img

পেট ফাঁপা থেকে মুক্তি পেতে কী খাবেন

প্রকাশিত :  ১৫:২৬, ০৬ আগষ্ট ২০২৫

পেট ফাঁপা থেকে মুক্তি পেতে কী খাবেন

পেট ফাঁপা সমস্যা একটু বেশি দেখা দেয় বর্ষার সময়ে। এক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করতে পারে পরিচিত কিছু খাবার।  সেইসঙ্গে বাদ দিতে হবে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাদার ও অস্বাস্থ্যকর সব ধরনের খাবার। 

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক, বর্ষায় কোন খাবারগুলো আপনাকে পেট ফাঁপার সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে-

১. শসা

৯৫% পানি সমৃদ্ধ শসা অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সাহায্য করে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে। এতে কোয়ারসেটিনও রয়েছে। কোয়ারসেটিন একটি ফ্ল্যাভোনয়েড যার প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি পাচনতন্ত্রকে শান্ত করতে কাজ করে।

২. আনারস

গ্রীষ্মের এই ফলে ব্রোমেলেন রয়েছে।  এটি একটি এনজাইম, যা প্রোটিন ভেঙে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি হালকা, সতেজ এবং হজমে সহায়তা করে। তাই পেট ফাঁপা কমাতে নিয়মিত আনারস খেতে পারেন।

৩. দই

দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে করে। এতে ল্যাকটোব্যাসিলাস এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়াম রয়েছে যা অন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। প্রোবায়োটিক দই গ্যাস কমাতে এবং হজম উন্নত করতে কাজ করে।

৪. আদা

প্রাকৃতিক কার্মিনেটিভ হিসেবে ব্যবহৃত আদা গ্যাস গঠন কমায় এবং গ্যাস্ট্রিক খালি করতে সহায়তা করে। এটি অন্ত্রের পরিবহনও উন্নত করে। আদাকে আপনার দৈনন্দিন খাবার তালিকায় যোগ করে নিন। এতে পেট ফাঁপার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে।

৫. পুদিনা পাতা

পুদিনা মেন্থল সমৃদ্ধ, যা অন্ত্রের পেশী শিথিল করে এবং পেট ফাঁপা দূর করে। বেশ কয়েকটি ক্লিনিকাল গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি আইবিএস-সম্পর্কিত লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সহায়ক। তাই নিয়মিত পুদিনা পাতা বা এর চা খাওয়ার অভ্যাস করুন।

img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।