিন

ঘুমানোর আগে হাইড্রেটিং সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নিজেকে পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। পাশাপাশি হাত-পায়েও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে এর ওপর হালকা বডি অয়েল বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

সতর্কতা

এসি খুব কম তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় চালিয়ে রাখা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরম থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে প্রবেশ করলেও ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখাই ভালো।

সবশেষে মনে রাখবেন, পরিবেশভেদে ত্বকের যত্নের ধরন বদলাতে হয়। তাই এসির আরাম উপভোগ করলেও ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।