img

কেন মহানায়কের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছিলেন অমিতাভ?

প্রকাশিত :  ২১:২২, ২৪ জুন ২০২৫

কেন মহানায়কের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছিলেন অমিতাভ?

উত্তম কুমার ভারতীয় বাংলা সিনেমার মহানায়ক । তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে  শুধু অভিনেতা নন, একজন কিংবদন্তি। যার চোখের চাহনি, সংলাপ বলার ভঙ্গি আর পর্দায় উপস্থিতি আজও কোটি বাঙালির হৃদয়ে রাজত্ব করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, একবার সেই মহানায়কের সামনে বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনকে পড়তে হয়েছিল বিব্রতকর এক পরিস্থিতিতে। সেসময় শুটিং সেটে উত্তম কুমারের পা ধরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন অমিতাভ।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মহানায়কের সঙ্গে অমিতাভের প্রথম দেখা ‘দেশপ্রেমী’ ছবির মহরতেই। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তমপুত্র গৌতমও। উত্তমকে দেখামাত্রই পায়ে হাত দিয়ে তাকে প্রণাম করেছিলেন অমিতাভ। সেদিন বহুক্ষণ আড্ডা দিয়েছিলেন দুজনে।

আরও জানা যায়, ছবির প্রথম দিনের শুটিংয়ে মহানায়ক শুটিং ফ্লোরে পৌঁছে গিয়েছিলেন একেবারে সঠিক সময়ে। এমন কী, সময় মতো পৌঁছে নিজেকে তৈরিও করে ফেলেছিলেন। প্রথমদিনই অমিতাভের সঙ্গে তার দৃশ্যের শুটিং। প্রায় ২ ঘণ্টা পর অমিতাভ এলেন শুটিং ফ্লোরে। অমিতাভের এমনটা করায় একটু বিরক্তই হয়েছিলেন উত্তম।

পরবর্তীতে শুটিং হলো শুরু। ক্যামেরার সামনে এলেন অমিতাভ ও উত্তম। পরিচালক মনমোহন দেশাই অ্যাকশন বলতেই উত্তম সংলাপ বললেন, কিন্তু আটকে গেলেন অমিতাভ। সেদিন প্রায় বহুবার একই দৃশ্য রিটেক হয়েছিল অমিতাভের ভুলে। ঠিক এই সময়ই উত্তমের বিরক্তি যায় বেড়ে। পরে ফ্লোর ছেড়ে উত্তম সোজা চলে যান মেকআপ রুমে।

এরপর উত্তমের এই বিরক্তি দেখে, মহানায়কের মেকআপরুমে হাজির হয়েছিলেন অমিতাভ। উত্তমের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে, তিনি বলেছিলেন, আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনার মতো এত বড় অভিনেতা হতে পারব না। তাই আপনি সামনে থাকায় নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। অমিতাভের মুখে এমন কথা শোনায়, সব বিরক্তি ঝেরে ফেলে অমিতাভকে বুকে আগলে ধরেছিলেন উত্তম।

এখানে উল্লেখ্য যে, ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি উত্তমের আর দেখা হয়ে ওঠেনি। তার দুবছর আগেই সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান পরলোকে।

বিনোদন এর আরও খবর

img

কাকে ‘ভণ্ড হুজুর’ বললেন মারিয়া মিম

প্রকাশিত :  ০৮:১০, ১২ মে ২০২৬

ছোট পর্দার পরিচিত অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমানের প্রাক্তন স্ত্রী ও মডেল মারিয়া মিমের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই পোস্টে নাম উল্লেখ না করে একজনকে ‘ভণ্ড হুজুর’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে মারিয়া মিম লেখেন, ‘ভণ্ড হুজুর ফেসবুকটা নোংরা বানায় ফেলতেছে।’ পোস্টটি প্রকাশের পরই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই ধারণা করছেন, তিনি তার প্রাক্তন স্বামী সিদ্দিকুর রহমানকেই ইঙ্গিত করেছেন।

পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সরাসরি সিদ্দিকুর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন। অনেকে মনে করছেন, অভিনেতার সাম্প্রতিক ধর্মীয় বেশভূষা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই মন্তব্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর গত ১৮ মার্চ মুক্তি পান সিদ্দিকুর রহমান। মুক্তির পর তার চেহারা ও জীবনাচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। বর্তমানে তিনি নিয়মিত টুপি পরেন এবং দাঁড়ি রেখেছেন। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি ধর্মীয় অনুশীলনে মনোযোগী হওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মারিয়া মিমকে নিজের ‘দুর্বল জায়গা’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। ফলে সাম্প্রতিক ভাইরাল ভিডিও ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপটেই এই পোস্ট এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এদিকে সম্প্রতি এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত জীবন ও প্রাক্তন স্বামীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন মারিয়া মিম। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রহস্যময় এই পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সিদ্দিকুর রহমান ও মারিয়া মিম। ২০১৯ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের সংসারে আরশ হোসাইন নামে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে সর্বশেষ পোস্টে তিনি কাকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি মারিয়া মিম।