img

বাড়ির নাম 'রামায়ণ' রাখা নিয়ে বিতর্ক, কটাক্ষের মুখে সোনাক্ষী

প্রকাশিত :  ০৮:০৩, ০২ জুন ২০২৬

বাড়ির নাম 'রামায়ণ' রাখা নিয়ে বিতর্ক, কটাক্ষের মুখে সোনাক্ষী

জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহার ৩৯তম জন্মদিন আজ। প্রখ্যাত অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহা এবং পুনম সিনহার কন্যা ১৯৮৭ সালে বিহারের পাটনায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১০ সালে সালমান খানের বিপরীতে \'দাবং\' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। 

‘দাবাং’ সিনেমায় প্রথম নজর কেড়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার কন্যা সোনাক্ষী সিনহা। বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের বিপরীতে সোনাক্ষীর অভিনয় ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা। তবে তারপর থেকে বহু বাধা ও বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেত্রী।

বিয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সোনাক্ষী সিনহা। অভিনেতা জাহির ইকবালের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক তার। কিন্তু ভিন্নধর্মী বিয়ে বলে সমালোচনার শিকার হন অভিনেত্রী। ২০২৪ সালের জুন মাসে জাহিরের সঙ্গে সোনাক্ষীর বিয়ে হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাদের বিয়ের পোস্টে মন্তব্য বিভাগও বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। এ বিয়েতে পরিবারের মত ছিল না, এমনও শোনা যায়। ভিন্নধর্মী বিয়ের কারণেই নাকি বহু দিন ধরে পরিবারকে রাজি করিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

বিয়ের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার একাধিকবার গুজব ছড়িয়েছে সোনাক্ষীর। বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই তার মা হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রকাশ্যে এ জল্পনার সমালোচনা করেন এবং গুজব উড়িয়ে দেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত কৌতূহল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। অবশ্য তারপরও একাধিকবার এই একই গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

বলিউডের স্বজন বিতর্কেও উঠে এসেছে সোনাক্ষীর নাম। শত্রুঘ্ন সিনহার মেয়ে হওয়ার কারণে তাকে প্রায়ই ‘নেপোটিজম’ বিতর্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সালমান খানের বিপরীতে ‘দাবাং’ সিনেমার মাধ্যমে তার সফর শুরু হওয়ায় বারবার এ বিতর্ক তার নামের সঙ্গে জড়িয়েছে।

সোনাক্ষী সিনহা দীর্ঘাঙ্গী ও স্বাস্থ্যবতী। বলিউডে আসার আগে সোনাক্ষীর ওজন বেশি ছিল বলে নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন কমান। কিন্তু তাও ওজন ও চেহারার গড়ন নিয়ে তাকে কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল। যদিও ‘বডিশেমিং’-এর বিরুদ্ধে সরব হতে দুবার ভাবেননি অভিনেত্রী।

এর আগে ২০১৯ সালে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-তে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সোনাক্ষী সিনহা। সেই সময়ে ‘রামায়ণ’সংক্রান্ত একটি সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি অভিনেত্রী। 

কার জন্য সঞ্জীবনী এনেছিলেন হনুমান?— এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি সোনাক্ষী। তার অনুরাগীরা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিনেত্রীকে। সোনাক্ষীর বাড়ির নাম ‘রামায়ণ’। দুই ভাইয়ের নাম লব ও কুশ। তাও কীভাবে তিনি এই প্রশ্নের উত্তর জানেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে। ২০২৪ সালে অভিনেতা মুকেশ খান্নাও এ ঘটনা নিয়ে সোনাক্ষীকে কটাক্ষ করেছিলেন।

কবি কুমার বিশ্বাসের মন্তব্য ঘিরেও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নাম না করেই তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, শৈশব থেকেই শিশুদের রামায়ণ ও গীতা পড়ানো দরকার। তা না হলে বাড়ির নাম ‘রামায়ণ’ হলেও অন্য কেউ আপনার ঘরের লক্ষ্মীকে নিয়ে চলে যাবেন। এ মন্তব্যের নিশানায় রয়েছেন সোনাক্ষী, এমনটিই মনে করেছিলেন নেটিজেনরা।


img

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদকে নিয়ে মাহিয়া মাহির বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৮:১৫, ১১ জুলাই ২০২৬

বহুল আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি ও সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পুরোনো সেই অডিও ফাঁসের ঘটনাটি নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে মাহি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন।

ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ডা. মুরাদ হাসানের দ্বারা ভুক্তভোগী বলে অভিযোগ মাহির।

এ চিত্রনায়িকা জানান, ডা. মুরাদ হাসান তাকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতেন বলে তিনি প্রতিমন্ত্রীর নম্বর ব্লক করে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া অডিওতে ডা. মুরাদ নিজেই বলেছিলেন, ‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহি বলেন, তিনি সরাসরি ফোন ধরতেন না বলেই ডা. মুরাদ অন্য মানুষের ফোন ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।

অডিওতে ডা. মুরাদ হাসান মাহিকে তুলে নেওয়ার জন্য র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআই পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মাহি প্রশ্ন তোলেন, যদি তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্কই থাকত, তবে কেন তাকে এভাবে ভয় দেখানো হতো? মূলত ডা. মুরাদকে এড়িয়ে চলতেন বলেই তাকে দমাতে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো হয়েছিল।

হুমকি পাওয়ার পর মাহি ইন্ডাস্ট্রির অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং সহকর্মীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। অনেকেই বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ডা. মুরাদ মন্ত্রী হওয়ায় সবাই \"আমরা কী করব?\" বলে এড়িয়ে যান।

এমনকি কিছু সহকর্মী রাতে ফোন করে মাহিকে সতর্ক করতেন যেন রাত ১১টার পর তিনি ফোন না ধরেন, কারণ ওই সময়ে ডা. মুরাদ তাদের সামনেই থাকতেন।

মাহি বলেন, তিনি যদি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাতে পারতেন, তবে অবশ্যই বিষয়টি তাকে জানাতেন এবং বিশ্বাস করেন যে তিনি এর বিচার করতেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি তাকে একাই ঠান্ডা মাথায় ও ভদ্রভাবে সামলাতে হয়েছিল।

অডিওতে ডা. মুরাদের গালিগালাজের বিপরীতে মাহির হেসে কথা বলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এর জবাবে মাহি বলেন, \"আমি যদি তখন গালিগালাজ করতাম আর পরে আমার বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যেত, সেই দায়িত্ব কে নিত?\"

সবশেষে মাহি দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডা. মুরাদ শুধু তাকেই নয়, চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেক নায়িকা, কণ্ঠশিল্পী এবং সংবাদ উপস্থাপিকাকে একইভাবে উত্যক্ত ও হেনস্তা করেছেন। ক্ষমতার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই—নিউজ প্রেজেন্টার, সিঙ্গারসহ অসংখ্য নারী তার (ডা. মুরাদ হাসান) বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাই বিষয়টা অনেকেই বুঝবেন না।’