img

নির্ঝর মেধা প্রকল্প মৌলভীবাজার এর ৩৪তম মেধা নির্বাচনী পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নির্ঝর মেধা প্রকল্প মৌলভীবাজার এর ৩৪তম মেধা নির্বাচনী পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

জেসমিন মনসুর: ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত মৌলভীবাজার জেলার  শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন  নির্ঝর মেধা প্রকল্প  এর ৩৪তম মেধা নির্বাচনী পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গত ৩০ আগষ্ট শনিবার সকাল ১১ ঘটিকায় মৌলভীবাজার পৌর মিলনায়তনে  বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রচুর শিক্ষাথ শিক্ষক, অবিভাবক ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

নির্ঝরের সভাপতি প্রফেসর ড. মো.ফজলুল আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মহতি পোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সিলেট এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মো.আনেয়ার হোসেন চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.আবু ইউসুফ মো.শেরউজ্জামান, নির্ঝর মেধা প্রকল্প এর সহ-সভাপতি প্রফেসর রফি আহমেদ চৌধুরী, প্রফেসর মো.সেলিম এবং প্রফেসর সৈয়দ মো. মহসিন উপস্থিত ছিলেন।

নির্ঝরের যুগ্ম সম্পাদক মান্নান আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নির্ঝরের সাধারণ সম্পাদক সুরাইয়া বেগম চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, নির্ঝরের যুগ্ম সম্পাদক ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজ এর অধ্যক্ষ শাহ গিয়াস উদ্দিন, দি ফ্লাওয়ারস কে জি এন্ড হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. লোকমান মিয়া, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল বাছিত, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম, শাহ হেলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা অপরাজিতা রায়, আলী আমজদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ এর সহকারী শিক্ষিকা সৈয়দ এহসানা রহমান এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রচার সম্পাদক শরীফ উদ্দিন প্রমুখ।

পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা অনুষ্ঠানে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। অতিথিবৃন্দ পুরষ্কারপ্রাপ্ত ৯৬ জন ছাত্র-ছাত্রীর হাতে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং ম্যাগাজিন তোলে দেন। এবারের শ্রেষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় আনন্দ বিদ্যাপিট কুলাউড়া এবং শ্রেষ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় দি ফ্লাওয়ারস কে জি এন্ড হাই স্কুল।

এদিকে বৃটেন থেকে নির্ঝর মেধা প্রকল্প মৌলভীবাজার  ইউকের চীফ কো-অর্ডিনেটর  ও ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মকিস মনসুর এক শুভেচ্ছাবার্তায়  ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত নির্ঝর মেধা প্রকল্প মৌলভীবাজার এর ৩৪তম মেধা নির্বাচনী পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন করতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, যারা অনুদান প্রদান করেছেন এবং যে সব সম্মানিত অতিথিবৃন্দ ও সূধীবৃন্দ উপস্থিত হয়েছেন এবং যেসব কৃতি ছাত্র-ছাত্রীরা পুরুস্কার পেয়েছেন সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনে ও সংগঠন এর অগ্রযাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আজকের এই দিনে তিনি নির্ঝর এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ  সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি মরহুম প্রফেসর ফয়জুর রহমান স্যার, নির্ঝর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি  প্রয়াত অধ্যাপক করুণাময় রায় স্যার, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম আনকার আহমদ ও প্রবাসী সমন্নয়ক ফয়জুর রহমান কয়সর  সহ যারা ইতিমধ্যে চলে গেছেন না ফেরার দেশে উনাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাঁদের সবার  আত্মার মাগফেরাত কামনা ও প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজবধি যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং সহায়তা করে আসছেন সবার সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাসহ আসুন দেশে বিদেশে বসবাসকারী সকল মৌলভীবাজার জেলাবাসীকে  নির্ঝর মেধা প্রকল্পের এই মহতি কাজে সহযোগিতার হাত প্রসারিত  করার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার কবলে অর্ধলক্ষাধিক লোক

প্রকাশিত :  ১৬:৫৮, ১১ জুলাই ২০২৬

এক টানা বৃষ্টির ফলে উজানের ঢলে নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২২টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত হয়ে আছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১১ হাজারের বেশি পরিবার। এতে অর্ধ লক্ষাধিক লোক বন্যার কবলে পড়েছেন।

এই দুই জেলায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সংকট।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর দুটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় সদর, বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে এবং রাধাপুর এলাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। পানি বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়ারল্যাস অপারেটর মো. নুর উদ্দিন বলেন, জেলার তিনটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারেও মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরফ মিয়া শুক্রবার বিকেলে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও তিনি ঘরে থেকে যান।

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর