img

দক্ষিণ কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় রোস্টারভুক্ত ভিসা প্রত্যাশীদের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশিত :  ০৬:৩৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫০, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

দক্ষিণ কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় রোস্টারভুক্ত ভিসা প্রত্যাশীদের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

দক্ষিণ কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় পাস করা রোস্টারভুক্ত ডিলিট হওয়া (ইপিএস) কর্মীদের পুনঃরোস্টার ও সব রোস্টারভুক্তকে ভিসা ইস্যু করার লক্ষ্যে ৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইপিএস কর্মীরা।

আজ মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় রোস্টারভুক্ত সকল ভিসাপ্রত্যাশী’র ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন তারা।

এ সম্পর্কে রোস্টারভুক্ত ভিসাপ্রত্যাশী'রা বলেন, ‘ভাষা শিক্ষার দুই বছর পার হয়ে গেলে আমাদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকশ লোক ভাষা শিখেছেন, অথচ এখন মেয়াদ শেষ। এত কষ্ট করে এত টাকা খরচ করে আমরা ভাষা শিখেছি, সেটা কি বিফলে যাবে? আমরা আর কত অপেক্ষা করবো?

ইপিএস কর্মীদের চলমান সংকট নিরসনের জন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ হতে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়:

১. ২০২২ সাল থেকে শুরু করে যে সকল কর্মী ডিলেট হয়েছে বা হবে সে সকল কর্মীদের রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পূণঃরোস্টার বাধ্যতামূলক করতে হবে। এবং ২০২৩ সাল সহ যে সকল ইপিএস কর্মী রোস্টারে আছে তাদের ডিলিট না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

২. দুই বছরের ১০টি ইস্যুতে ৭-৮ বার কোম্পানির মালিকের কাছে আমাদের ফাইল বাধ্যতামূলক পৌছাতে হবে এবং সেটা সিরিয়াল/সাল/বছর অনুযায়ী হতে হবে। ৩. বর্তমান রোস্টারকৃত কর্মীদের মধ্যে ৭৫-৮৫ ভাগ কোরিয়াতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সকল প্রকার

সার্কুলার বাণিজ্য বন্ধ রাখতে হবে। ৪. কোরিয়ার প্রত্যেক বানিজ্যিক জোনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক এজেন্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে, কমপক্ষে (৪-৫ জন)। যারা

প্রত্যেক ইস্যুর পূর্বে তাদের নির্ধারিত জোনের আওতাভুক্ত কোম্পানিতে গিয়ে ইস্যুর জন্য কোম্পানির মালিকদের উৎসাহিত করবে। ৫. ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন মুক্ত বাংলাদেশ ইপিএস ঘোষণা করতে হবে। আর্থিক লেনদেনের কোন প্রমান পেলে বোয়েসেল/এইচ.আর.ডি সেই সকল চত্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয় কোন পক্ষ থাকলে তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৬. নতুন নতুন খাত/সেক্টর খুঁজে বের করে রোস্টারভুক্তদের মধ্য হতে সরকারি প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী গড়ে তুলে তাদের কোরিয়া যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় ও কূটনৈতিক বিচক্ষন্তার মাধ্যমে সকল রোস্টারভূক্তদের কোরিয়ায় প্রবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারিভাবে যাতে কোন কর্মী কোরিয়াতে প্রবেশ করতে না পারে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৭. মৎস, কনস্ট্রাকশন, শিপ বিল্ডিং খাতের ভিসা ইস্যু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। রোস্টারকৃত কর্মীদের ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন অঞ্চল থেকে রোস্টারবিহীন কাউকে ভিসা ইস্যু করা যাবেনা, এই বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অন্য খাত/সেক্টরে রোস্টার পরিবর্তন করে হলেও ভিসা ইস্যু নিশ্চিত করতে হবে।

৮. কোরিয়া প্রবাসী কোন কর্মী কোম্পানি পরিবর্তন বা রিলিজ নেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির এজেন্ট স্ব-শরীরে কোম্পানিতে গিয়ে সমস্যা সমাধান করতে হবে।

৯. বর্তমান সংকট নিরসনে দ্রুততার সহিত বোয়েসেলের কর্মকর্তাগন সফল না হলে ব্যার্থতার দ্বায় নিয়ে অতিশীগ্রই তাদের পদত্যাগ করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপে বোয়েসেলকে বিচক্ষণ লোকদের সমন্বয়ে ঢেলে সাজাতে হবে।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

দেশের এইচএসসি লেভেল সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান: সংসদে ববি হাজ্জাজ

প্রকাশিত :  ১৩:২৯, ১৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:০১, ১৪ জুন ২০২৬

গত দুই দশকের অবহেলার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মানকে অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার ও আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

আজ রোববার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিগত দুই দশকের শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় চরম নৈরাজ্য চলেছে। যার ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা পাস করতে পারছে না। এমনকি আমাদের এইচএসসি লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান মনে করা হয়। এই লজ্জা থেকে মুক্তি পেতে আমরা কারিকুলাম, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রাথমিক শিক্ষার চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কিছু রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে যে সাংস্কৃতিক শিক্ষা সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে। অথচ এই পক্ষই অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। তাদের এই নোংরা মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

বাজেটের অর্থনৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি আশাবাদী বাজেট। এখানে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং পুরোনো কলকারখানা পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে জাতীয় আয় বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করতে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি বিরোধী দলকে সরকারের এই অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা এর আরও খবর