ইস্তাম্বুলে ট্রাম্প-পুতিনকে এক টেবিলে বসাতে চান এরদোগান
প্রকাশিত :
০৮:১৩, ২৬ জুলাই ২০২৫
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইস্তাম্বুলে একত্রিত করতে তুরস্ক কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ইস্তাম্বুলে তিনি এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানান।
এরদোগান বলেন, ‘এই সপ্তাহে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই দুই নেতাকে ইস্তাম্বুলে একত্রিত করতে পারি কিনা, সেই চেষ্টা করব’।
এর আগে বুধবার মস্কো ও কিয়েভ ইস্তাম্বুলে তৃতীয় দফার বৈঠকে বসেছিল। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে উভয় পক্ষই নিজ নিজ প্রস্তাবনা বিনিময় করেছে।
এদিকে, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভাবনীয় অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন এরদোগান। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৭তম আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলা (আইডিইএফ) ২০২৫ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা শিল্পে আইডিইএফ যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা বিশ্ব মঞ্চে একটি স্বতন্ত্র স্থান অধিকার করে আছে’।
তুরস্কের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বড় আকারের ক্রয়াদেশ পেতে শুরু করেছি এবং সেগুলো পূর্ণ গতিতে আসছে’।
এরদোগান বলেন, ‘প্রতিরক্ষা শিল্পে টিকে থাকতে হলে আপনাকে প্রথমে একটি অত্যন্ত অনন্য অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যদি আপনি সেই অবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন, তবে বিশ্ব মঞ্চে এই সংগ্রামে সফলভাবে টিকে থাকা সম্ভব নয়’।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্ভাবনা ছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু এখন তা প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আশা করি, আমরা আরও শক্তিশালী হব’।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার শুরু হওয়া ছয় দিনব্যাপী আইডিইএফ প্রতিরক্ষা মেলার ১৭তম আসরটি ইস্তাম্বুল ফেয়ার সেন্টার, আতাতুর্ক বিমানবন্দর, ওয়াও হোটেল এবং আতাকয় মেরিনায় একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সচিবালয় এবং তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী ফাউন্ডেশনের সহায়তায় কেএফএ ফেয়ার্স এই মেলার আয়োজন করেছে। আনাদোলু এই আয়োজনের বৈশ্বিক যোগাযোগ সহযোগী হিসেবে কাজ করছে।
ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমান: দুই মার্কিন সেনাকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দিয়েছিলেন হেগসেথ
প্রকাশিত :
০৫:৫৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৬:০৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ বছরের এপ্রিলে ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই সদস্যকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ পেন্টাগনের কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মকর্তা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। ‘৬০ মিনিটস’-এর নতুন মৌসুমের প্রথম পর্বে ওই সাক্ষাৎকার প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।
সিবিএস জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে রাজি হওয়া মার্কিন সেনাকে শুধু ‘ব্রাভো’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। তিনি ওই যুদ্ধবিমানের ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার ছিলেন এবং কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ইরানের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় দুই দিন একা অবস্থান করার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। এটি হবে ওই কর্মকর্তার ঘটনা ও উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে দুই সেনাই সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, কার্যত তাদের ওই সাক্ষাৎকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ উদ্ধার হওয়া দুই সেনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ‘ব্রাভো’ সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হন। তবে অপর সেনা, ‘আলফা’, এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ওয়াশিংটন এখনো তাদের কারও পরিচয় প্রকাশ করেনি।
সিএনএনের দাবি, এই ঘটনাটি দেখিয়েছে—ইরানের সঙ্গে অজনপ্রিয় যুদ্ধকে ঘিরে জনমত ও বয়ান নিজেদের অনুকূলে গড়ে তুলতে হেগসেথ কীভাবে ওই দুই সেনার বেঁচে থাকা ও উদ্ধার হওয়ার নাটকীয় ঘটনাকে কাজে লাগাতে চেয়েছেন।
তবে পেন্টাগন এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনকে বলেছেন, প্রতিবেদনটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
পারনেল বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যেক সেনার নিজস্ব ছিল—কারণ এটি তাদের গল্প।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিএনএনও উল্লেখ করেছে, একজন সেনা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অন্যজন নেননি। পাশাপাশি, অপারেশনাল নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্যের উৎস ও পদ্ধতি সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরক্ষা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।’
‘৬০ মিনিটস’-এর সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেল ওই প্রতিবেদন তৈরির সময় হেগসেথ, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারেরও সাক্ষাৎকার নেন।
কীভাবে ভূপাতিত হয়েছিল যুদ্ধবিমানটি?
গত ৩ এপ্রিল ইরানের আকাশে মার্কিন এয়ার ফোর্সের এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এটিই ছিল ইরানের হাতে ভূপাতিত প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান।
বিমানটিতে থাকা দুই সেনাই প্যারাসুটে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ওই যুদ্ধ শুরু করেছিল ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি দূর করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল করার ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে।
যুদ্ধবিমানের পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার ইরানের দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। তাকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইরানি বাহিনীও তাকে খুঁজছিল।
ইসরাইল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে মার্কিন উদ্ধার অভিযানকে সহায়তা করে। এমনকি নিখোঁজ মার্কিন সেনা যে এলাকায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানে হামলাও পিছিয়ে দেয় ইসরাইল।
পাহাড়ে একা ছিলেন প্রায় দেড় দিন
বিমান থেকে নামার সময় ওই ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার অচেতন হয়ে পড়েন এবং মাথায় আঘাত পান। ফলে প্রথমদিকে তিনি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
পরে তিনি যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এরপর ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পাহাড়ি এলাকায় চলাচল করতে থাকেন। ইসরাইলি প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ হেঁটে একটি পাহাড়ি ফাটলে লুকিয়ে ছিলেন এবং উদ্ধারের অপেক্ষা করছিলেন।
প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী আহত ওই কর্মকর্তার কাছে পৌঁছায়। তাকে উদ্ধারে ব্যাপক বিমান সহায়তা দেওয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, ইরানি সেনারা বিপুল সংখ্যায় ওই মার্কিন সেনাকে খুঁজছিল এবং মার্কিন বাহিনী পৌঁছানোর সময় তারা তার অবস্থানের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।
উদ্ধার অভিযানেও বড় বিপদ
ওই সেনাকে এবং উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনার জন্য ব্যবহারের কথা ছিল দুটি মার্কিন পরিবহন বিমানের। কিন্তু প্রত্যন্ত একটি বিমানঘাঁটিতে গিয়ে বিমান দুটি আটকে পড়ে।
ইরানের হাতে বিমান দুটি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। পরে বিকল্প বিমান এনে আহত কর্মকর্তাসহ উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনা হয়।