img

চোখের ক্লান্তি দূর করার উপায় কি

প্রকাশিত :  ০৮:১৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

চোখের ক্লান্তি দূর করার উপায় কি

প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের জীবন ছুটছে দ্রুতবেগে। মোবাইল ও কম্পিউটার বিরতিহীন স্ক্রল, না ঘুমানো ইত্যাদি চোখের ওপর প্রভাব ফেলে। কাজের চাপ ও মানসিক চাপের কারণে দেহে ক্লান্তি ভর করে। চোখের নিচে পড়ে যায় কালো দাগ। দীর্ঘ সময় ধরে চোখের যত্ন না নেওয়া ও অবহেলার কারণে এমনটা হয়ে থাকে। চোখের ক্লান্তি ও চোখের নিচে কালো দাগ একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়, অন্যদিকে শরীর ও মনের অবসন্নতাকেও বাড়িয়ে তোলে। 

ডার্ক সার্কেল চেহারায় অসুস্থতার ছাপ ফেলে দেয়। এই সমস্যা মূলত শরীরে আয়রনের অভাব, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে হয়ে থাকে। 

চোখের ক্লান্তি দূর করার কার্যকর উপায়

ঠান্ডা পানি ব্যবহার: দীর্ঘ সময় নীল আলোর সামনে থাকলে চোখ ঝাপসা লাগে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর পর চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে হবে। দিনে ৩-৪ বার চোখে ঠান্ডা পানি দিলে চোখ সতেজ থাকবে। ক্লান্তি কমবে। 

পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের ঘাটতির কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে এবং সবসময় ক্লান্ত ক্লান্ত লাগে। এ কারণে পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। এ অভ্যাস করলে চোখের ক্লান্তি দূর হবে এবং চোখের নিচে কালো দাগ চলে যাবে। প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। এ বিশ্রাম পরের দিন কাজ করার শক্তি জোগাবে। 

প্রচুর পানি পান করা: আমরা কম পানি পান করি; যার কারণে আমাদের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন। তাহলে চোখের কালো দাগ হালকা হবে এবং শরীর হাইড্রেট থাকবে। 

কাজের মাঝে বিরতি: মোবাইল, কম্পিউটার চালানোর সময় বিরতি নিন। ১৫-২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর ২০ সেকেন্ড দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। দীর্ঘক্ষণ কাজ করে কিছু সময় চোখ বন্ধ করে রাখতে পারেন। 

চোখের ব্যায়াম করুন: চোখ ডানে, বামে, ওপরে এবং নিচে ঘোরান। এছাড়া হাত দুটি ঘষে গরম করে আলতো করে চোখের ওপর রাখুন। 

ঠান্ডা পানির সেঁক: একটি পরিষ্কার কাপড় নিয়ে তার মধ্যে কয়েকটি টুকরো বরফ নিয়ে চোখের ওপর আলতোভাবে ধরে রাখুন ৫ থেকে ১০ মিনিট। এটি দিনে ২-৩ বার করতে পারেন।

ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার: রক্ত সঞ্চালন উন্নতি করতে সাহায্য করে ভিটামিন কে। পাশাপাশি এটি ডার্ক সার্কেল কমাতেও সাহায্য করে। তাই খাদ্য তালিকায় ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। সবুজ শাকসবজি, পালং শাক, বাঁধাকপি ও ব্রকলি ভিটামিন কে এর ভালো উৎস। 

সানগ্লাস ও টুপি ব্যবহার: রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সানগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন। ছেলেরা টুপি পরতে পারেন। এ অভ্যাস আপনার চোখের চারপাশের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করবে। মডেল: মাফিন ও ফারিয়া


img

ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি

প্রকাশিত :  ১৬:৫০, ১৭ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদে মাংস সংরক্ষণ নিয়ে প্রায় সব পরিবারকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। বিশেষ করে দীর্ঘ ছুটি, অতিথি আপ্যায়ন ও একসঙ্গে বেশি পরিমাণ মাংস সংরক্ষণের কারণে অনেক সময় ফ্রিজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম দেখা দেয়। সঠিক নিয়ম না মানলে মাংসের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে সংরক্ষণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

ফ্রিজের খাবার আগেই গুছিয়ে রাখা

কোরবানির আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। দীর্ঘদিন জমে থাকা পুরোনো বা অপ্রয়োজনীয় খাবার সরিয়ে ফেললে নতুন মাংস সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ফ্রিজের তাপমাত্রাও ঠিকভাবে বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভরে ফেললে ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না, ফলে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মাংস সংরক্ষণে করণীয়

কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখার আগে ভালোভাবে রক্ত ঝরিয়ে নিতে হবে। মাংস ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি থাকলে তা শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা অবস্থায় সংরক্ষণ করলে বরফ জমে মাংসের স্বাভাবিক স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। এরপর পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্র কিংবা ভালো মানের ফুড-গ্রেড পলিব্যাগে ভরে সংরক্ষণ করা উচিত। খোলা অবস্থায় মাংস রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়।

ছোট ছোট ভাগে মাংস সংরক্ষণ

মাংস বড় আকারে না রেখে ছোট ছোট ‘ফ্যামিলি প্যাক’ আকারে ভাগ করে রাখলে ব্যবহার সহজ হয়। এতে প্রতিবার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস বের করা যায় এবং পুরো মাংস বারবার গলাতে হয় না। কারণ একবার গলানো মাংস পুনরায় ফ্রিজে রাখলে এর মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি বাড়ে।

কাঁচা ও রান্না খাবার আলাদা রাখা

ফ্রিজে কাঁচা মাংস কখনো রান্না করা খাবার, ফল বা সবজির পাশে রাখা উচিত নয়। কাঁচা মাংসের গন্ধ ও জীবাণু অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য ফ্রিজে কাঁচা মাংসের জন্য আলাদা একটি নির্দিষ্ট অংশ রাখা ভালো। এতে খাবারের নিরাপত্তা বজায় থাকে।

বিদ্যুৎ গেলে ফ্রিজ বেশি না খোলা

বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই অবস্থায় ফ্রিজ বারবার খোলা ঠিক নয়। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে দীর্ঘ সময় ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা বজায় থাকে এবং খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।

কতদিন পর্যন্ত ভালো থাকে মাংস 

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে কোরবানির মাংস সাধারণত ফ্রিজারে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাখলে ধীরে ধীরে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ কমতে শুরু করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাংস ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।