img

স্বাস্থ্য গবেষণায় বাজেট কম, পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ০৯:২৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতের তুলনায় ১৯ গুণ কম বরাদ্দ

স্বাস্থ্য গবেষণায় বাজেট কম, পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় স্বাস্থ্য গবেষণায় বাজেট বরাদ্দে  অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের তুলনায় এ খাতে বাংলাদেশের বাজেট প্রায় ১৯ গুণ কম। এমনকি শ্রীলঙ্কার তুলনাতেও চার গুণ পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমআরসির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার।

তিনি জানান, ভারতের গবেষণা কাউন্সিল আইসিএমআরের বার্ষিক বাজেট ২৮৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে জনসংখ্যা অনুযায়ী মাথাপিছু বরাদ্দ ০.১৯ ডলার। অন্যদিকে, বিএমআরসির বাজেট মাত্র ১ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মাথাপিছু মাত্র ০.০১ ডলার। শ্রীলঙ্কার জাতীয় গবেষণা পরিষদের (এনআরসি) বাজেট ০.৮৬ মিলিয়ন ডলার, যা মাথাপিছু ০.০৪ ডলার।

অধ্যাপক সায়েবা আক্তার বলেন, ‘এ ধরনের চরম বৈষম্য বাংলাদেশের গবেষণার সক্ষমতা হ্রাস করছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান দুর্বল করছে।’

সভায় গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, নীতিগত অগ্রাধিকার নিশ্চিত করাসহ গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যখাতের গবেষণায় শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৫–২৬) ছাত্র অনুদানের জন্য রেকর্ডসংখ্যক ৫৮২টি আবেদন জমা পড়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৫০।

একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে গবেষক অনুদানের ক্ষেত্রেও। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৭১১টি আবেদন জমা পড়েছে, যা আগের বছরের (৩০৬টি) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ডা. সায়েবা বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, অনুদান প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং সামগ্রিকভাবে গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফলেই এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে দেশে আরও মানসম্মত গবেষণা প্রত্যাশিত।’

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের দায়িত্বে) মাহবুব আলম এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

স্টারলিংক নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-ভারত, পালটাপালটি বার্তা

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর পথে কারা বাধা দিচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ইলন মাস্ক। বুধবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্পেসএক্সের কর্ণধার অভিযোগ করেন, কিছু ‘অলিগার্ক’ বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসায়িক আধিপত্য ধরে রাখতে ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

তবে মাস্কের অভিযোগের পরই বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারত সরকার তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য ভারতে একটি ‘ন্যায্য ও বৈষম্যহীন’ অনুমোদন কাঠামো রয়েছে।

সম্প্রতি ইলন মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু ‘অলিগার্ক’ নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে।

তবে ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে না। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।

ভারতে ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জিএমপিসিএস—গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট—লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক, ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের মালিকানাধীন জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। এ ছাড়া জেফ বেজোসের অ্যামাজন লিও-ও লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, লাইসেন্সধারী সব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের এই প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা পরবর্তী ধাপে স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবে।

স্টারলিংক এক বছরেরও বেশি আগে ভারতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেলেও এখনো দেশটিতে বাণিজ্যিক সেবা শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তবে ভারতের দাবি, লাইসেন্স পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে প্রায় একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে স্টারলিংককে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এর আগে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিজনেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার বলেন, ভারতে সেবা চালুর জন্য প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করেছে।

তিনি জানান, ভারতের জন্য ২০টি গেটওয়ে সাইট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শত শত অ্যান্টেনা রয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত মেনে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশটির ভেতরেই রাখার ব্যবস্থাও করেছে স্টারলিংক।

ফলে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী প্রক্রিয়া।