img

সকালে পেট ফাঁপা থাকলে যা করবেন

প্রকাশিত :  ০৮:১৬, ১১ জুলাই ২০২৫

সকালে পেট ফাঁপা থাকলে যা করবেন
পেট ফাঁপা থাকলে যা করবেন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই পেটে অস্বস্তিকর এক ধরনের ভারী ভাব অনুভব করেন অনেকেই। মূলত গ্যাস বা পেট ফাঁপার কারণে এই অনুভূতিটি হয়ে থাকে। এটি শুধু সকালে নয়, দিনের যেকোনো সময়ই হতে পারে। সাধারণত পেট ফাঁপার সঙ্গে ব্যথা, অতিরিক্ত গ্যাস, ঢেঁকুর ওঠা এবং পেট গরগর করার মতো উপসর্গ দেখা যায়।

খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়া, শরীরচর্চার অভাব, কম পানি পান, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া, গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার বেশি খাওয়া—এসব কারণে পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পেট ফাঁপা প্রতিরোধে এর কারণগুলো চিহ্নিত করে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। আর এর একটি কার্যকর উপায় হলো—সকালে এমন কিছু পানীয় খাওয়া, যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠী (এআইআইএমএস, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত), এমন তিনটি প্রাতঃরাশের পানীয়ের কথা শেয়ার করেছেন যা দ্রুত পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

ড. শেঠীর পরামর্শে ৩টি সকালের পানীয় যা দূর করবে পেট ফাঁপা

১. হালকা গরম আদা চা

ড. শেঠী জানান, আদা চা হজমে সাহায্য করে এবং দেহের প্রদাহ কমায়, যা পেট ফাঁপা কমাতে কার্যকর। এছাড়া এটি বমিভাব, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়তা করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও আদা চা উপকারী।

২. প্লেইন কেফির 

কেফির হলো এক ধরনের ফারমেন্টেড দুগ্ধজাত পানীয়, যা দেহের জন্য উপকারী প্রোবায়োটিকে সমৃদ্ধ। এটি হজমের জন্য সহজ এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর। ড. শেঠীর মতে, কেফিরে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হজমে সহায়তা করে এবং এটি হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা ও ল্যাকটোজ কমাতে সহায়তা করে।

৩. গরম পানি, মধু ও দারচিনির মিশ্রণ

এই পানীয়টি পেটকে শান্ত করে এবং হজমের গতি বাড়ায়। একই সঙ্গে অন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধেও কার্যকর। মধু ও দারচিনির যুগলবন্দি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে।

প্রসঙ্গত, উল্লেখিত পানীয়গুলো পেট ফাঁপার তাৎক্ষণিক উপশম দিতে পারে। তবে যদি আপনার পেট ফাঁপার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এর পেছনে থাকতে পারে অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা। 


img

এসি ঘরে থাকলে ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ১১:৫০, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ত্বকের জন্য এসির আরামদায়ক আবহাওয়া অজান্তেই  ডেকে আনতে পারে নানা সমস্যা।

গরমের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এখন অনেকেই দীর্ঘ সময় কাটান এসি কক্ষে। বাইরে প্রখর রোদ হলেও ভেতরে থাকে ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। তবে এই আরামদায়ক আবহাওয়াই অজান্তে ত্বকের জন্য ডেকে আনতে পারে নানা সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এসি পরিবেশে থাকলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং সংবেদনশীলতাও বেড়ে যেতে পারে। কারণ এসি চলার ফলে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়, এতে ত্বকের স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারিয়ে যায়। ফলে ত্বক টানটান লাগে, রুক্ষ হয়ে ওঠে, এমনকি সূক্ষ্ম রেখাও স্পষ্ট হতে শুরু করে। তাই এসি ঘরে থাকলে নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি কিছু বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার বাড়ান

এসি ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়, তাই দিনে কয়েকবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। জেল নয়, বরং ক্রিম-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার বেশি কার্যকর হতে পারে।

হাইড্রেটিং ক্লিনজার ব্যবহার করুন

অনেক ফেসওয়াশ ত্বক আরও শুষ্ক করে তোলে। তাই এমন ক্লিনজার বেছে নিন, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল পুরোপুরি সরিয়ে দেয় না।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

ত্বক ভালো রাখতে ভেতর থেকে আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।  

ফেস মিস্ট বা টোনার ব্যবহার

এসি ঘরে বসেও মাঝে মাঝে ফেস মিস্ট ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ থাকে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

রাতের যত্নে গুরুত্ব দিন

ঘুমানোর আগে হাইড্রেটিং সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নিজেকে পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। পাশাপাশি হাত-পায়েও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে এর ওপর হালকা বডি অয়েল বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

সতর্কতা

এসি খুব কম তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় চালিয়ে রাখা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরম থেকে হঠাৎ ঠান্ডা পরিবেশে প্রবেশ করলেও ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখাই ভালো।

সবশেষে মনে রাখবেন, পরিবেশভেদে ত্বকের যত্নের ধরন বদলাতে হয়। তাই এসির আরাম উপভোগ করলেও ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন।