কারিনা কায়সারের জন্য আসছে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স, নেওয়া হবে ভারতে
প্রকাশিত :
০৯:২৮, ১১ মে ২০২৬
উন্নত চিকিৎসার জন্য অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারকে দেশের বাইরে নেওয়া হচ্ছে। তার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স আনা হচ্ছে। আজ সোমবার বিকেলেই তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হবে।
সোমবার দুপুরে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন কারিনার বাবা জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।
পরিবারের পক্ষ থেকে কারিনা কায়সারের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
কারিনার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। কয়েক দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জানা যায়, তার শরীরে সংক্রমণ হয়েছে এবং তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হয়েছেন।
গত শুক্রবার রাত থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
কারিনার সর্বশেষ শারিরীক অবস্থা জানিয়ে পরিবার জানায়, তার অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। তবে চিকিৎসকেরা আপাতত তার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীদের মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন আলভী। শুনানি শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
অভিনেতার জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। প্রেমের বিয়ে করার কারণে বাদী শুধু ব্যক্তিগত জিদ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
আরও বলা হয়, আসামি গুরুতর অসুস্থ। ক্রনিক অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস বা গুরুতর হাঁপানি রোগে ভুগছেন।
গত ১৩ জুন আসামি অ্যাজমা এট্যাক হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আসামির বর্তমান শারীরিক অবস্থায় কোনোভাবেই বন্ধ জায়গায় বা জেল-হাজতে আটক রাখা সমীচীন হবে না। যা কিনা তার শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য জামিনে মুক্তি দিয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা অনিবার্য।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন রাতেই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আসামি পক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূইয়াসহ অনেকেই আলভীর পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, আলভী ও ইকরা ২০১০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছিলেন।