ট্রাম্পের ৩০ শতাংশ শুল্ক

img

যুক্তরাষ্ট্রকে পালটা ব্যবস্থার হুমকি ইউরোপীয় কমিশনের

প্রকাশিত :  ০৬:২৬, ১৩ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রকে পালটা ব্যবস্থার হুমকি ইউরোপীয় কমিশনের

ট্রাম্পের ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ কার্যকর হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইউরোপ। গতকাল শনিবার ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন এই হুমকি দিয়েছেন।

উরসুলা জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ১ আগস্ট থেকে ইউরোপীয় পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, তাহলে ইইউ তার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পর বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানির উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ১ আগস্ট থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ও ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশের জন্য নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ইইউর নির্বাহী শাখার প্রধান ভন ডের লেইন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইইউ ‘১ আগস্টের মধ্যে একটি চুক্তির জন্য কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিশ্বের খুব কম অর্থনীতিই ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্মুক্ততা এবং ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলনের সাথে মেলে।”

যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, “প্রয়োজনে আনুপাতিক প্রতিকার গ্রহণসহ, ইইউর স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেব।”

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর